The first 200 lines.
আমি নাটকটা শেষ করেছি।
সাবাশ!
মাকে দেখেছ?
মনে হয় উনি ড্রইংরুমে আছেন।
আশা করি আজকে আমাদের তুমি জ্বালাবে না মিস ব্রায়োনি।
দশজনের জন্য ডিনার বানাতে হবে।
হ্যালো দোস্ত, শুনেছি তুমি নাকি নাটক দিচ্ছো?
কে বললো তোমাকে?
জঙ্গলের হাওয়া।
আসবে দেখতে?
মনে হয় না আসাটা ঠিক হবে...
এর চাইতে দাও দেখি, পড়ি?
তুমি তো আমাকে তোমার লেখা সব গল্পগুলো বাঁধিয়ে দিয়ে দিতে।
আমার কাছে সবগুলো আছে।
আসো না।
দেখি চলো।
আমাকে এখন যেতে হবে।
মা, তুমি কোথায়?
অসাধারণ! অসাধারণ হয়েছে মামণি! তোমার প্রথম নাটক ছিলো।
তাই? লিয়নের এটা পছন্দ হবে?
একশোবার হবে।
অ্যারাবেলার অগ্নিপরীক্ষা, রচনায় ব্রায়োনি ট্যালিস।
- সি? - হ্যাঁ?
তোমার কী মনে হয়, আমরা যদি অন্য কেউ হতাম তবে কেমন লাগত?
মনে হয় মজারই হত।
নাটকটা নিয়ে আমার চিন্তা হচ্ছে।
আমি নিশ্চিত ওটা একটা মাস্টারপিস হয়েছে।
কিন্তু আমাদের তো খালি বিকালটা আছে রিহার্সালের জন্য।
যমজ দুইটা যদি অভিনয় করতে না পারে?
ওদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করবি।
তোর কেমন লাগত যদি মা রেডিওর ওই কী জানি নামের লোকটার সাথে পালিয়ে যেত?
মনে হয় লিয়নের জন্য একটা গল্পই লেখা উচিত ছিল।
গল্প লিখলে গল্পে যদি তুমি বলো 'দুর্গ', তবে তুমি দেখতে পাবে-
টাওয়ার, নদী, আশপাশের জঙ্গল- সবকিছু। কিন্তু..
নাটকে, সব...
সব অন্যদের ওপর নির্ভর করে।
- সি - হ্যাঁ?
তুমি রবির সাথে আর কথা বলো না কেন?
বলি তো। শুধু আমাদের সার্কেল আলাদা হয়ে গেছে।
আমাদের নাটক করতে হবে?
কেন?
আমার ভাই লিয়নের আসা উপলক্ষে।
আমি নাটক ঘেন্না করি।
আমিও।
তোমরা কীভাবে নাটক ঘেন্না করতে পারো?
কারণ এটা লোক-দেখানো।
নাটকটা করবি? নইলে কপালে কিন্তু মার আছে। আর বাবা-মাকে আমি বলে দেব।
তুমি আমাদেরকে মারতে পারো না।
আমরা এই বাড়িতে অতিথি।
আর বাবা-মা আমাদেরকে কেমন থাকতে বলেছে?
- বল তো পিয়েরট? - ভদ্র হয়ে।
- জ্যাকসন? - ভদ্র হয়ে।
ভদ্র হয়ে থাকতে বলেছে।
বলো ব্রায়োনি, তোমার নাটকের বিষয় কী?
এর বিষয় হলো--
ভালোবাসো ভাল কথা, কিন্তু তোমার বোধবুদ্ধি থাকতে হবে।
- তুমিই তো অ্যারাবেলা হবে, না? - আমার হওয়া বাধ্যতামূলক না।
তাহলে, আমি যদি অ্যারাবেলা হই, তুমি কিছু মনে করবে?
লোলা স্কুলের নাটকে ছিল।
হ্যাঁ বলো, আমার খুব ভাল লাগবে।
ঠিক আছে, হ্যাঁ।
তাহলে এটা পড়ে শুরু করা যাক।
তুমি অ্যারাবেলা,
আমিই তাহলে পরিচালক, ধন্যবাদ।
দুঃখিত।
আমি প্রোলগটা পড়ছি।
"প্রোলগ
"এটা মিষ্টি মেয়ে অ্যারাবেলার কাহিনী,
"যে এক অযোগ্য লোকের সাথে পালিয়ে গিয়েছিল
"তার বাবা-মা খুব কষ্ট পেলেন তাদের প্রথম সন্তানকে
"সব ভুলে ইস্টবোর্ণে পালিয়ে যেতে দেখে।"
জি?
কিছু না, আমি কেবল দেখতে এসেছি।
দুঃখিত, কিন্তু রিহার্সালটা প্রাইভেট।
আজকে সন্ধ্যায় নাটকটা দেখতে পাবে।
তখন আমার কাজ আছে।
তাহলে আমি দুঃখিত ড্যানি।
আমরা এখন সাঁতার কাটতে যাই?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ!
না, মনে হয় না আমাদের সেই সময় আছে!
সিসিলিয়া আমাদের যেতে দেবে।
আধাঘন্টার বিরতি আমাদের জন্য ভাল হবে।
সিসিলিয়া? সিসিলিয়া!
সিসিলিয়া!
সিসিলিয়া! সিসিলিয়া, সিসিলিয়া। প্লিজ, আমরা সাঁতার কাটতে যাই সিসিলিয়া?
যাও, না যাওয়ার তো কোন কারণ দেখি না। বেশি গভীরে যেয়ো না!
আমাকে তোমার একটা বলশেভিক সিগারেট দেবে?
দিনটা সুন্দর।
তাই তো মনে হয়। আমার অবশ্য খুব গরম লাগছে।
- তোমার বইটা ভাল লাগছে? - না।
পরে গিয়ে আবার খারাপ লাগবে না।
এর চেয়ে ফিল্ডিং-এর লেখা ভাল।
আরো বেশি আবেগী।
লিয়ন আসছে আজকে, জানো?
খবর শুনেছি।
ওর এক বন্ধুকে নিয়ে আসছে।
নাম পল মার্শাল, চকলেটের কোটিপতি।
ফুলগুলো তার জন্য?
কেন না?
লিয়ন বলেছে সে নাকি খুব চার্মিং।
বাবা কাল রাতে ফোন করেছিল। বললো তুমি নাকি ডাক্তার হওয়ার কথা ভাবছো?
হ্যাঁ, ভাবছি হয়েই যাই।
আরো ছয় বছর পড়াশোনা করা।
আর কীভাবে ডাক্তার হওয়া যায়?
একটা ফেলোশিপ নিতে পারো এখন,
- আগের মত? - আমি পড়াতে চাই না।
আমি বলেছি তোমার বাবার টাকা ফেরত দেবো।
আমি মোটেও সেটা বোঝাতে চাইনি।
- দেখি ওটা আমাকে দাও। - না, লাগবে না, ধন্যবাদ।
- ফুলগুলো নাও, ফুলগুলো নাও। - ঠিক আছি। আমি ঠিক আছি।
গাধা কোথাকার!
জানো এটাই হয়তো আমাদের জিম্মার সবচেয়ে দামি জিনিস?
এখন তো আর না।
সাবধান!
আমি...
হ্যালো রবি!
ওকে লাই দেওয়ার কোন দরকার নেই।
সি?
মা?
ড্যানি, সবাই কোথায়?
জানি না স্যার।
স্যার।
- পিপাসায় গলা শুকিয়ে গেছে। - স্যার?
- তুমি খাবে? - চলবে।
- হুইস্কি? - প্লিজ!
- লিয়ন! - এই তো ও।
আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি। এখানে থেকে থেকে বিরক্ত হয়ে গেছি পুরা।
আমার বোন সিসিলিয়া। ও পল মার্শাল।
তোমার অনেক কথা শুনেছি।
শোনারই কথা।
ও কোথায় থাকবে?
নীল ঘরটায়।
মা শুয়ে আছে, মাইগ্রেনের ব্যথা উঠেছে।
অবাক হলাম না, যা গরম!
বাচ্চাদের ঘরের পরেরটা।
বাবা শহরেই থাকবে?
হ্যাঁ, মন্ত্রণালয়ে কী যেন কাজ আছে।
তো আমরা কি নাটকটা করবো না?
না।
কেন?
আমাকে জিজ্ঞেস কোরো না।
আমার এখানে ভাল লাগছে না।
নতুন কোন ব্র্যান্ড আসলে সবসময় একটা না একটা সমস্যা দেখা দেয়।
নতুন করে মার্কেটিং, নতুন করে প্যাকেজিং, নতুন করে সব ঠিক করা।
এমনকি কখনও কখনও স্বাদও বদলে দিতে হয়, বা নতুন প্রযুক্তি খুঁজতে হয়।
মনে হয় আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অ্যামো বার ছাড়বো নাকি
আর্মি অ্যামো, বুঝেছ? আমার অ্যামোটা দাও বলে যে?
মন্ত্রণালয়ে আমার সূত্র খুবই নির্ভরযোগ্য,
হ্যারোতে আমি তার জুতা সাফ করতাম।
উনি আমাকে বলেছেন যে আমাদের ভাল সুযোগ আছে
যে আমরা রেশন প্যাকে এটা দিতে পারবো।
এর মানে আমাদের অন্তত আরো তিনটা কারখানা খুলতে হবে।
হিটলার সাহেব ক্ষান্ত না দিলে জোর করে আর্মিতে লোকজন নেওয়া হবেই। তখন আরো কারখানা খুলতে হবে।
হিটলারের সিদ্ধান্ত আর মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার'স-এর
শেয়ার কেনা একই কথা। কি বলো?
খুব ভালো না।
আমি কুচানো বরফ,
রাম, আর তিতা চকলেটের ককটেল বানাতে পারি। খুব মজা!
বল তো ঢোকার সময় আজকে কার সাথে দেখা হল?
রবি।
ওকে বলেছি আজকে রাতে ডিনারে আসতে।
ধুর লিয়ন, কোন দরকার ছিল!
রবি এখানের হাউজকিপারের ছেলে,
বিশ বছর আগে ওর বাবা ভেগে গিয়েছিল,
স্কুলে বৃত্তি পেয়েছিল,
বাবা ওকে ক্যামব্রিজে ঢুকিয়ে দিল,
সিসিলিয়াও একই সময়ে ঢুকেছিল।
আর তিন বছর ধরে মেয়েটা ওর সাথে প্রায় কথাই বলে না।
বন্ধুবান্ধবদের সার্কেলের এক মাইলের ভেতর ঢুকতেই দেয় না।
একটা সিগারেট আছে কারো কাছে?
ইদানীং কী করছে বুঝতে পারছি না, ফুলের বেড হাতাচ্ছে খালি।
ও মেডিক্যাল ডিগ্রি নেওয়ার কথা ভাবছে।
বাবা হ্যাঁ বলেছে?
দেখো, আমি বলি কি, ওর বাড়ি গিয়ে ওকে না আসতে বলো।
কেন? তোদের মধ্যে কিছু লেগেছে নাকি?
দোহাই লাগে।
আমরা বাড়ি যাবো কবে?
শীঘ্রই।
আমরা বাড়িতে যেতে পারবো না। বাবা-মায়ের তো ডিভোর্স হয়ে গেছে।
কত্ত বড় সাহস এসব বলিস?
ঘটনাটা তো সত্যি!
তোরা আর জীবনেও এই শব্দটা উচ্চারণ করবি না! বুঝেছিস?
এখন কী করবো?
আমারও একই জিজ্ঞাসা সবসময়।
আমার নাম পল মার্শাল, তোমরা নিশ্চয়ই ওদের কাজিন?
- তোমাদের নাম কী? - পিয়েরট।
- জ্যাকসন। - সুন্দর নাম।
আপনি কি আমাদের বাবা-মাকে চেনেন?
কাগজে তাদের খবর পড়েছি।
তাদের ব্যাপারে ঠিক কী পড়েছেন আপনি?
এই তো, হাবিজাবি।
বাচ্চাদের সামনে এটা নিয়ে কথা না বললে কৃতজ্ঞ থাকবো।
তোমাদের বাবা-মা খুব চমৎকার মানুষ,
এটা একদম পরিষ্কার, তারা তোমাদের খুব ভালবাসেন। সবসময়ই তোমাদের কথা ভাবেন।
প্যান্টটা বেশ সুন্দর।
একটা নাটক দেখতে গিয়েছিলাম, লিবার্টি থেকে কিনেছি আমি।
কী নাটক?
হ্যামলেট।
আহ, ওটা, "টু বি অর নট টু বি।"
আপনার জুতাগুলো তো সুন্দর।
No comments yet. Be the first to leave one.