The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
জাগো আমার প্রিয় বন্ধুরা!
আমি চলে এসেছি!
নতুন একটা দিন আসলো আর এই নশ্বর দুনিয়াতে শান্তি তো আছে...
কিন্তু, আর থাকবে না।
একটু দেখো ওদের!
আমার একটা ইশারায় ওদের পুরো দুনিয়ায় অরাজকতার তুফান শুরু হয়ে যাবে!
ঝড় শুরু হবে!
আর, এর চেয়ে ভালো আমার জন্য আর কিইবা হতে পারে?
এক সুদর্শন শাহজাদা!
একটা অমূল্য ধন...
আর রয়েছে এক চোর!
ওহ, অনেক মজা হবে এবার!
সিটাস?
নিশ্চয়ই জানো তোমাকে কী করতে হবে?
খেলা শুরু হোক এবার!
বন্ধুরা, এই ক্ষণটার জন্যই আমরা অপেক্ষা করছিলাম!
দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিধর জাহাজ সিরেকিউসে যাচ্ছে!
কিন্তু আফসোস, ওখানে পৌছাতে পারবে না!
এই অভিযানের পর আমরা ফিজি চলে যাবো!
- ক্যাল! - জি, ক্যাপ্টেন!
স্পাইক!
এবার ধনী হওয়ার পালা!
দেখলি আমার সাঁড়াশি আক্রমণ?
বেশ প্রশংসা করার মতো না?
একটু বেশীই ভালো খেলেছ!
এইটুকু!
কী বললে?
বেশীই ভালো খেলেছি?
ওহ, আর তুমি মনে হয় বাড়াবাড়ি করছ না?
প্রোটেয়াস!
খেলাটা দেখতে আরোও মজাদার লাগছে!
কত বছর পর দেখা হচ্ছে?
জানি না কত বছর হয়েছে।
এখনও বাচ্চাদের মতো লড়ো তুমি?
সিনবাদ?
সিনবাদ!
তুমি...তুমি এখানে কী করছ?
আমার কাজ!
- তুমি? - তোমার হয়েছেটা কী?
এতদিন কোথায় ছিলে?
সব কিছুই বলবো তবে এখন...
কিছু কাজ আছে, কোথাও যাওয়ার আছে, কিছু লুট করার আছে!
সিনবাদ, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
শুনেছি, পড়েছিও!
কিন্তু, সামনাসামনি কখনও দেখিনি!
শান্তির কিতাব!
এটা সিরেকিউসে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া আমার দায়িত্ব।
আচ্ছা? দেখো, আমার খুব খারাপ লাগছে...
কারণ, তোমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে!
মশকরা করছ?
১০ বছর গায়েব ছিলে, হঠাত করে আসলে আমাকে লুট করার জন্য?
যদি তুমি এখানে না থাকতে! কিন্তু, কী করবো বলো? আফসোস, আমি যে সিনবাদ!
প্রটেউস, আমরা দু'জন একসাথে চমৎকার কিছু সময় কাটিয়েছি, অনেক গল্প করেছি, গোপন অভিযানেও গিয়েছি।
মজার ছিল সময়টা, কিন্তু তখন আমরা বাচ্চা ছিলাম!
আমরা বন্ধুও ছিলাম!
দেখো, তুমি এটা লুট করতে পারবে না, আমার থেকে অন্তত না!
এমনিতে এটা তোমার কোন কাজে আসবে?
এই কিতাব ১২ শহরের মানুষদের রক্ষা করছে!
সেটাই তো!
একটু ভাবো তাহলে এটা অন্যদের দিলে কত ইনাম পাবো আমি!
তোমাকে আবারও বলছি, আমরা এক সময় বন্ধু ছিলাম!
যদি সেই বন্ধুত্ব তোমার কাছে সামান্য হলেও গুরুত্ব রাখে, তাহলে প্রমাণ দাও সেটার!
ঠিকই বলেছ।
সে অনেক কাল আগের কথা!
এখানে নায়কগিরী দেখানোর কিছু নেই, প্রোটেয়াস!
ওই কিতাব পেতে চাইলে আমাকে আগে হারাতে হবে!
এটা কী ছিল!?
হে ঈশ্বর!
যা, স্পাইক!
ধরছি! ধরছি ওকে!
আচ্ছা, তোমায় বেশ ব্যস্ত মনে হচ্ছে!
যোগাযোগ রেখো!
দাঁড়াও, দাঁড়াও! সিনবাদ, ভয় পেয়ে পালাচ্ছো নাকি?
বলতে পারো!
সিনবাদ!
তুই! আমার...
আমার জাহাজ!
এবার, আমাদের সুশি খাওয়ার পালা!
ওই লোকটা আসলেই আগুনের গোলা!
সিনবাদ! সরে পরো এখান থেকে!
এখানেই দাঁড়িয়ে থাকো!
তুমি করছোটা কী?
হেই, হেই, হেই!
পাগলা, এখানে মার!
পালাও!
পিছু হটো!
দড়িটা ধরো!
এবার চলো!
চলো?
মতলবটা কী?
এখান থেকে বেঁচে ফেরা!
ধরে থাকো!
- এই নাও, দরকার পরবে। - তুমি কোথায় যাচ্ছো?
মাছ ধরতে!
ডানে, বাঁয়ে, ডানে, বাঁয়ে, ডানে, বাঁয়ে!
এখনই!
ঠিক আছো?
হ্যাঁ! সাহায্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ!
আমরা আজো বন্ধুই আছি!
সাবধান!
সিনবাদ!
কতো সুন্দর মনোবাঞ্ছা নিয়ে দিনটা শুরু হয়েছিল!
আর, এখন দেখো...আমার জলের দানব রক্ষক মারা গিয়েছে!
আর, এখনও সেই শান্তির কিতাব হাতে পাইনি আমি!
সব তোমার কারণেই হয়েছে, সিনবাদ!
আচ্ছা, তো তোমার পরিচয়?
অ্যারিস, অশান্তির দেবী!
মন্দিরের দেওয়ালে নিশ্চয়ই তুমি আমার ছবি দেখেছ!
জানো, তারা তোমায় সঠিক ন্যায়বিচার করেনি।
আর, এখন...
আমার সমুদ্রের রাক্ষসকে নিয়ে কথা বলো।
আচ্ছা, আচ্ছা, শুনো। ওর কথা ভেবে খারাপ লাগছে!
হৃদয় থেকে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা পাওয়া যাবে কি?
হৃদয়? তুমি?
সিনবাদ, তোমার হৃদয় বলে কিছু নেই।
তোমাকে সেজন্যই আসলে এত ভালো লাগে!
আচ্ছা, তোমার জীবন ভিক্ষা দিতে পারি...
তবে, সেজন্য তোমাকে ছোট্ট একটা কাজ করে দিতে হবে!
শান্তির কিতাবটা চুরি করে আমার কাছে নিয়ে আসো!
আচ্ছা, সেটাই তো আমার সমস্যা কারণ বইটা চুরি করে তারপর সেটা বেঁচে মালামাল হওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম...
তুমি তো চেনোই আমাকে!
তোমার চিন্তা ভাবনা এত ছোট কেনো, সিনবাদ?
কিতাব চুরি করে বেঁচে সেই অর্থ দিয়ে কোনো দ্বীপে প্রাসাদ বানানোর কথা ভাবছো!
কিন্তু, যদি তুমি কিতাবটা চুরি করে আমার কাছে নিয়ে আসো তবে সেই প্রাসাদ আমি কিনে দেবো...
দ্বীপসুদ্ধ, এমনকি পুরো দুনিয়াটাও!
জীবিত ছেড়ে দেবে, আমাকে ধনী বানিয়ে দেবে!
বেহেশতে যাওয়ার দরকার দেখছি না!
নাহ, আপত্তির কিছু দেখছি না!
কিন্তু, যদি তোমার কথার নড়চড় হয়?
সিনবাদ, যখন কোনো দেবী কারোও সাথে ওয়াদা করে সেটা পূরণ করতে সে বাধ্য!
ঠিক আছে, তোমার প্রস্তাবে রাজি।
আমি জানি, তুমি বেশ সমঝধার লোক!
তো, যখন কিতাব চুরি করবে...
ওই তারার দিক অনুসরণ করে চলে আসবে!
তাহলে তুমি পৌঁছে যাবে...
টারটারাস, আমার রাজধানী।
টারটারাস!
তোমার সাথে সেখানেই সাক্ষাৎ হবে!
অপেক্ষায় রইলাম আমি!
তো, আমরা যেন এখন কোথায়?
ওহো...
তুমি শ্বাস প্রশ্বাস শিথিল করে রেখেছ!
ও অনেক সুদর্শন...
আর, বেশ সহজ সরল প্রকৃতির!
সিটাস!ভালো কাজ দেখিয়েছ!
সিনবাদ, তুমি বেঁচে আছো!
শেষ পর্যন্ত পেরেছ তুমি!
বাজীর টাকা দে, ও বেঁচে আছে!
সাগরের নিচে কী হয়েছে বলো?
বললেও বিশ্বাস করবে না!
বলেই তো দেখো!
ঠিক আছে, শোনো তাহলে!
অ্যারিসের সাথে দেখা হয়েছে, অশান্তির দেবী!
ও আমাকে ভালোবেসে ফেলেছে!
ওর ঘরে আসার জন্য আমাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছে!
হাহ! গল্পটা ভালো ছিল!
অশান্তির দেবী!
লিখে রাখবো কোথাও নামটা!
আচ্ছা, কিতাব তো পেলাম না। এখন আমরা কী করবো?
ধৈর্য ধরো, রেট!
আমরা তো জানিই এটা কোথায় যাচ্ছে!
সবাই, সিকেরিউসে চলো!
আমরা প্রস্তুত, জনাব!
দীর্ঘদিন ধরে এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করেছি আমি!
সহস্র বছর ধরে আমাদের হেফাজতে রাখা সেই পবিত্র সম্পদ...
এখন অবস্থান করছে সিরেকিউসে।
শান্তির কিতাবের নাম নিয়ে!
সাথে, আপনি সম্রাট ডায়মাস আর শাহজাদা প্রোটেয়াসও দীর্ঘজীবি হোন!
থামাও ওকে!
দেখলে? সামনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে কী হয়!
ও এখানে কী করছে?
অন্তত এখানে তো কাউকে লুটপাট তো করছে না!
কারণ, যাদের লুট করতে পারবে তারা সবাই এখানে উপস্থিত আছে!
১০ দিরহাম বাজী, একটু পরেই তরবারিটা নিচে নামাবে।
জুয়া আমারও পছন্দ!
সিপাহী...
তরবারি সরাও।
বন্ধু, ১০ বছর তোমায় দেখিনি আর একই দিনে দুবার সাক্ষাৎ হলো?
আমায় খুশি করে দিলে!
মনে হলো, তোমার জীবন বাঁচানোর জন্য আমাকে ধন্যবাদ দিতে চাও! তাই চলে আসলাম!
হয়তো শুনেছ, এখানে ফ্রিতে খাবার আর শরাব পাওয়া যায়!
শুনলে বন্ধুরা? পেটপুরে খাবে আর পান করবে শাহজাদার নামে!
চলো, তোমাকে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।
কাজে লেগে পরো!
হাতিয়ার?
ওইতো ও! ওর ব্যাপারে সবই বলেছি তোমাকে!
সিনবাদ, আসো আমার বাগদত্তার সাথে তোমায় পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।
রাজকুমারী ম্যারিনা, থ্রেসের শাহজাদি।
আচ্ছা, তাহলে এই হচ্ছে সেই দুর্ধর্ষ সিনবাদ!
যার ব্যাপারে তুমি বলছিলে!
প্রথমে প্রোটেয়াসকে লুটতে চাইলে, তারপর ওর জীবন বাঁচালে!
তোমার আসল পরিচয়টা কী?
একজন চোর নাকি একজন নায়ক?
সিনবাদ ওকে ধন্যবাদ জানানোর একটা সুযোগ আমায় দিতে চেয়েছে!
ওকে!
আট মাস ধরে সমুদ্রে ডিম আর আচার ছাড়া পেটে কিছুই ঢোকেনি!
সুস্বাদু খাবার দেখে মাথা নষ্ট হওয়ারই কথা!
কাজটা বেশ সোজা!
সেখানে একজন মাত্র প্রহরী পাহারায় আছে!
No comments yet. Be the first to leave one.