The first 200 lines.
"কিংডম অফ দি গডস্" বই অবলম্বনে নির্মিত।
অনুবাদে: ⊗ AsadujJaman ⊗
কিছু খান।
এটা আপনার দোষ নয়।
আপনি তাদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
যদি আমি আত্মসমর্পণ করতাম,
হয়তো সবাই বেঁচে যেতো।
কিন্তু আপনি তো মারা পড়তেন।
আপনি না বাঁচতে চান বলেছিলেন?
বাঁচার জন্যই কি এতোকিছু করেননি?
আমি আলাদা হতে চেয়েছিলাম।
যারা অসহায়দের বিপদে ফেলে পালিয়ে যায়...
তাদের থেকে।
আপনি পেরেছেন।
অন্তত আমি তাই মনে করি।
যাই, আপনার ক্ষত সাড়ানোর জন্য কিছু খুঁজে আনি।
সে কি ফিরেছে?
এখনও ফেরেনি।
তার নাম এখনও অজানা।
ইয়ং-সিন তার আসল নাম নয়, ভুয়া নাম।
এই মুহূর্তে, সাংজুতে দ্রুত পৌছনোয় সেই একমাত্র ভরসা।
যুবরাজ কি তার বন্দুক চালনা দেখেননি?
স্বয়ং প্রাসাদের প্রহরীরাও এতো দক্ষ নয়।
এরকম সুদক্ষ বন্দুক চালনা শুধু
চাখো সদস্যরাই পারে।
বাঘ শিকারী, সেই অভিজাত সেনাদের কথা বলছো?
জ্বী।
যেহেতু বাঘ শিকার খুবই বিপজ্জনক,
তাই চাখোদের তাদের যোগ্যতা দেখে নির্বাচন করা হয়,
বংশমর্যাদা দেখে নয়।
এরা খুবই বিপজ্জনক হয়ে থাকে।
বেঁচে থাকার জন্য, তারা যেকোন কিছু করতে পারে।
বেঁচে থাকার জন্য যেকোন কিছু করতে পারে?
তাহলে তো আমার মতোই।
যুবরাজ।
খবর বলো।
কেউ আমাদের পিছু নেয় নাই।
কাছের গ্রামগুলাও দেইখা আসছি।
ওইখানে এখনও রোগ ছড়ায় নাই,
কিন্তু লোকজন গুজব শুইনা ভয় পায়া গেছে।
ভয়ে লোকজন গ্রাম ছাইড়া,
বাড়িঘর ছাইড়া পালাইতাছে।
জানোয়ার! ওখানে জানোয়ার!
পানি। পানি খাবো। পানি!
ওটা কি...
ম্যাজিস্ট্রেট চো?
যুবরাজ?
যুবরাজ, এটা সত্যিই...
যুবরাজ...
তোর জন্য কত মানুষের রক্ত ঝরেছে জানিস?
দয়া করে থামুন।
মশা মেরে হাত নষ্ট করবেন না।
তুমি না জাহাজে ছিলে? তোমার এ অবস্থা কি করে হলো?
ওই জাহাজে...
জাহাজে রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল।
কি বললে তুমি!?
জাহাজে একটা লাশ ছিলো।
ওই শালাই আমাদের আক্রমণ করে এ হাল করেছে।
শুধু আমিই জানে বেঁচে গেছি।
ওই জাহাজ এখন কোথায়?
সওংজুর কাছাকাছি এসে ঘটেছিলো এ ঘটনা...
সওংজুর পরেই হচ্ছে...
সাংজু শহর।
আমরা তো দূত পাঠিয়েছিলাম,
সাংজু নিশ্চয়ই প্রস্তুত হয়ে আছে।
আসলে,
শুধু.. ডংনাইয়ের সব সেনাছাউনিগুলোকেই জানানো হয়েছিলো।
যুবরাজ, এ রোগ যদি সাংজুতে পোঁছে,
হায়াংয়েও শীঘ্রই ছড়িয়ে পড়বে।
আমরা এখনই সাংজুতে রওনা দেবো।
যুবরাজ! যুবরাজ!
আ.. আমাকেও সাথে নিয়ে চলুন। যুবরাজ!
সাংজু ওই পাহাড়ের উপরে!
সাংজু পরাস্ত হলে,
ওই রোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
জলদি চলো।
সাংজু।
ঘটনা কি সত্য?
- কি? - কি নাকি এক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে?
শুনলাম রাতে নাকি রোগীরা ভুত হয়ে যাচ্ছে।
ডংনাই থেকে খবর নিয়ে এখনও কোন দূত আসেনি,
তাই স্থানীয় সরকার এখনও কিছুই জানে না।
তবে,
জিয়ংসাংয়ে একটা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।
ডংনাইয়ে নাকি একটা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে,
আর রোগীরা নাকি জিন্দা লাশ হয়ে যাচ্ছে।
তৈরি হও।
পাহাড় ছাড়ার সময় হয়েছে।
এই কবজ,
সকল রোগবালাই আর ভুতকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে।
সিঁদুর দিয়ে লেখা এই রক্ষাকবজের দাম মাত্র দশ টাকা, দশ টাকা।
মাত্র দশ টাকা!
- আমাকে একটা দেন। - এই নেন, দশ টাকা।
ভাই আমাকে পাঁচটাকায় দিবেন?
বেটা পবিত্র জিনিস নিয়া মশকরা করস!
যা ভাগ এখান থেকে! দশ টাকা!
- যা ভাগ। - ধ্যাত!
প্রভু আন হিয়ন!
প্রভু আন হিয়ন আসছেন!
প্রভু, টহলের সময়, নদীতে একটা পরিত্যক্ত জাহাজ পেয়েছি।
নিজের চোখে দেখবেন চলুন।
একটা সরকারি জাহাজ এভাবে
নদীতে পড়ে আছে কেন?
আমার ধারণা জাহাজে হামলা হয়েছিলো,
এজন্যই হয়তো ডংনাই থেকে বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে।
জঙ্গলে একটা গ্রাম দেখতে পাচ্ছি।
হ্যাঁ, কৃষকদের গ্রাম।
পো.. পোড়া মাংসের গন্ধ পাচ্ছি।
মাংসের গন্ধ পাচ্ছি।
জাহাজের ওপর আর এখানে,
রক্তের ছড়াছড়ি।
পুরো জাহাজ রক্তে রঞ্জিত,
তাহলে আহত বা মৃতরা কোথায় গেলো?
আর কখনও এমন খাবার পাবা না, পেট ভরে খাও।
- খা! - চাবাতে ভুলিস না।
ভাত বেশি খাইস না।
118i
মাংস খা...
তাজ্জব ব্যাপার।
মাইনষে না খায়া মরতাছে, আর এরা ধুমায়া খাইতাছে!
জঙ্গলের এতো গভীরে কি করছেন?
এই খাবার কোথায় পেয়েছো?
আসলে,
এক বণিক দলকে সাহায্য করায় দিয়ে গিয়েছিলো।
আরে!
সড়ো। সড়ো!
সড়ে যাও।
সড়তে বললাম না!
এগুলো সব ওই জাহাজের মালপত্র!
এরা নিশ্চয়ই জাহাজ লুট করেছে।
ক্ষমা করুন!
আমার প্রাণ ভীক্ষা দিন।
আমরা খুবই দুঃখিত।
আমরা জাহাজ থেকে চুরি করতে চাই নাই।
খাবারের লোভ সামলাতে না পেরে...
- আমাদের প্রাণ ভিক্ষা দিন! - আমাদের প্রাণ ভিক্ষা দিন!
আমাদের ক্ষমা করুন।
জাহাজে কেউ ছিলো না?
আমরা সবাইকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।
সকালে আমি নিজে জাহাজে ঢুঁকেছিলাম।
যাত্রীদের শরীর পুরো... ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে ছিলো।
বিশ্বাস করুন।
লাশগুলো? লাশগুলো ওখানেই ফেলে এসেছো?
লাশগুলো পশু-পাখি ছিড়ে খেতো,
তাই কবর দিয়ে ফেলেছি।
কোথায় কবর দিয়েছো?
কোথায় কবর দিয়েছো?
তোমরা সবাই ঘৃণ্য অপরাধ করেছো।
তবে, বুঝতে পারছি তোমরা এটা ক্ষুধার তাড়নায় করেছো।
যদি সত্যি কথা বলো, তোমাদের শাস্তি কমিয়ে দেবো।
চলুন আপনাদের নিয়ে যাই।
চাকার দাগ খুঁজে পেয়েছি!
এখনও পৌঁছই নি?
প্রায় চলে এসেছি।
কি হইলো?
দাঁড়ালে কেন? যেতে থাকো!
আমরা জানি সরকারি জিনিস চুরির শাস্তি পরিবারের সবার শিরোচ্ছেদ।
কি.. কি বলছো এসব?
দোষ যা করার আমরা করছি,
আমাদের ছেলেমেয়ে তো কিছু করে নাই।
আপনাদের মুখ বন্ধ করে দিলে, কেউ কিছু জানবে না।
বদমাশের দল!
কাকে কি বলছিস জানিস?
অস্ত্র নামা!
এটা চুরির থেকেও বড়ো অপরাধ।
লাশগুলো না পাওয়া গেলে,
তোমরা, তোমাদের ছেলেমেয়ে
এমনকি, পুরো জিয়নসাংয়ের কেউই বাঁচবে না।
আমাদের লাশের কাছে নিয়ে চলো!
ক্ষুধায় কি কানও খারাপ হয়ে গেছে?
লাশগুলো কোথায় রেখেছো?
যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন।
কি ওটা?
বাঁচতে চাইলে,
অস্ত্র দিয়ে ওগুলোর মাথা কেটে ফেলো।
আরো আসছে!
না। না, না!
বাঁচাও...
না!
নেমে আসুন!
নাকি জোর করে ধরে আনবো?
ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।
কেউ আমাকে প্রাসাদে দেখতে চায় না।
অপসারিত হলে, আমাকে মেরে ফেলা হবে।
আমি মাকে খুব মিস করছি।
এখানে থাকা যাবে না।
যুবরাজ আপনাকে...
এখানে মানায় না।
রাজপ্রাসাদ।
আমি ওখানে যাবো না।
গুরু, আমাকে ছেড়ে দিন।
আপনি ঠিকই বলেছেন।
মহারাজকে অনেকেই
কুমন্ত্রণা দিচ্ছে যে, আপনি তার ছেলে নন।
খারাপ খবর হচ্ছে,
রাজপ্রাসাদে আপনাকে রক্ষা করার মতো কেউ নেই।
তাই...
নিজের খেয়াল রাখবেন।
মনে রাখবেন...
শুধু নিজের জীবন নিয়ে ভাবলেই চলবে না,
No comments yet. Be the first to leave one.