The first 200 lines.
অ নু বা দ ক : মে হে রা ব হো সে ন
ওস্তাদ।
আমি দেখতে পাচ্ছি, তোমার প্রতিভা তোমার শারীরিক গন্ডিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
তোমার দক্ষতা ও নৈপুণ্য এখন আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
আমার কিছু প্রশ্ন আছে : সর্বোচ্চ কোন কৌশলটি তুমি অর্জন করতে চাও?
- কোনো কৌশল না থাকার কৌশল। - অতি উত্তম।
একজন শত্রুকে মোকাবেলা করার সময় তোমার মাথায় কী চিন্তা থাকে?
শত্রু বলে কেউ নেই।
আর তার কারণটা কী?
কারণ "আমি" নামে কোনো শব্দের অস্তিত্ব নেই।
তো, বলতে থাকো।
একটা ভালো লড়াই হওয়া উচিত...
...একটা ছোটখাটো খেলার মতো, কিন্তু খেলা উচিত গুরুত্বের সাথে।
একজন ভালো মার্শাল আর্টিস্ট কখনো উত্তেজিত হয় না, বরং সর্বদা প্রস্তুত থাকে।
সে কখনো বিচলিত হয় না, আবার দিবাস্বপ্নেও বিভোর হয়ে থাকে না।
সামনে যা-ই আসুক না কেন, সে সদা প্রস্তুত থাকে।
যখন প্রতিপক্ষ নিজেকে ছড়িয়ে ফেলে, তখন আমি নিজেকে গুটিয়ে নেই।
আর যখন সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তখন আমি নিজেকে ছড়িয়ে ফেলি।
আর যখন সুযোগ থাকে...
...তখন আমি আঘাত করি না।
এটা নিজে নিজেই আঘাত করে।
শোনো, একটা কথা সবসময় মনে রেখো...
...শত্রুর কাছে শুধুমাত্র ছায়া এবং বিভ্রম থাকে...
...যার আড়ালে সে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য লুকিয়ে রাখে।
ছায়াটাকে ধ্বংস করো, শত্রুও ধ্বংস হয়ে যাবে।
হাত একটি শক্তিশালী হাতিয়ার...
...যেসব মার্শাল আর্টিস্ট তাদের সংকল্প ত্যাগ করে, তারা অতি সহজেই হাতের অপব্যবহার করে।
বহু শতাব্দী ধরে, শাওলিন মন্দিরের নিয়মাবলী সংরক্ষিত হয়ে আসছে।
মনে রেখো, আমাদের সম্প্রদায়ের মর্যাদা রক্ষিত হয়ে আসছে।
এখন আমাকে বলো, শাওলিন বিধি নং ১৩ কী ছিলো।
"একজন মার্শাল আর্টিস্টকে তার নিজের দায়িত্ব নিতে হবে...
...এবং তার স্বীয় কর্মের পরিণাম মেনে নিতে হবে।"
তোমাকে এ কথাটা বলতে আমি লজ্জাবোধ করছি...
...যে যতজন শাওলিন শিষ্যকে আমি শিক্ষা দিয়েছি...
...তাদের মধ্যে একজন আছে, যে তার স্বীয় নীচ উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে...
...জ্ঞান ও শক্তির মোড় ঘুরিয়ে নিয়েছে।
যেগুলোকে আমরা পবিত্র হিসেবে গণ্য করি, সেগুলোকে সে কলুষিত করেছে।
তার নাম হলো - হান।
আমাদের সকল বিশ্বাসকে সরাসরি উপেক্ষা করে...
...সে এই শাওলিন মন্দিরকে লাঞ্ছিত করেছে।
তাই আমাদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমি তোমাকে অর্পণ করছি।
জি। বুঝতে পেরেছি।
এক ব্যক্তি এখানে এসেছেন। তুমি তার কাছে যাবে।
হ্যালো, মিস্টার লি। আমার নাম ব্রেইথওয়েট।
হ্যালো, মি. ব্রেইথওয়েট।
আমি আপনার সাথে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে এসেছি।
- চা খাবেন? - হ্যাঁ, অবশ্যই।
পরিবেশটা বেশ মনোরম।
মি. লি, আমি একটি মার্শাল আর্টের প্রতিযোগিতার ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি।
আপনি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
নির্দিষ্ট করে বললে, মি. হান এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছেন।
- হানের প্রতিযোগিতা। - জানি, আমি জানি।
কিন্তু মি. লি, আমরা চাচ্ছি আপনি এই বিশেষ প্রতিযোগিতাটিতে অংশ নিন।
"আমরা", মি. ব্রেইথওয়েট?
এখন লাও-কে শেখাবার সময়।
হ্যাঁ, অবশ্যই।
আমাকে লাথি মারো।
ওটা কী ছিল? প্রদর্শনী নাকি?
আমাদের প্রয়োজন অনুভূতির সন্তুষ্টি।
আবার চেষ্টা করো।
আমি অনুভূতির সন্তুষ্টির কথা বলেছি, ক্রোধের কথা বলিনি।
আবার চেষ্টা করো। এবার আমার সাথে।
এইতো হয়েছে।
অনুভূতিটা কেমন ছিল?
দাঁড়ান, ভেবে নিই...
ভেবো না। অনুভব করো।
এটা অনেকটা এরকম যেন একটা আঙ্গুল চাঁদ পর্যন্ত একটা পথকে নির্দেশ করছে।
আঙ্গুলটার ওপর মনোযোগ দিয়ো না...
...নইলে তুমি সেই স্বর্গীয় সুখগুলো হারিয়ে ফেলবে।
বুঝতে পেরেছো?
কখনো প্রতিপক্ষের ওপর থেকে নজর সরাবে না, এমনকি ঝোঁকার সময়েও।
এইতো পেরেছো।
ঐ দেখো।
ও হলো হান। তার এই একটিমাত্র ভিডিও-ই আমাদের কাছে আছে।
আমরা জানি সে আপনার মন্দিরের একজন সদস্য ছিল।
সে ছিল একজন শাওলিন সন্ন্যাসী, এখন ধর্মত্যাগী।
ওর পেছনের লোকটা হলো ওহারা। ব্যক্তিগত দেহরক্ষী।
হানের দেহরক্ষী হিসেবে তার যেমন হওয়ার কথা, সে তেমনই - প্রচন্ড বলিষ্ঠ, নির্মম।
ওহারার শক্তিমত্তা প্রদর্শক একটি ভিডিও আমাদের কাছে আছে।
এখানে সবগুলোই সত্যিকারের ইট আর তক্তা ব্যবহৃত হয়েছে।
এই ভিডিওটি যখন ধারণ করা হয়, তখন ওর চেহারায় ক্ষতচিহ্নটা ছিল না।
এটা সেই জায়গাটা যেখানে আপনি যাবেন।
সত্যিই, যেন দ্বীপের ওপর অবস্থিত দুর্গ।
যুদ্ধের পরে, এই দ্বীপটির জাতীয়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
কিছু সময় পর, হান এই দ্বীপটাকে কিনে নেয়।
হানের সম্পর্কে আপনি কী কী জানেন?
ঐ দ্বীপটাতে সে রাজার হালে বাস করে।
সে পুরোপুরিভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
দেখে তো মনে হয়...
...যেটাকে সে তার "মার্শাল আর্টের স্কুল" নামে ডাকে, সেটার পেছনেই তার সকল প্রচেষ্টা লেগে থাকে।
বহির্বিশ্বের সঙ্গে হানের একমাত্র সংযোগ হলো এই প্রতিযোগিতা...
...যেটা সে প্রতি তিন বছর পরপর আয়োজন করে।
এ ছিল তার এক কর্মচারী, ম্যারি কিং, ওকে বন্দরে ভাসমান পাওয়া যায়।
যদিও বন্দরে লাশ খুঁজে পাওয়াটা তেমন অস্বাভাবিক কিছু না।
তবে মেয়েটিকে বিদেশে হানের ব্যক্তিগত জাহাজের এক পার্টিতে দেখা গিয়েছিলো।
ওরা লাশ খুঁজে পাওয়ার আগেই ওর হারিয়ে যাওয়ার খবর দিয়েছিলো।
আমাদের বিশ্বাস সে প্রথমে আকর্ষণীয় মেয়েদেরকে বাছাই করে...
...একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তাদেরকে মাদকের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে...
...তারপর বিশ্বের বিভিন্ন অভিজাত খরিদ্দারের কাছে বিক্রি করে দেয়।
ময়নাতদন্তে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে কী বলা হয়েছিলো?
- পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়নি। - মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনে?
হ্যাঁ। ওর মৃত্যুর কারণ ছিল অতিমাত্রায় হেরোইন সেবন।
ওর কার্যকলাপে বাধা দেয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ আপনাদের কাছে নেই।
তার ব্যাপারে সব জানলেও, আমরা কিছুই প্রমাণ করতে পারবো না।
আমরা চাই আপনি সেখানে আমাদের এজেন্ট হিসেবে যান।
- এবং আমাদেরকে প্রমাণ এনে দিন। - কাজটা করতে আপনি আমাকে একা পাঠাচ্ছেন।
আমরা আপনাকে আপনার প্রয়োজনমতো সব দেবো।
ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, অস্ত্র, বা অন্য যেকোনো কিছু।
- কিছু পান করবেন? - না, ধন্যবাদ।
হ্যাঁ, বন্দুক।
আচ্ছা, কেউ একটা ভারী বন্দুক নিয়ে সেখানে হানা দিলেই তো পারে?
না। বন্দুক চলবে না।
এই মানচিত্রের দিকে তাকাও।
তুমি জানো, এই এলাকায় নিজের কাছে অস্ত্র রাখাটা একটি গুরুতর অপরাধ।
হানের দ্বীপের কিছুটা অংশ আমাদের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত।
যদি আমাদের কাছে সামান্যতমও সংগত কারণ থাকতো, যে তার নিজস্ব অস্ত্রাগার আছে...
...তাহলে আমরা তাকে গ্রেফতার করতে লেগে পড়তাম।
তাছাড়া, হান কখনোই তার দ্বীপে বন্দুক নেওয়ার অনুমতি দেবে না।
এ নিয়ে তার একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, সে হত্যার শিকার হওয়াকে ভয় করে।
তাকে দোষও দেয়া যায় না। যেকোনো আহাম্মক গুলি করে বসতে পারে।
আমার ধারণা আমার কোনোকিছুর দরকার পড়বে না।
দ্বীপটাতে একটা রেডিও আছে। আমরা ওটাকে পর্যবেক্ষণ করবো...
...যাতে আপনি সেখানে পৌঁছুতে পারলে, আমরা সিগনাল শনাক্ত পারি।
আর তারপর আপনি আসবেন?
কেউ না কেউ আসবে।
আমরা কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এজেন্সি নই।
আমাদের কাজ হলো বিভিন্ন তথ্য, প্রমাণ সংগ্রহ করা।
যেটার ওপর ভিত্তি করে আগ্রহী সংস্থাগুলো পদক্ষেপ নিতে পারবে।
ও আচ্ছা। মানে কোনো বিপদ হলে আপনারা শুধু একটা ফোন করেন।
ওহ, আরেকটা কথা, দুই মাস আগে...
...আমরা দ্বীপটাতে একজন নারী এজেন্টকে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছি।
তারপর থেকে, তার সাথে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
যদি সে ওখানেই থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই তার কাছে সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকবে।
ওর নাম হলো মেই লিং।
- সত্যিই পান করবেন না? - না, ধন্যবাদ।
কিন্তু এখন সময় এসেছে তোমাকে অত্যন্ত কঠিন কিছু বলার।
তুমি হানের প্রতিযোগিতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছো, জেনে খুশি হয়েছি।
হ্যাঁ।
শেষবারে প্রতিযোগিতাটা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো তিন বছর আগে।
সেইসময়ে আমি তোমার বোনের সাথে শহরে ছিলাম।
আমি তো জানতাম না।
হ্যাঁ।
হানের অনেক সাঙ্গপাঙ্গ এসেছিলো দ্বীপ থেকে।
ওরা সবজায়গায় দাদাগিরি করে বেড়াচ্ছিলো।
আমরা শহরের দিকেই যাচ্ছিলাম।
পিছু হটো!
পালা! পালা!
এখনি!
এখন তুমি সত্যটা জেনে গেছো।
যখন তুমি শহরে পৌঁছাবে...
...তখন তোমার বোন আর মা-কে শ্রদ্ধা নিবেদন কোরো।
অবশ্যই করবো।
আমি যা করতে যাচ্ছি, সেটা তুমি মেনে নিবে না।
তুমি আমাকে যা শিখিয়েছো, আর সু লিন যেসবে বিশ্বাস করতো...
...সেসবকিছুর সম্পূর্ণ বিপরীত এটা।
আমাকে যেতে হবে।
দয়া করে, যেকোনোভাবেই হোক, আমাকে ক্ষমা কোরো।
দ্বিগুণ, নাকি কিছুই না?
তুমি প্রতি ফুটে প্রায় ১০০০ ডলার বাজি ধরছো, রোপার।
কেন নয়?
দুঃখিত, মি. রোপার এই মুহূর্তে নেই। আপনি কোনো বার্তা দিতে চান?
দারুণ একটা শট মেরেছো, মি. রোপার।
মাফ কোরো, বন্ধুরা।
- বলে রাখলাম, সে পারবে না। - কত টাকা বাজি?
লোকটা কিন্তু চরম।
তোমাকে ১৫ তারিখ, সোমবারের মধ্যেই ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার শোধ করতে হবে।
১ লাখ ৫০ হাজার।
তুমি সুদের কথা ভুলে যাচ্ছো।
- মনে হয় আমাকে ফ্রেডির সাথে কথা বলতে হবে। - তুমি কিন্তু ফায়দা নিচ্ছো, রোপার।
এরকম কোরো না, বন্ধুরা।
টাকাটা দিতেই হবে, রোপার, নইলে কিন্তু পরিণাম ভালো হবে না।
বুঝতে পেরেছো?
ফ্রেডি বলে যে এতেই তোমার ভালো হবে।
ঐ হংকংয়ের ফ্লাইটটা আমার নামে কনফার্ম করে দাও।
- ব্যাঙ্কে আমার আর কত টাকা বাকি আছে? - ৬৩ ডলার ৪৩ সেন্ট।
- সব তুমি রেখে দাও। - ধন্যবাদ।
- আমার ধারণা, তোমার দরকার পড়বে। - কত টাকা বাজি?
পরপর দু'বার আঘাত। শুরু করো...
ভ্রমণে বেরিয়েছিস, তাই না?
- দ্যাখ, এই চান্দুটার তো পাসপোর্টও আছে। - কোথায় যাচ্ছিস, চান্দু?
- বিমানের টিকেটটা কোথাকার? - হংকং এর, হাওয়াই এর পথ দিয়ে।
তুই হাওয়াই যেতে পারবি না।
দ্যাখ, ব্যাটা কী করার চেষ্টা করছে!
একজন পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা।
- কিরে, সৈনিক! - রোপার! কেমন আছিস, বন্ধু?
আমি কেমন আছি? তোকে দেখে খুশি হলাম, এমনই আছি।
- কত বছর পর দেখা হলো? পাঁচ...? - ছয় বছর।
- ছয় বছর। - যতটা মনে হচ্ছে আসলে তত বেশিদিনও হয়নি।
হ্যাঁ, জানি তুই কী বোঝাতে চাচ্ছিস।
- ভিয়েতনামের যুদ্ধের পর থেকে কী করছিস? - বসে থাকিনি, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেছি।
- এইসব জিনিসপত্র তোর? - হ্যাঁ, সবসময় সর্বোৎকৃষ্ট।
তুই সেই একই পুরনো রোপারই রয়ে গেলি।
এদিকে আয়।
- পার্সনস। - হ্যাঁ, নিউজিল্যান্ড থেকে এসেছে।
লোকটা বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক জোগাড় করছে।
ওকে চিনিস?
আগে কখনো দেখিনি।
এই হানের সম্বন্ধে তুই কী জানিস?
কিছু শুনেছি। সে নাকি শৌখিন জীবনযাপন করতে পছন্দ করে।
কিন্তু ওরা ওখানে শৌখিন জীবনযাপন করছে না।
No comments yet. Be the first to leave one.