The first 200 lines.
এ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ
এইযে আমি।
আমি এলেক্স ; সাথে আমার ৩ জিগরিদোস্ত (গ্যাংয়ের সদস্য)।
এরা হলো পিট, জর্জি ও ডিম।
আমরা বসেছিলাম কোরোভা মিল্কবারে, আর প্ল্যান করছিলাম সন্ধ্যাটা কীভাবে কাটাবো।
কোরোভা মিল্কবারে দুধ বিক্রি হতো।
তাতে মেশানো থাকতো হরেকরকমের নেশাবস্তু...
...সেই দুধই তৃপ্তিভরে গিলছিলাম আমরা।
এই দুধ আমাদের মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতা বাড়াতো...
...এবং আমাদেরকে সীমা-ছাড়ানো পাশবিকতার উদ্দীপনা যোগাতো।
ডাবলিনের এই শহর সুন্দর,
যেখানে বালিকাদের দেখে জুড়ে যায় চোখ ,
প্রথমে আমার নজর যায়
মলি ম্যালোন নামের মিষ্টি ললনায়
আর যখন সে ঠেলে তার ঠেলাগাড়ি
যায় প্রশস্ত ও সরু রাস্তা দিয়ে বাড়ি
আর গায়, ''শামুক আর ঝিনুক..."
একটা জিনিস কখনই সহ্য হত না আমার...
...যখন দেখতাম এক খাইশটা মাতাল বুড়ো...
...মান্ধাতা আমলের বাল-মার্কা গান গেয়ে বিলাপ করে...
...আর হুট হুাট করে চিৎকার করে ওঠে...
...ভাব এমন যেন তার মত ফইন্নির কারণে সঙ্গীতের পুরনো ঐতিহ্য নতুনরূপে ডানা মেলবে।
এমন খাটাশ আমার বরাবরই অসহ্য লাগে, যতই তার বয়স হোক।
বিশেষ করে তখন, যখন কেউ এইরকম ষোল আনা বুড়ো হয়।
আমারে কিছু টাকা দিবেন, ভায়েরা?
যা করবি কর, শালার ভীতুর ডিমগুলান ! এমনিতেই আমার বাঁচার কোনো ইচ্ছা নেই।
এমন যন্ত্রণাময় পৃথিবীতে তো নয়ই।
এত যন্ত্রণা কীসের দাদুভাই?
এই পৃথিবী যন্ত্রণাময় কারণ এখানে আর আইন-শৃঙ্খলা নেই !
কারণ এখানে তোমাদের মত সবলরা দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে !
আজকের পৃথিবীতে আমার মত বুড়োদের ঠাই নেই।
এ আবার কেমন পৃথিবী?
মানুষ চাঁদে পা রাখছে।
পৃথিবীর চারদিকে চক্কর লাগাচ্ছে।
অথচ পার্থিব আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় কারও ভ্রুক্ষেপও নাই।
ওহ, আমার দেশ,
আমি লড়েছি তোমার জন্য
একটা পরিত্যক্ত ক্যাসিনোতে আমরা দেখা পেলাম বিলি ও তার ৪ জিগরিদোস্তের।
তারা সেখানে এক অসহায়, ক্রন্দনরত তরুণীর সাথে মস্তি করতে যাচ্ছিল।
মোটকু, খাইশটা, বাল-পাকনা প্রতিবন্ধী বিলি খোকা !
কেমন আছিস তোরা...
...হতচ্ছাড়া খবিশের দল?
যদি তোদের একজনেরও বিচি থেকে থাকে, এসে আমাদের বিচিতে লাথি মেরে দেখা !
...শালার কাপুরুষের দল !
চল ওদের খেলে দিই, মামুরা !
পুলিশ !
জলদি, এখান থেকে ভাগো !
গাড়িতে চড়ামাত্র এক অপূর্ণ শিহরণ ভর করলো।
মনের ভিতর কী যে দারুণ, ফুরফুরে অনুভূতি হচ্ছে !
একটু পরেই আমরা প্রবেশ করি গাছগাছালিতে ঘেরা গাঢ় অন্ধকার এলাকায়।
সেই রাতে আমরা রাস্তার জানোয়ারদের মত পথযাত্রীদের সাথে কিছুক্ষণ ''দুষ্টামি'' করলাম...
এরপর পশ্চিমের দিক রওনা হলাম।
আমাদের লক্ষ্য ছিল একদল মানুষকে চমকে দেয়া।
এটাই সবচেয়ে উত্তেজনার মুহূর্ত...
...আমাদের বিনুদুনের উৎস এবং সীমা-ছাড়ানো পাশবিকতা দেখানোর সুবর্ণ সুযোগ।
এই সময়ে আবার কে আসল?
আমি যেয়ে দেখছি।
হ্যাঁ, কে বলছেন?
অনুগ্রহপূর্বক আমাদের সাহায্য করবেন? ভয়াবহ একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে !
আমার বন্ধুর রক্তপাত থামছেই না ! অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে টেলিফোনটা ব্যবহার করা যাবে?
আমাদের এখানে টেলিফোন নেই। অন্য কোথাও গিয়ে চেষ্টা করুন।
কিন্তু ম্যাডাম, আমার বন্ধুটা মৃত্যুর সাথে লড়ছে !
কে এসেছে, সোনা?
জোয়ানমতো একটা ছেলে ; বলছে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আমাদের টেলিফোন ব্যবহার করতে চায়।
ভিতরে আসতে দাও তাহলে।
এক মিনিট দাঁড়াবেন কি?
দুঃখিত, আমরা সাধারণত অপরিচিতদের এভাবে বাড়ির ভিতর ঢুকতে দিইনা--
কী চাও তোমরা আমার কাছে?
পিট, বাড়ির অবশিষ্টাংশ চেক করো। ডিম...
বৃষ্টির মধ্যে গাইছি গান
বৃষ্টির মধ্যে গেয়েই চলেছি গান
কি দারুণ অনুভূতি !
মনটা আবার ভালো হয়ে গেছে আমার
মেঘ দেখে হাসছি আমি
এত কালো লাগছে দেখতে এখান থেকে
মনটা উড়ুউড়ু করছে আমার
ভালোবাসার ইচ্ছা জেগেছে মনে
ঝরো মেঘগুলো পিছু করুক আমাদের
যে যেখানে আছে সবার
বৃষ্টি এসে পড়ুক আমার গায়ে
আমার ঠোঁটের কোণে লেগে আছে হাসি
সরু গলি দিয়ে হেঁটে যাবো আমি
আনন্দের বুলি গাইতে গাইতে
আর আমি গাইছি
বৃষ্টির মধ্যে কেবল গেয়েই চলেছি গান
বৃষ্টির মধ্যে গাইছি গান
বৃষ্টির মধ্যে কেবল গেয়েই চলেছি গান
কি দারুণ অনুভূতি !
মনটা আবার ভালো হয়ে গেছে আমার
মেঘ দেখে হাসছি আমি
এত কালো লাগছে দেখতে এখান থেকে
মনটা উড়ুউড়ু করছে আমার
ভালোবাসার ইচ্ছা জেগেছে মনে
ঝরো মেঘগুলো পিছু করুক আমাদের
যে যেখানে আছে সবার
বৃষ্টি এসে পড়ুক আমার গায়ে
আমার ঠোঁটের কোণে লেগে আছে হাসি
সরু গলি দিয়ে হেঁটে যাবো আমি
আনন্দের বুলি গাইতে গাইতে
আর আমি গাইছি
বৃষ্টির মধ্যে কেবল গেয়েই চলেছি গান
ভালো করে দেখো, ভায়া।
ভালো করে দেখো।
আমরা সবাই একটু টাল, ক্লান্ত আর বিরক্ত বোধ করছিলাম...
...কেননা সারাটা সন্ধ্যা অনেক পরিশ্রম হয়েছে আমাদের, ভায়েরা আমার।
তাই আমরা অটো থেকে নামি আর কোরোভা মিল্কবারে দুধ খাওয়ার জন্য থামি।
হ্যালো, লুসি।
আজ রাত অনেক ব্যস্ত ছিলে?
আমরাও অনেক পরিশ্রম করেছি।
দুঃখিত, লুসি।
কোনার দিকে টিভি স্টুডিওর কিছু উচ্চমার্গীয় পাবলিক বসেছিল...
...কেলাচ্ছিল আর প্যানপ্যান করছিল।
অল্পবয়স্ক মেয়েটা হেসেই গেল, দুনিয়াদারির তোয়াক্কা না করেই।
এরপর স্টেরিওর ডিস্কটা বাজতে শুরু করল।
আর পরবর্তীটা বাজার অল্পক্ষণ আগেই...
...হুট করে শালী গান গাওয়া শুরু করে।
আর গানটা শুনে আমার কেমন লাগছিল, জানতে চাও ভায়েরা?
যেন এক মিষ্টি পাখি মিল্কবারটাকে সুরের জোয়ারে ভাসাচ্ছে।
আর মনে হলো যেন আমার শরীরের পুচকি পাচকা সব লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
আর সেই শিহরণ ঝিমধরা ছোট্ট টিকটিকির মত আমার শরীরে দানা বাঁধে...
...তারপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
কারণ আমি জানতাম সে কী গাচ্ছে।
গানটা ছিল লুডউইগ ভ্যানের ''নাইন্থ সিম্ফোনি'' নামক চমৎকার অ্যালবামের।
মারলা ক্যান?
সব আদবকায়দা বিসর্জন দিয়ে বেয়াদপি করার জন্যে।
ভদ্রলোকদের সামনে কেমন আচরণ করতে হয় তার বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই তোমার, ভায়া।
কী করবো না করবো সেটা তোমার না শেখালেও চলবে।
আমি আর তোমার ভায়াটা নেই আর সেটা হওয়ার ইচ্ছারেও গুলি মারি।
মুখ সামলায়ে।
মুখ সামলায়ে কথা বলো, যদি তোমার জান পেয়ারা হয়।
বিচি !
বড়বড় লাফানো বিচি মারি তোমারে !
তোমার কপালে যেকোনো সময় ছুরি-কাঁচি-বেড়ি জুটতে পারে।
বেহুদা তোমার তীক্ষ্ণ জবান আমাকে শুনাবে না।
আমার কামড়ায় না যে সমসময় তোমার ইশারায় নাচবো।
যেকোনো মুহূর্তে তুমি তোমার শনি ডেকে বসবে।
বেশ তাহলে।
একটু ক্লান্ত হয়ে গেছি বোধ হয়।
কথা আর না বাড়ানোই ভালো।
ঘুমাবার সময় হয়ে গেছে।
তাই ভালো হয় আমরা যার যার বাড়ি যাই আর একটু ঘুমিয়ে নিই।
ঠিক, ঠিক?
- ঠিক, ঠিক। - ঠিক, ঠিক।
আমি থাকতাম আমার বাবা-মায়ের সাথে...
...লিনিয়ার নর্থের মিউনিসিপাল ফ্লাটের ১৮-ক ব্লকে।
সন্ধ্যাটা দারুণ কাটল।
এখন এই সন্ধ্যার পরিপূর্ণ সমাপ্তির জন্য আমার কেবল দরকার...
...আমার জানপাখি লুডউইগ ভ্যানের সুরেলা গান।
ওহ্, কি শান্তি !
শান্তিতে পরিপূর্ণ আমার সুখের স্বর্গ !
সে যেন কমনীয়তা ও মনোমুগ্ধতায় পূর্ণ এক অপার্থিব মানব।
সেই মুহূর্তে যেন স্বর্গের বিরলতম ধাতুর পাখি...
কিংবা মহাকাশযানে প্রবাহিত জমজমতুল্য শরাব...
...কিংবা অভিকর্ষ, সবই বাকওয়াস ঠেকছিল।
যখন আমি শোনা শুরু করি...
...আমার চোখের সামনে ভাসতে থাকে মনোরম সব দৃশ্য।
অ্যালেক্স। অ্যালেক্স !
অ্যালেক্স। অ্যালেক্স !
কী চাই?
আটটা বেজে গেছে, অ্যালেক্স।
স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে, খোকা।
মাথাব্যথা করছে , মা।
একটু ঘুমাতে দাও, ঘুমালে মাথাব্যথাটা একটু কমবে নে।
তারপর দেখে নে, তোমার সোনার ছেলে আবার চাঙ্গা হয়ে যাবে।
কিন্তু তুমি সারাটা সপ্তাহ স্কুল যাওনি, খোকা।
ভালোমতো বিশ্রাম নিতে হবে, মা।
নিজেকে চাঙ্গা করতে হবে।
নাহলে আরও বহুত স্কুল কামাই যাবে।
তোমার নাশতা তাহলে ওভেনে রেখে দিচ্ছি। আমার কাজে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে।
ঠিক আছে , মা। ফ্যাক্টরিতে ভালোমতো কাজ করো।
আজ সকালেও তার শরীরটা খারাপ লাগছে, অ্যালেক্সের আব্বু।
হ্যাঁ, শুনলাম তো।
কাল রাতে কখন বাসায় ফিরেছে জানো?
না, জানি না। ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
ছেলেটা প্রতি সন্ধ্যা কোথায় যায়, কী করে, ঈশ্বরই জানেন।
ও তো বলে...
...ওর নাকি কীসব অদ্ভুত কাজবাজ করতে হয়।
টুকটাক সাহায্য-টাহায্য, এরকম কিছু একটা।
হাই, মি. ডেল্টয়েড।
আপনাকে হঠাৎ এখানে দেখে অবাক লাগছে।
অ্যালেক্স ! শেষমেশ জনাবের ঘুম ভেঙ্গেছে তাহলে, না?
তোমার মায়ের সাথে পথে দেখা হয়েছিল, জানো?
আমাকে বাসার চাবি দিয়েছে।
বলল তোমার নাকি কোথায় ব্যথা করছে।
যার কারণে আবারও স্কুল কামাই, না?
আসলে মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, স্যার।
বিকালের মধ্যেই মনে হয় ঠিক হয়ে যাবে।
অথবা ''সন্ধ্যার'' মধ্যে, না?
সন্ধ্যার সময়টা দারুণ, না, অ্যালেক্স?
- চা খাবেন, স্যার? - আরে না না।
বসো, বসো, বসো !
আমার প্রতি এত দরদের কারণটা কী, স্যার?
কোনো সমস্যা হয়েছে, স্যার?
সমস্যা? সমস্যার কথা তোমার মাথায় আবার কেন আসলো?
তুমি কি ''অনুচিত'' কিছু করেছ?
কথার কথা।
হ্যাঁ, অবশ্যই, তোমার এই অবেক্ষণ-কর্মকর্তাও তোমাকে একটি কথার কথা শোনাতে চায় যে ...
...এখন থেকে যা করার সাবধানে করবে, অ্যালেক্স খোকা।
কারণ পরেরবার সংশোধন কেন্দ্র নয়,
No comments yet. Be the first to leave one.