The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় সঞ্চারী ইসলাম
দি গ্লোরি
১৭ অক্টোবর
বাতাসের কারণে কিছু শোনা যাচ্ছে না। কি বললে মাত্র?
মি. হা,আপনার স্ত্রীর বন্ধু, সন মিউং-ওহ, আপনার সাথে ফোনে কথা বলতে চাচ্ছে।
কে বললে? সন মিউং-ওহ ?
আহ, ধ্যেত…
কিচ্ছু মনে পড়ছে না। ড্রাগটায় আর কাজ হচ্ছে না।
কি যেনো ছিলো?
সন মিউং-ওহ
হ্যালো?
কি হয়েছে বল? আমি একটু ব্যস্ত আছি।
তুই এখন কোথায়? একটু দেখা করতাম। আমার বাড়িতে আসরে পারবি?
আমার সাথে একা দেখা করবি? কিন্তু কেনো?
তোর কাছে কিছু জিনিস দরকার ছিলো
আর কিছু নগদ টাকা লাগতো। তোর কাছে তো ডলার আছে, তাই না?
কিরে, শুনতে পাচ্ছিস?
ডলার লাগবে?
কত ডলার? চার ডলার?
কানের কাছে প্যানপ্যান না করে নিজের ব্যবস্থা নিজে গিয়ে কর।
বাহ, তুই তো দেখছি সত্যিই একটা মাগী।
কুত্তারবাচ্চা কি বললি আমাকে?
হ্যাঁ, বুঝেছি।
তোর বোধহয় সেদিনের কথা, মনে নেই?
তুই কুকুরের মত মেঝেতে শুয়ে গড়াচ্ছিলি।
আমি নিশ্চিয়ই তোকে একটা ভিডিও পাঠিয়ে উপহার করবো ।
আচ্ছা সত্যি করে বল তো, তুই সেদিন, কোথায় ছিলি?
যেদিন সো-হি মারা গেলো।
ওকে ছাদ থেকে পরে যেতে দেখেও, তুই পুলিশকে না ডেকেই পালিয়েছিলি?
কি বালছাল বলে যাচ্ছিস? পাগল হয়ে গেছিস নাকি?
আমি কেনো পুলিশকে ফোন করবো। আমি তো সেদিন নেশায় ছিলাম।
এখন ফোন রাখছি। অনেক ব্যস্ত। আমাকে বিরক্ত করা বন্ধ কর।
আরে,ও তো খুবই নির্লজ্জ। ছিঃ।
মর তুই।
১৮ অক্টোবর
হেঁচকা মুখো জ্যে-জুন
মি.জেওন,এখন কেমন অনুভব হচ্ছে?
নিজের পোষা কুকুরের কামড় খাওয়ার পর কেমন লাগে, দেখেছেন?
শালা বেজন্মা, কোথায় তুই?
আমি আবার কোথায় যাবো? সবসময় তো আপনার সাথেই ছিলাম।
ঠিক আছে। নিশ্চয়ই নেশা-পানি করে আসছিস।
কিন্তু আমাকে এটা কি পাঠিয়েছিস?
আপনার তো সেটা ভালোভাবে জানা উচিত। এগুলো হচ্ছে তোর কৃতকর্মের প্রমাণ-পত্র।
এই কাগজগুলো প্রমাণ করছে তুই কিভাবে মিথ্যা বলে ফিলিপাইনে একটা ক্লাবের ব্যবসা শুরু করেছিলি।
তাই আগেভাগেই বলে দিচ্ছি।
তোর কিছু ক্রিপ্টোর বদলে আমি আমার মুখ বন্ধ রাখতে রাজি আছি।
প্রতি পাতার জন্য এক বিটকয়েন।
হারামজাদা। শেয়ার মার্কেটে আমার ব্যবসায় লস চলছে আর তুই কিনা এসব বলছিস?
তুই কি মরতে চাস?
আরে বাহ! আমি মাত্রই একথা বলতে যাচ্ছিলাম।
তোর মনে আছে যেদিন সো-হি মরে গেছিলো?
তুই তো সেদিন ইয়ন-জিনের অজুহাত দিয়ে চলে গেছিলি, মনে নেই?
এখন এসব বলে, কি বুঝাতে চাস?
শোন। আমি তোকে আমার ক্রিপ্টো ওয়ালেটের অ্যাড্রেস পাঠয়েছি।
তোর হাতে ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে।
আহারে,হেঁচকা মুখো জ্যে-জুন , নিজেকে খুব মাস্তান ভাবলিস না, হুহ?
কি বললি… দাঁড়া…
কি বললি কুত্তারবাচ্চা?
-হ্যালো? -কি খবর সোনা, তোমার প্রেমিক-পুরুষ, হাজির।
যা, দূরে গিয়ে মর।
হ্যে-জেওং
কি ব্যাপার এত গরম কেনো, চাইলে কিন্তু আমি ঠাণ্ডা করে দিতে পারি।
একসাথে বিদেশে পারি দিলে কেমন হয়?
বাহ। কি কিউট লাগছে আমাকে।
আরে হ্যাঁ,জানি তো তুই খুবই কিউট।
আর এজন্যই তো তোকে বাঁচিয়ে দিতে চাইছি।
আচ্ছা বল তো,তুই তো সো-হি মারা যাবার দিন স্কুলে গিয়েছিলি,তাই না?
তাই এখন কোরিয়াতে থাকতে তো তোকে সন্দেহতালিকায় রাখা হবে।
এখনো সময় আছে, হ্যে-জেওং, চল একসাথে পালিয়ে যাই যেখানে কেও আমাদের খুঁজে পাবে না।
অনেক দূরে রাশিয়াতে।
হিলগুলো দাও।
রাশিয়াতে গিয়ে তুই কি করবি?
ওহ বুঝেছি, অবশেষে তুই একটা কুকুর হওয়ার সিদ্ধান্তই নিলি?
প্রভুভক্ত কুকুর?
চুপ! একদম চুপ!
আমি তোর জন্য , প্লেনের ফার্স্ট ক্লাস টিকিটের ব্যবস্থা করেছি!
তুই একমাত্র মানুষ যে কি না আমার অ্যাপার্টমেন্টের পাসকোড জানে!
তুই কি জানিস না যে তোকে কত ভালোবাসি? বুঝতে পারিস না?
আমি তো ভয়ই পেয়ে গেছি।
এই! গ্যেওং-রান, তোমার কাছে কোন ভারী কোট হবে?
আমি এক এক করে সবাইকে ফোন করেছিলাম।
১৮ অক্টোবর
কেউ কিচ্ছু স্বীকার করছে না।
ইয়ন-জিনের ব্যাপারে বলো? দেখা করেছো ওর সাথে?
হ্যাঁ,আসলে, আরও আগেই বলা উচিত ছিলো।
তোমার সাথে কথা বলার পরই আমি ওকে ফোন করতাম।
তারমানে, তো বলতে হয়,
আমিও তোমার ফোন করার মানুষগুলোর তালিকায় আছি?
বাহ, দং-ইউন, তুমি তো দেখছি খুবই স্মার্ট।
দেখো, দং-ইউন। আমি এখনও ওদেরকে তোমার ব্যাপারে বলিনি।
জানোই তো ওরা কেমন।
তোমাকে একদম মাঝপথে তছনছ করে দেবে।
মানে তো,আমার কথা বুঝতেই পারছো…
বুড়ো বয়সে যদি ভালো থাকতে চাও, তাহলে আমাকে নেম-ট্যাগটা দিয়ে দাও, দং-ইয়ুন।
ইডেন অ্যাপার্টমেন্ট
তোমাকে এখানে দেখে অদ্ভুত লাগছে।
ভাবতেই পারিনি আমার সাথে সাথে তুমিও এখানে আসবে।
আমরা এক গাড়িতে করে আসলেই তো পারতাম। তাই না, বলো?
এখানে একটা চিহ্ন রেখে যাওয়া উচিত যাতে আমার বন্ধু জানতে পারে যে আমি এসেছিলাম,
কিন্তু বুঝতে পারছি না যে কি রেখে যাবো।
কিন্তু, আগে তুমি বলো তো, সোনা, তুমি এখানে কেনো এসেছো?
দং-ইউন তোমাকে কিসের লোভ দেখিয়েছে?
আর ও লোভ দেখানো মাত্রই, তুমি কেন এখানে চলে এলে?
বলো?
এতদিন আমার সাথে থেকে,এখন জানতে চাইছো একটা সামান্য স্কুল টিচারের সাথে শুতে কেমন লাগে?
আমি তোমার ব্যাপারে জানতে এসেছি।
এখানে চারদিকে স্পষ্টতই তোমার চিহ্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছো।
কিন্তু কেন?
শেষবারের মত তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি।
যদি উত্তর না দাও, তাহলে অন্য কাওকে জিজ্ঞেস করবো।
সত্যি করে বলো তো তুমি কি কাওকে বুলিং করেছিলে
যাতে করে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়?
শারীরিক বা মানসিকভাবে…
অত্যাচার করেছিলে?
কিন্তু এসব তুমি কেন জানতে চাইছো?
তাও এতদিন পর?
মিস.মুন কি এসবের সাথে কোনভাবে জড়িত রয়েছেন?
জড়িত থাকলেই বা কি যায়-আসে?
কি বললে?
আমি ওকে বুলিং করেছি এসব ওর বানানো গল্প।
কারণ আমরা একে-অপরকে অপছন্দ করতাম, ব্যাস এতটুকুই।
আমি চলে যাচ্ছি এখন।
যা যা দেখার দেখে নাও এবার।
সত্যি বলতে তোমাকে এখানে দেখে,
আমি খুবই হতাশ হলাম।
রেইনবো আই ক্লিনিক
ইয়ুন সো-হি মহিলা,বয়স :১৮
তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?
কতবার তোমাকে বলছি যে আমার অনুমতি ছাড়া
কেও কোন লাশে হাতও লাগাতে পারবে না।
জানি, স্যার, কিন্তু যেহুতু উনি ডিরেক্টর সাহেবের ছেলে তাই ভেবেছিলাম …
তুমি এখন যাও।
আপনিই তাহলে ড.জু ইয়োং-জেওং ?
জ্বি আমিই ওনাকে ভেতরে ঢুকতে দেবার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম।
কোন সমস্যা না থাকলে একটু কথা বলা যাবে?
তারমানে আপনি বলছেন যে ইয়ুন সো-হির বডি তাহলে ফ্রিজারে রাখা আছে?
হ্যাঁ।
আমাদের রেকর্ড অনুযায়ী ওকে মর্গে রাখা আছে, কিন্তু আসলে বডিটা ফ্রিজারে সংরক্ষিত আছে।
আর এই তথ্যটা গোপন রাখা হয়েছে পরিস্থিতির জটিলতার কারণে।
কিন্তু আগে বলুন তো, আপনি কেন এসব জানতে চাইছেন?
কিছু ব্যক্তিগত কারণে।
কিন্তু, হাসপাতাল কেন এমনটা করলো?
এত গোপনীয়তার সাথে নিরাপত্তা রাখার মূল কারণটা কি?
এসবের পেছনের আসল কারণ…
আমি ঠিক বলতে পারবো না।
কিন্তু যতদূর জানি আমাদের মৃত ডিরেক্টর সাহেবেই এই আদেশ দিয়েছিলেন।
মানে বাবা বলেছিলেন?
তিন, সাত,দুই,চার।
ঘরের ভেতর আলো জ্বলতে দেখে মনটা আনন্দে ভরে গিয়েছিল।
অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছো? আসার পর আমাকে একটা মেসেজ করলেই তো পারতে।
আমি মাত্রই এসেছি।
-তুমি সারাদিন নিশ্চয়ই খুব ব্যস্ত ছিলে। -না, তেমন কিছু না।
সিউলে কিছু কাজ পরে গিয়েছিল।
আসলে,আমি তোমার জন্য নীল রঙের তোয়ালে আনতে গিয়েছিলাম।
গোলাপি রঙটা শুধু আমাকে মানায়।
আরেহ,তাই বলে এখনই এভাবে ধরে দেখবে?
আসলেই বেশ মানায় দেখছি।
সত্যি বলছো তাহলে?
সর্যি, আমি এখনও গেস্ট রুমটা গুছোতে পারিনি।
তুমি নাহয় আজকে আমার বিছানায় শুয়ে পরো। আমি কালকে গিয়ে, সব কেনাকাটা সেরে ফেলবো।
এইযে এটা আমার রুম।
আসলে আমি একটা জিনিস অর্ডার করেছি, যদিও ওটা কোন বিছানা নয়।
ডেলিভারির সময় যদি আমি না থাকি, তাহলে ওটা ওভাবেই রেখে দিও। আমি পরে এসে গুছিয়ে নেবো।
কিন্তু, তুমি কি অর্ডার দিয়েছো?
পুলিশ আমাকে যেতে বলেছে কিছু জিজ্ঞেসাদ করার জন্য। কি করবো আমি এখন?
তো কি হয়েছে? সামান্য জিজ্ঞেসাবাদই তো করবে
ভয় পাচ্ছিস কেন? তুই কি আসলে ম্যেওং-ও কে খুন করেছিস?
তোরও তাহলে তাই মনে হচ্ছে?
ধ্যেত্তেই। সত্যিই তাহলে ওকে খুন করে ফেললাম আমি?
আরে না, কি সব যা-তা বলছিস তুই?
শেষ কবে ওকে দেখেছি মনে পরছে না,
ঝগড়া হয়েছিল কিনা কিচ্ছু মনে নেই।
কোনটা ভালো বল তো? খুন করা, নাকি ড্রাগস নেয়া?
একবার ভেবে দেখ তো, ধর তুই দূর্ঘটনাবশত কাওকে খুন করে ফেললি,
কিন্তু দূর্ঘটনাবশত কি কখনও ড্রাগস নেয়া সম্ভব? শুনতেই কেমন অদ্ভুত লাগছে, তাই না?
সা-রা, আমি ফোন রাখছি। তোর সাথে কথা বলতে এখন সত্যিই খুব বিরক্ত লাগছে।
ওরা কি তোকেও কল করেছিল? কবে জিজ্ঞেসাবাদ করবে বলেছে? আমাকে সামনের সপ্তাহে যেতে বলেছিল।
আজকেই।
মনে হয় চলে এসেছে।
ভেতরে আসুন!
কি আজকেই?
অসম্ভব।স্পিকার অন কর,আমিও শুনবো
না, রেকর্ড কর।
আমি পরে শুনে…
আমি ফোন রাখলাম, বুঝেছিস।
আসুন,বসুন।
আসলে ইদানীং আমি খুবই ব্যস্ত থাকি
তাই পুলিশ-স্টেশনে যাবার সময় পাচ্ছি না।
অসুবিধা নেই, এই অজুহাতে আমারও খানিক বাইরে বের হওয়া হয়।
আমি অফিসার ছই ডং-গ্যু। এইযে আমার কার্ড।
ভালো।
একটা প্রশ্ন করি তাহলে,আপনি কি সাধারণত নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজতে তদন্ত চালান?
উনি এখন কেবল নিখোঁজই নন। মামলাটা এখন ফৌজদারি পর্যায়ে চলে গেছে।
অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে মি.সন মাদকের সাথে জড়িত ছিলেন।
শেষ কবে ওনার সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছিল?
ঠিক মনে নেই। তিন সপ্তাহ ধরে কাজে আসছিল না।
এতদিন যাবৎ কাজে আসেছিল না? আপনি তার কারণ জানতে চাননি কখনো?
না এসে ভালোই হয়েছে।
আমি এমনিতেই কিছু দিনের মধ্যে ওকে ছাঁটাই করতাম।
একদম জঘন্য একজন কর্মচারী ছিল।
No comments yet. Be the first to leave one.