The first 200 lines.
•.•.•.অনুবাদ ও সম্পাদনায়.•.•.• সুশান্ত চক্রবর্তী সৌমিক
স্যার...স্যার।
আমার স্ত্রী...সে নিখোঁজ।
সে আমার সাথে কারের মধ্যেই ছিলো।
এখন আর খুঁজে পাচ্ছি না!
আপনার নাম কী, স্যার? আমাকে বলুন তো।
লুক...লুক এন্টোনি।
ঠিক আছে।
আসলে হয়েছিলোটা কী?
যখন আমরা পাহাড়ের দিকে যাচ্ছিলাম...
আমি ভুল পথ নিয়ে নিই।
নিশ্চিত না আসলে কী হয়েছিলো, কিন্তু আমদের কারের দূর্ঘটনা ঘটে।
আমার মাথা কিছু একটার সাথে আঘাত পায় এবং...
আমি...
আমি কিছু সময়ের জন্য অজ্ঞান ছিলাম।
যখন আমার জ্ঞান আসে,
সোফি... কারের মধ্যে ছিলো না।
আমি চারদিক খুঁজলাম,
কিন্তু খুঁজে পেলাম না।
সোফি...
সোফিয়া লুক।
এটাই তার নাম।
স্যার...
এই জায়গায় চিতা আছে এরকম শোনা যায়, তাই না?
সে গর্ভবতী ছিলো।
ওই পাথরের মধ্যে দেখো।
আর জলের মধ্যেও।
স্যার, আমরা বনের মধ্যেও দেখবো নাকি?
হ্যাঁ, সামনে এগোও।
সোফি... সোফি!
আশরাফ, এদিকে একবার দেখো তো।
- এটা কী... - একটা জুতা!
- কোথায়? - এখানে।
ওনার এখানেই কোথাও থাকা উচিত।
আরো একটু যাও আর খুঁজে দেখো।
স্যার, কী বললেন আপনি?
- এখানে আসো... আমরা একটা জুতা পেয়েছি। - আচ্ছা, আসছি।
কখনো কখনো শুধু ঈশ্বরই জানেন কোন উপায়ে ভাগ্য আসবে।
হেই...উনি এখানেই কাছে কোথাও হবেন।
হেই বালু... এখানে আসো।
তুমি এদিকে দেখো।
খুঁজতে থাকো... তাড়াতাড়ি!
সবাই! সামনো এগোতে থাকো।
সেদিন, পুলিশ এবং গ্রামের মানুষ সবাই পুরো বন খুঁজে দেখলো।
ওনাকে খুঁজে পাওয়া গেলো না।
পরের দিন, গ্রামের অনেকেই আর আসলো না।
দুইদিন পর, আর কেউই বনে খুঁজতে আসলো না।
পুলিশও হাঁপিয়ে গেলো।
একটাই প্রশ্ন মনে আসতে থাকে হয়তো কোনো বাঘ বা চিতা ওনাকে খেয়ে ফেলেছে।
সবাই নিশ্চিত ছিলো ওনাকে আর পাওয়া যাবে না।
কিন্তু কে কী বললো না বললো ওনার কোনো কিছুতেই যায় আসতো না।
উনি কাউকেই বিশ্বাস করতেন না।
তিনি নিশ্চিত ছিলেন ওনাকে খুঁজে পাবেন।
এবং ওনাকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত জায়গা ছেড়ে যাবেন না।
RORSCHACH
রশক
সত্যি করে একটা কথা বলবো, স্যার?
যেহেতু কয়েক মাসের বেশি হয়ে গেছে,
আমার মনে হয় না আর ওনাকে আমরা খুঁজে পাবো।
আপনার এখন এই নদীর তীরের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।
আমরা আপনার জন্য একটা ভালো বাসা খুঁজে দিবো।
আর আপনি সেখানে মশা-মাছি ছাড়া আরামে ঘুমামাতেও পারবেন।
ব্যাপারটা দেখতে এরকম মনে হচ্ছে যেনো আপনি আমাদের বিদ্রুপ করছেন।
লোকজন ইতিমধ্যেই অনেক কিছু বলা শুরু করে দিয়েছে...
যেমন বলছে পুলিশ ভালোভাবে কাজ করতে পারে না।
তাই, দয়াকরে আমাদের আর ঝামেলার মধ্যে ফেলবে না।
স্যার, আপনি সিগারেট বা মদ খান না?
এখন আর খাই না।
তাহলে... আগে খেয়েছেন!
এখন আবার শুরু করার সঠিক সময়।
কয়েক পেগ খেয়ে নিন আর শান্তিভরে ঘুমিয়ে পড়ুন।
আমি জানি বালান... এজন্যই তো মদ খাওয়া ছাড়লাম।
তুমি যেমনটা বললে যদি বেশি খেয়ে ফেলি আর কিছু বলতে না পারি?
এবং তখনই যদি সে চলে আসে?
তাহলে সে খুব দুঃখ পাবে।
একবার তো সেরকম হয়েই গেলো।
আর এরকমটা হওয়া উচিত হবে না।
স্যার আপনি হতাশ হবেন না। উনি নিশ্চয়ই ফিরে আসবেন।
আমরা প্রায়ই এরকম খবর শুনে থাকি।
"একজন পাঁচ বছর নিখুঁজ থাকার পর ফিরে এসেছে।"
"নিখুঁজ ব্যাক্তিকে ১০ বছর পর অন্য জায়গায় খুঁজে পাওয়া গেছে।"
এটাও সেরকমই। উনি ফিরে আসবেন।
বাপরে!
স্যার...
আপনারা ওনাকে কেনো আটক করলেন?
- আমি মদ খাচ্ছিলাম। এই স্যার খাননি! - বস!
তাঁবু টাঙিয়ে বসে মদ খাওয়া, থাকা... এ জায়গাকে নিজের বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন!
এটা জনগণের জায়গা। কারো নিজস্ব সম্পত্তি নয়!
আমরা যদি আপনাকে আবার সেখানে দেখি...
আশরাফ... দেখবে, তারা যেনো এখানেই বসে থাকে। সকাল হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের যেতে দেবে না।
কখনো কখনো শুধু ঈশ্বরই জানেন কোন উপায়ে ভাগ্য আসবে।
শুধু সঠিক সময়া সঠিক জায়গায় থাকা প্রয়োজন।
স্যার... আসুন।
গাড়ি চালু করো।
আমি ওনার মেয়ের জামাই, স্যার। শশাঙ্ক।
যদিও আমাদের আগে দেখা হয়নি। উনি আমাকে নিয়ে লজ্জা করেন।
- হ্যালো! - গাড়ি চালানোর সময় সামনে তাকাবে!
আমরা যাচ্ছিটা কোথায়? অনেকক্ষণ ধরে আমি সামনে তাকিয়েই আছি।
পুলিশদের বলার পয়েন্ট আছে, স্যার।
যদি এটা আপনার নিজের জায়গা হতো, কেউ আপনাকে এখান থেকে বের করে দিতো না।
গতকাল সন্ধ্যায় যা ঘটলো তা হতো না।
এটা আমার ছেলের বাড়ি।
আমার বড় ছেলে দিলীপের বাড়ি...
ঘড়ের কাজ শেষ করার আগেই সে দূর্ঘটনায় মারা যায়।
আমিও এরপর আর কিছু করতে পারিনি।
অনেকের এই জায়গার উপর নজর আছে। কিন্তু আমি বলেছি বিক্রি করবো না।
আপনি এটা নিয়ে নিন।
আপনার যা মন চায় আমাকে তা দিয়ে দেন।
আমার জন্য আপনি জেলে রাত কাটিয়েছেন।
এতে আমার খুব খারাপ লেগেছে।
আপনি এটা বিক্রি করে দিচ্ছেন? আর এর সিদ্ধান্তও আপনি নিজেই নিয়ে নিচ্ছেন?
আর কে সিদ্ধান্ত নিবে? এটা আমার সম্পত্তি।
এটা আমার নামে আছে।
- নিজের সন্তানদের জিজ্ঞেস করতে চান না? - আমার কোনো বালকে জিজ্ঞেস করার দরকার নেই!
আমি তাদের নিজেদের সব ভাগ দিয়ে দিয়েছি।
তুমি নিজের চরকায় তেল দাও।
চলুন ভিতরে গিয়ে দেখা যাক।
অনিল বাবা, তোর খাবার দিয়ে দিবো?
হ্যাঁ, মা। এক মিনিট, আসছি।
এটাই আমদের শেষ দেখা।
আমি আর এখানে ফিরে আসবো না। আমার কথা মিলিয়ে নিবি।
আপনাকে দেখে একজন নির্দোষ ব্যাক্তি মনে হয়।
সবাই আপনার বিরুদ্ধে।
যখন থেকে দিলীপ এই ঘরের কাজ শুরু করেছিলো...
একটা না একটা ঝামেলা লেগেই থাকতো।
সে সব কিছুতেই একটা না একটা বাধা পেতোই, তা সে যা কিছুই করুক না কেনো।
শেষ পর্যন্ত একদিন বাড়িতে ফিরে আসার সময় তার দূর্ঘটনা ঘটে যায়।
সত্যি!
এখানকার সবাই জানে।
যখন থেকেই আমার শালা মারা যায় এই লোক এই জায়গা বিক্রি করার চেষ্টা করেছিলো।
বলুন তো যে মানুষ বুদ্ধিমান সে কী বাড়িটা কিনতে চাইবে?
আমি জানি না আপনি আমার উপর বিশ্বাস করবেন কি না...
ওই বাড়িটা আমার শালার অনেক লালিত স্বপ্নের ছিলো।
আপনি কি মনে করেন যে সে মারা যাওয়ার সাথে সাথেই বাড়ি ছেড়ে দিবে?
মানুষরা তাকে আশেপাশেই দেখেছে।
এমনকি আমিও রাতের বেলা কিছু শব্দ শুনেছি।
ওহ... স্যার... আমি মিথ্যা বলছি না!
সত্যি!
ও এখানে কী করছে?
স্যার... সব ডকুমেন্ট এখানে আছে।
ওহ। এটা তোমার জন্য বালান।
- ঠিক আছে। - এটা খোলো তো, শশাঙ্ক।
হিসাব করবে না, বালান?
প্রয়োজন নেই। আপনার উপর আমার বিশ্বাস আছে।
স্যার, আমি গেলাম। পরে দেখা হবে!
দেখা করবে তো?
আর কেনো আমাদের দেখা হবে ? বালান ভালোর জন্য চললো।
বিদায়!
আর আমার এখানে আছেই বা কে?
যারা ছিলো তারা মারা গিয়েছে।
যখন আমার বড় ছেলে দুবাই থেকে ফিরে এসেছে,
তখন থেকে কেউ আমার কোনো খবর রাখে না।
কেউ আমাকে চায় না। না আমার স্ত্রী আর না আমার বাচ্চারা।
আমি তাদের জন্য কুকুরের মতো ছিলাম!
আমি তো এসব বলতে চাচ্ছিলাম না।
তবুও কি আর করবো, বলছি।
আমি আমার পুরো জীবন যা আয় করেছিলাম সবকিছু আমার ছেলে এবং মেয়ের উপর খরচ করে দিয়েছি।
কিন্তু এখান থেকে... তাদের একটা কড়িও দিবো না।
এগুলো হলো আমার অবসর গ্রহনের টাকা।
এই পরিবার থেকে অবসর গ্রহনের টাকা।
যারা আমকে গ্রাহ্য করে না আমিও তাদের গ্রাহ্য করি না।
আমি বলছি না যে তীর্থযাত্রায় চলে যাবো।
আমি ভালো এবং মহৎ ভাবে জীবন কাটাবো।
সত্যি বলতে, আমি যে লুক এর সাথে বেঈমানী করলাম এজন্য খারাপই লাগছে।
লুক খুবই ভালো মানুষ।
তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।
যদি আমি আগে জানতাম যে তিনি টাকা আনতে যাচ্ছেন,
আমি ওনাকে একা পাঠাতামই না।
কত টাকা ছিলো?
আমি আসলে ঠিক জানি না, স্যার।
তিনি আমাদের এসব বলেননি।
৪৫... শশাঙ্ক বললো আমাদের। লাখ।
ওহ... তাহলে তো অনেক।
হুম।
কিন্তু আপনি তো বালান বাবুকে জানেনই... কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি করবে তারপর ঠিকই চলে আসবেন।
বাবা সেগুলো সাথে করেই নিয়ে গেছেন, স্যার।
সত্যি?
তুমি সেরকম মনে করছো কেনো?
আরেকজন মহিলা ছিলো...
ওনার... তার সাথে সম্পর্ক ছিলো।
এমনকি আমার মা'ও সেটা জানতেন।
এই টাকায় আমার ছেলের অধিকার আছে, স্যার।
স্যার! আপনি কেনো বুঝতে পারছেন না?
সে এখানে কিছুই রাখেনি।
স্যার...
আমি বালানের লাশ পেয়েছি।
কিন্তু তার টাকা গোল্লায় গেছে। সেগুলো এখানে নেই।
মা, তুমি সবাইকে এই সমস্যার মধ্যে ফেলছো।
তারা তাদের মজুরীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে।
প্রত্যেকেরই এটার প্রয়োজন।
কয়েক মাসই তো হয়ে গেলো তারা তাদের মজুরী পেয়েছিলো।
বাবু ভাই, মাত্র একটা লোডই বাকি ডেলিভারির।
সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ।
আমি যতটুকু পারবো পরিশোধ করে দিবো। বাকি গুলো...
একটা লোড দিয়ে আর কী হয়ে যাবে?
শোনো, তোমার দ্বারা যদি না হয় ঠিক আছে, ভালো। করো না।
অন্যদের এভাবে অসুবিধায় ফেলো না।
যখন দিলীপ এই ব্যবসায় ছিলো তখন এটা খুব ভালো চলছিলো।
আমি আপনার সাথে একা কথা বলতে চাই বাবু ভাই।
মুরালি, আমাদের একটু সময় দে।
No comments yet. Be the first to leave one.