The first 192 lines.
- বসিয়ে রাখার জন্য দুঃখিত। - না, সমস্যা নেই।
- বায়োডাটা তো চমৎকার! - ধন্যবাদ।
তো ইঞ্জিনিয়ারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেন কেন?
আসলে...
স্থাপত্যের প্রতি সবসময় আলাদা একটা আকর্ষণ ছিল।
জ্যামিতি।
কীভাবে একটা আরেকটার সাথে জুড়ে থাকে।
কোনো জিনিস দ্বারা কার্য সম্পাদনাকে এক প্রকার শিল্পও ধরা যেতে পারে।
ভবিষ্যতে চিন্তাভাবনা কী? ৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
কালো স্যুট, একটা।
বাচ্চাটা কি বড় হয়ে গেছে?
আর কয়েক বছর পর তাগড়া জোয়ান হয়ে যাবে।
ওর মা'র খেয়াল রাখবে।
হ্যাঁ, এখানে সব আগের মতোই আছে।
কিন্তু...
কিছু জিনিস একটু প্যারা দিচ্ছে।
একটু পর পর ঝগড়া বেধে যায়। বুঝেছ কীসের কথা বলছি, জিমি?
তবে কাজের কাজ হয়ে গেছে একটা।
হাসপাতালে ঢুকার পথ পেয়ে গেছি।
- প্ল্যানটা কার্যকরী করতে কিছু সময় দরকার। - কত সময় লাগবে?
সিঁড়ি ছাড়া ২০ ফুট একটা ড্রেন-পাইপে উঠতে যতটুকু সময় লাগে আরকি!
সেজন্য আগামীকাল হয়ত পিআইয়ে থাকতে পারব না।
এভাবে ফাঁকি দিতে পারবি না, কারণ এটা কোনো ক্লাস নয়। যদি কোনো গার্ড বুঝে ফেলে?
আর কোনো উপায় নেই।
গার্ড রুমের নিচের এই পাইপটা বাগিয়ে নিতে পারলেই, বাকিটুকু সহজ হয়ে যাবে।
দরজা ছাড়াই যাওয়া-আসা করতে পারব, আর ওয়েস্টমোরল্যান্ড যেহেতু যোগ দিয়েছে...
তাই খনন করার লোক আরেকজন বাড়ল।
ওর জন্যে সমস্যা হবে। ১৮ মিনিটে ৭ জন দেয়াল টপকানো সম্ভব না।
তুই নিজেই তো বলেছিস, এটা অসম্ভব।
- যেকোনো একজনকে বাদ দিতেই হবে। - জানি।
বাকি সবার সাথে জিনিসটা নিয়ে আলোচনা করলে কিছু মনে করবে?
কলেজ পড়ুয়া ছেলেটা হিসেব কষে দেখেছে।
যে গাড়ি করে আমরা যাব, তাতে সিট একটা কম। তাই এখানে যারা কাজ করছে...
- তারা সবাই কিন্তু যেতে পারবে না। - সমস্যা কী তোমার?
- সে নিজেই জানে না, সে কী বলছে। - পালাতে না পারলে আমি খুঁড়ব কেন?
- কাকে বাদ দিতে হবে, সে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। - কে বাদ যাবে, তা আমরা সবাই জানি।
বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত,
কিন্তু...
গন্ধটা কীসের?
গন্ধটা ষড়যন্ত্রের মতো মনে হচ্ছে।
- কাজ শুরু করা দরকার। - আমি একটা কথা বলতে এসেছি।
প্রথমেই মনে হয়েছিল, সবাই মিলে আমায় ছাটাই করে দিতে চাইছ...
তাই একটা ফন্দি এঁটেছি।
ফোন দিয়ে আমার লোকদের প্ল্যানের কথা জানিয়ে দিয়েছি,
সামনের হপ্তায় দেখা করতে আসলে, সবকিছু জানিয়ে দেব।
কিন্তু...
যদি পালানোর ৫ মিনিট আগে আমাকে কিছু না জানানো হয়...
তাহলে সে ফোন করে ওয়ার্ডেনকে সব বলে দিবে।
তাই আমাকে যদি ছাটাই করার কথা ভেবে থাকো,
তাহলে অন্য প্ল্যান তৈরি করো।
হারামজাদা সবকিছুর ব্যাক-আপ তৈরি করে রেখেছে।
এটার জন্য নয়।
শেষমেশ শুধু শ্বেতাঙ্গরাই থাকবে। তুমি-আমি বাদ।
- কী বলছ এসব? - দ্যাখো, কার সাথে হাঁটছ।
সকল মামলা ওদের সাথে স্যাটেল করার জন্য, তোমার ওইখানে থাকা উচিত ছিল।
হ্যাঁ, তো?
তো!
স্কোফিল্ড এখানে এসেছে শুধু একটা কারণেই।
ওর ভাই।
তাঁর দরকার মাত্র দুইটা জিনিস। ওই বুড়োর টাকা, আর অ্যাব্রুজ্জির প্লেন।
তোমাকে কোনো দরকার নেই তাঁর। একসাথে থাকো বলে ব্যবহার করছে শুধু।
- তুমি আর ওই টয়লেট। - এটার জন্য অনেক খেটেছি।
ঠিক বলেছ, আমিও খেটেছি।
কিন্তু আমরা এখানে শুধু কামলা খেটে যাচ্ছি, ভায়া।
যখন সে পালাবে, তখন অতিরিক্ত কাউকে সাথে নিবে?
এজন্যই বাঁশটা আমাদের।
তোমাকে ভালো করে চিনিও না, আমি গেলাম।
সে কি তোমায় প্ল্যানের সবকিছুই বলে?
নাকি নিজের মনের মধ্যেই রেখে দেয়?
সব জেনে যাবে বলে, সে হয়ত বেশি কিছু বলে না। তাই না?
কী বলছ তুমি নিজেই জানো। সে আমায় সব বলে।
সব বলে দেয়ার মানে হলো, তোমাকে তার কোনো দরকারই নেই।
তুমি-আমি, আমাদের নিজের পথ নিজেই খুঁজে নিই।
নইলে পালানোর দিন স্কোফিল্ডের জটিল চাল দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে।
সবটা তোমার উপর ভায়া।
ইয়ো, আমি এখনো অপেক্ষা আছি।
কীসের?
ঘড়িটা এনে দিলাম, তো আমার পিআই কোথায়?
- এখন সম্ভব না। - তুমি কথা দিয়েছিলে।
বলেছিলাম, ভেবে দেখব। কিন্তু একটা ভেজাল লেগে গেছে।
এভাবে আর পারছি না ভাই!
- কী করব এখন? - কাউকে ডেকে নিয়ে আসো।
না, না। বুলেট দেখলেই ওরা পুলিশকে ফোন দিবে।
এছাড়া আর কিছু করার নেই! তোমাকে এভাবে মরতে দিতে পারি না।
- খুঁজে বের করো। - কী?
বুলেটটা শরীর থেকে বের করে ফেলো।
- পারব না। - তাড়াতাড়ি করো!
স্কোফিল্ড কোথায়?
এখানে তুই!
আমি আরও সেলে গিয়ে খুঁজছি। পাইনি কোথাও।
ক্রেডিট কার্ডেরও কোনো হদিস পাইনি। কীসের কথা বলছি, বুঝতেই তো পারছিস।
তোর বেশ্যা বউকে একদিন জেরা করেছিলাম।
সে সব বলে দিয়েছে।
বেশ্যাটা হয়ত অনেক চালাক। কোনো মেয়ে বিয়ের ছলে...
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে চাইলে, তাকে তোর ভাষায় কী বলবি?
শালীকে এখানে আসতে হলো কেন? ওয়াজিস্তানে কোনো নাইট ক্লাব নেই?
- অফিসার বেলিক... - ক্যাপ্টেন।
এসব প্রশ্ন-টশ্ন অন্য সময় করলে ভালো হয় না?
- আমাকে তো শিডিউল মেনটেইন করতে হয়। - এক্সকিউজ মি, ডক্টর।
তেমন কিছু না, আমি শুধু স্কোফিল্ডকে তাঁর ওই...
বেশ্যা বউকে জেরার কাহিনী শুনচ্ছিলাম।
তুমি তোমার কাজ শুরু করো।
জেলে ঢুকার পর দিন থেকেই সে পিছনে লেগে রয়েছে।
- হাতটা শক্ত করো। - সরি।
ওকে বিয়ে করেছি শুধু গ্রিন কার্ডটা আমার কাছে পৌঁছে দেবার জন্যই।
তোমাকে সেদিন কঞ্জুগাল রুম থেকে বেরিয়ে আসতে দেখলাম।
এটা শুধুমাত্র চুক্তির একটা অংশ।
আমাকে এসব খুলে বলার দরকার নেই, মাইকেল।
জানি।
কিন্তু আমি বলতে চাই।
ডিবি। এই তাহলে আপনার পরিচয়? আমি তো আপনাকে রাক্ষাল ভেবেছিলাম।
- সামনে আসবে না, ছোকরা। - এটাই বুঝে আসছে না...
আপনার মতো বুড়ো-ভাম জেল পালিয়ে করবেটা কী?
বাঁচবেন কীভাবে, হ্যাঁ? দুনিয়া পুরোপুরি পাল্টে গেছে, আগের থেকে ভয়ংকর।
এখন চলছে কম্পিউটার বিপ্লব, বোকাগুলোও হয়ে গেছে চালাক। কিছুই বুঝতে পারবেন না।
- তার কৈফিয়ত তো তোমায় দিতে হবে না। - অবশ্যই দিতে হবে।
আপনার জন্যই আমরা সমস্যায় পড়তে পারি। সময়মতো দেখে নিবো আপনাকে...
- আচ্ছা দেখিস পারলে! - হেই, ঝগড়া থামাও।
সাবধানে রাক্ষাল। দ্বিতীয়বার কিন্তু সতর্ক করব না।
কী অবস্থা?
জেমস ব্যাগওয়েল সেদিন গ্যারির সাথে ফোনে যোগাযোগ করেছিল।
- টি-ব্যাগের ওই ইনস্যুরেন্স পলিসি। - হ্যাঁ।
পালানোর আগ পর্যন্ত, আমার লোকেরা ওকে মুভিং ভ্যানে আটকে রাখবে।
- মুভিং ভ্যান? - হ্যাঁ।
চিন্তার কিছু নেই। সে সুস্থই থাকবে। এসব করে আমরা অভ্যস্ত।
আর টি-ব্যাগের কী হবে?
ওকে নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। বিশ্বাস রাখতে পারো।
আপনি জেমস ব্যাগওয়েল? আপনার জন্য একটা ডেলিভারি এসেছে।
- হ্যাঁ? - হ্যাঁ।
-তুমি ঠিক আছ? - হ্যাঁ।
- ম্যাম। - হ্যাঁ?
- আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি? - অবশ্যই।
এখানেই বোসো। ঠিক আছে? ও ঠিক হয়ে যাবে তো?
এখনো জানি না। পুলিশকে কল দিতে চাচ্ছিলাম। ভাবলাম আপনার সাথে আগে কথা বলে নিই।
ক্ষতটা দেখে মনে হলো, সেটা বন্দুকের গুলিতে সৃষ্টি হয়েছে।
আপনাকে সত্যটা বলতে হবে। উনি গুলি খেয়েছেন কেন?
সে গ্যারেজে তাঁর গাড়ির নিচে ছিল।
এখন উনার সার্জারি করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে উনার মাসল টিস্যুতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিয়েছে।
উনার কাঁধে বেশ ভালোভাবেই জখম হয়েছে।
আর বুলেটের কারণে ওইখানে সংক্রমণের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
তাই তাঁকে ভর্তি করাতে হবে। আর কাউকে ফোন দিতে হবে? পরিবারের কাউকে?
না। আমিই শুধু উনার পরিবারের লোক।
ঠিক আছে। উনি খানিকটা সুস্থ হলে আপনাকে জানিয়ে দেয়া হবে।
ধন্যবাদ।
হ্যাঁ।
- ওইখানে পৌঁছেছ? - প্রায় পৌঁছে গেছি।
ধৈর্য সহকারে ওকে অনুসরণ করো। তিনটাকে আজকেই পাকরাও করতে চাই।
হ্যাঁ, ওর পিছনেই আছি।
- আমি বলছিলাম। - একটা দুঃসংবাদ আছে।
কীরকম?
একটু গড়বড় পাকিয়ে গেছে। লোকটার হাতে একটা বন্দুক ছিল।
- এজন্য একটু সমস্যা হয়ে গেছে। - কী? সে মরেছে তো?
হ্যাঁ, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত...
ওইখানে একটা বাচ্চা ছিল।
বলছ কী তুমি? একটা বাচ্চাকে মেরে ফেলেছ?
পুরোটাই ছিল অনিচ্ছাকৃত।
সে একটা বাচ্চা, ভাই।
জানি, এজন্য সরি।
সে বাচ্চাটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
- ছেলে নাকি মেয়ে? - জানি না, ছেলে হবে হয়ত।
বয়স কত?
৪ বা ৫ হবে।
- কে দেখা করতে এসেছে? - চিনি না। কোন একটা মেয়ে জানি।
বেবি।
হাই।
তোমায় অনেক সুন্দর লাগছে।
কিছু কথা বলা বলতে এখানে এসেছি।
কী?
আমি অন্তঃসত্ত্বা, ফার্নান্দো।
অন্তঃসত্ত্বা?
তোমার বাচ্চা পেটে।
তোমার বাচ্চাকে গর্ভে ধারণ করছি।
তুমি...তুমি...আমাদের...
আমাদের সন্তান আসতে চলেছে?
ওই ভাই, শুনেছ? আমি বাবা হতে চলেছি!
- কথা শেষ হয়নি। - আর কী রয়েছে?
হেক্টর আমায় বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
- কী? - জানি কথাটা বেখাপ্পা লাগছে।
না করে দাও। বলে দাও, তোমার পেটে আমার বাচ্চা। আমরা একটা পরিবার হবো।
ফার্নান্দো, দেখো।
মা বলেছে, বাচ্চা পালন করা এই দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন একটা কাজ।
আর সেটা যদি একা সামলাই, তাহলে তো আরও কঠিন।
ব্যাপারটা নিয়ে ভয়ে আছি। একা একা জিনিসটা সামাল দিতে ভয় লাগছে খুব।
- একা একা সামাল দিতে হবে না। - এখনো ওকে না বলিনি।
দাঁড়াও, দাঁড়াও। বিষয়টাকে তুমি গুরুত্বই দিচ্ছ না?
আসলে আমি বুঝতে পারছি না।
তোমাকে ওদের কানপড়া নেয়া বন্ধ করতে হবে।
ওরা তোমার মগজ ধোলাই করছে।
তোমার হরমোনাল ক্রিয়া বাড়িয়ে দিচ্ছে। তুমি সোজাসাপ্টা চিন্তা করতে পারছ না।
বিষয়টা আমাদের বাচ্চাকে নিয়ে সোনা।
আমার কথা শোনো।
No comments yet. Be the first to leave one.