The first 200 lines.
মুভিঃ Poongsan(2011)
★ অনুবাদ ও সম্পাদনায় ★ মোঃ সায়মুন ইসলাম শুভ
ক্যামেরার সামনে কথা বললে,
আমার স্ত্রী উত্তর কোরিয়া থেকে আমাকে দেখতে পারবে?
ইউন-নিম।
আশা করি এখনও বেঁচে আছো তুমি।
তোমাকে বেঁচে থাকতেই হবে।
আমি ভেবেছিলাম তোমার কাছে দ্রুতই ফিরতে পারবো, কিন্তু...
কিন্তু ইতোমধ্যে ...
বাবা...
- ৬০ বছর পার হয়ে গেলো। - বাবা।
তোমাকে বেঁচে থাকতেই হবে।
আমাকে মাফ করে দিয়ো।
তোমার কথা অনেক মনে পড়ে আমার।
তোমার কথা অনেক মনে পড়ে আমার।
মা...
বাবাকে কিছু বলো।
কিছু বলছো না কেন?
আগামীকাল বাবা তোমাকে দেখতে পারবে।
একটা অনুরোধ ছিল আমার।
এটা আমার মায়ের অনেক মূল্যবান জিনিস, তাই একটু সাবধানে নিবেন প্লিজ।
এমন মূল্যবান জিনিস একটা বাচ্চার কাছে দিচ্ছেন কেন?
ভালো করেছ তুমি।
বাবু, তুমি উত্তর থেকে এসেছ নাকি?
এইযে নেও।
দাঁড়াও!
তোমার মোবাইল নাম্বারটা দেও।
এই, তোমার নাম্বারটা দেও।
এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?
বউ!
তুমি এখনও বেঁচে আছো!
ইউন-নিম!
Poongsan
বাহ! এগুলো এখনও আছে!
দাঁড়াও!
তোমাদের পাচার এর অভিযোগে গ্রেফতার করা হচ্ছে!
তোরা শালারা, আমার সাথে মজা নিচ্ছিস নাকি?
মিথ্যে বলা বন্ধ করে আমাকে বল চাইনিজ দালাল টা কে!
উত্তর কোরিয়া থেকে আনা হয়েছে বললাম।
উত্তর কোরিয়া থেকে কীভাবে আনবি?
আমরা আনিনি। একজনকে দিয়ে আনিয়েছি।
কোন পাগলা শালা এগুলো আনার জন্য DMZ পার হয়ে মরতে যাবে?
আমাদের কথা বিশ্বাস না করলে করবেন না।
তোরা!
ঠিক আছে, সে কে তাহলে?
আমরা তাকে একবার দেখেছি।
গুজব আছে যে সে DMZ পার করে,
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারের চিঠি অথবা গচ্ছিত কিছু আদান-প্রদান করে।
আর সে এসবও পাচার করে?
এটা হয়তো নিজের জন্য এনেছে।
নাম কী তার?
সে পুংসান সিগারেট খায় সবসময় এতটুকুই জানি।
পুংসান? তার নাম্বার আছে তোদের কাছে?
যদি ইমজিনগাক ব্রিজে নোট রেখে যান,
সে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।
তার ব্যাপারে আর কিছু জানিস?
সে উত্তর কোরিয়া থেকে মানুষও নিয়ে আসে।
কী?
সেই উত্তর কোরিয়ার পিচ্ছিটার কথা মনে আছে?
হ্যাঁ।
এই!
গোয়েন্দা বিভাগে খবর দেও।
সবসময় এত নার্ভাস থাকেন কেন?
ওহ, হ্যালো।
আমার দিক থেকে একটু চিন্তা করে দেখুন।
আপনি আমাদের উপর আস্থা রাখতে পারেন। সবাই এখানে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
আপনার রিপোর্ট এর কাজ কখন শেষ করবেন?
শীঘ্রই শেষ করবো। আমার এখন একটু অস্বস্তিকর লাগছে।
এই গাছের দিকে তাকিয়ে থাকলে হয়তো নিজের মন কে শান্ত করতে পারবো।
আমাদের এটা খুব প্রয়োজন এখন।
উত্তর-দক্ষিণের মাঝে এখন তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আমি জানি।
সবকিছু সময় মতো করা উচিত।
একটু অপেক্ষা করুন বেশি সময় নেব না।
এটা শুধু কারও একার প্রয়োজনে না।
ভেবে দেখলে এটা আমাদের সবার জন্য খুব দরকারী কিছু এখন।
আপনি কি আসলেই পালিয়ে এসেছেন?
হ্যাঁ, আমি পালিয়েছি।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির মোড় কখন কোন দিকে যায় তা বলা মুশকিল।
উত্তরের প্রতি তাহলে এখনও টান রয়ে গেছে আপনার।
আবার রিপোর্ট করতেও রাজি হচ্ছেন না।
রিপোর্ট পেশ করার পর আপনার কী পরিণতি হবে তা নিয়ে চিন্তা করছেন নাকি?
যখন আমার কোনও প্রয়োজন থাকবে না, তখন আমার নিরাপত্তা কেন দিবেন আপনারা?
আমাদের দেশ এতটা বিশ্বাসঘাতক না।
যাইহোক, আমার সেই অনুরোধের কী হলো?
আমাদের এজেন্ট এখন পিউংইয়ং এ আছে।
চীন তাদের বর্ডারে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে।
আর DMZ ক্রশ করা অনেক ঝুঁকির।
আমার জন্য এতটুকু কাজ করতে পারবেন ভেবেছিলাম।
আমি কি তাহলে ভুল ভেবেছি?
আমি একটি উপায় দেখছি।
ঝুঁকিপূর্ণ যেন না হয়।
তাকে আমার কাছে পেতে চাই, কিন্তু এজন্য সে আঘাত পাক তা চাই না আমি।
হ্যাঁ।
কী?
একজন অদ্ভুত লোক?
"আমার প্রেমিকাকে আনতে সাহায্য করুন!"
"দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আয় করা সব টাকা আমি দিয়ে দেব।"
"দয়া করে আমার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে আসুন।"
সে বললো তার শুধু ৩ ঘন্টা লাগবে।
কী?
মাত্র ৩ ঘন্টার ভেতর পিয়ংইয়ং থেকে একজন মেয়েকে এখানে নিয়ে আসবে?
এই! দেখো সে কীভাবে যাচ্ছে।
হাহ!
বাহ, দারুণ ছেলে তো।
সে কি আসলেই নিয়ে আসতে পারবে?
DMZ ক্রস করা অনেক ঝুঁকির কাজ, না?
সত্যি? কত সময় লাগবে তাহলে?
তিন ঘন্টা?
মাত্র তিন ঘন্টায়, আমি ধরতে পারবো...
মানে, আমি আমার ইন-ওককে দেখতে পারবো?
আমার আর তর সইছে না, সে যেন কোনও আঘাত না পায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন প্লিজ।
তিন ঘন্টা?
এই বাইসাইকেল তার কাছে থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছি।
আপনি কি দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো সিক্রেট এজেন্ট?
আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?
একটু দাঁড়ান।
খুঁজে না পেলে, বাদ দেন।
খুঁজে পাননি?
আপনি হয়তো শুধু কাজ করতেই এসেছেন।
এটা কী?
দক্ষিণ কোরিয়ার কারও শবদাহ করা ছাই ?
কমরেড, একজন মেয়ের সাথে কীভাবে আচরণ করতে হয় তা জানেন না?
আমার আর আপনার সাথে যেতে হবে না।
নিজে নিজেই যেতে পারবো এখন!
শ্রম কমান্ডো ইউনিট এ ছিলাম আমি বুঝলেন?
আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন?
আমার একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছিল।
যেন একটা খাড়া পাহাড় থেকে পড়ে গিয়েছি আমি, নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না।
আমার মনের সকল দুঃখ, আনন্দ এবং ভালোবাসার সমাপ্তি হয়েছে এমন মনে হয়েছে।
কিন্তু, হঠাৎ দূর থেকে হাসিমুখে আমার মায়ের ডাক শুনতে পেলাম।
ইন-ওক...
ইন-ওক...
তাই মায়ের কাছে ছুটে যেতে চাইলাম।
কিন্তু এক পাও এগুতে পারিনি, কারণ আমি আকাশে উড়ছিলাম তখন।
আমার কি মৃত্যু হয়েছিল?
মৃত্যু শুধু কষ্টের না তা অনুভব করতে পেরেছি এখন আমি।
হয়তো তখন আমাকে রেখে আসতেন তাহলেই ভালো হতো।
না।
আমার তার সাথে দেখা করতে হবে।
যাইহোক, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভেবে দেখলে, কমরেড আপনার অবস্থা অনেকটা এই কুকুরের মতো।
যেন এর মালিককে অনেকদিন ধরে খুঁজে চলছে।
এমন বিপদজনক কাজ কেন করেন আপনি?
অদ্ভুত ব্যাপার, আপনার রক্তে কোনও গন্ধ নেই।
আপনি কি আসলেই মানুষ?
হয়েছে কী?
দুঃখিত। আসলে ভয় পেয়েছি।
এবার ভালোভাবে চেষ্টা করবো। তাহলে আরেকবার।
দাঁড়ান। আমার কী হবে?
শুনছেন!
এটার কথা বলছেন?
কীভাবে দেই?
আমি কীভাবে আসবো তাহলে?
শুনছেন!
আমি কীভাবে আসবো?
এই!
আপনি সত্যিই পাগল হয়ে গেছেন।
জানেন কত ভয় পেয়েছি আমি? প্যান্ট ভরে এখনই প্রস্রাব করে ফেলতাম।
আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
আপনাকে আর সহ্য হচ্ছে না আমার।
চলুন একটা সিগারেট খাই।
আমাদের আর কোনও বিপদ নেই।
এক মিনিট দেরি হলে তেমন কিছু হবে না।
বলদা জানি কোথাকার।
শুনে ফেলেছেন?
তাহলে আমি ভুল কিছু বলেছি?
সিগারেট এর গুরুত্ব কত তাও বুঝেন না।
আচ্ছা.... আপনার মোবাইল নাম্বার টা দিবেন?
আমাকে ভুল বুঝবেন না।
আপনাকে যদি দরকার পড়ে সেজন্য চাইলাম।
তিন মিনিট বাকি।
যদি আসলেই তাকে আনতে পারে, তাহলে তার থেকে আমাদের শিখতে হবে।
তাকে গুপ্তচর মনে হচ্ছে না।
পাচারের অভিযোগে জেলে দিয়ে দিলে ওর প্রতিভার অপচয় করা হয়।
ঠিক বলেছ। সে আসলে কোন পক্ষের লোক তা ভাবছি।
যাইহোক, যদি মেয়েটাকে আনতে পারে, নেকড়েকে চীনে পাঠিয়ে দিবে।
আচ্ছা-
এইতো সে!
বাহ! তার সাথে একজন মেয়ে না?
হ্যাঁ!
মাত্র তিন ঘন্টায় উত্তর কোরিয়া থেকে একজন মেয়ে নিয়ে এসে পড়লো?
সত্যি অবাক হয়ে যাচ্ছি!
একজন সরকারি এজেন্ট হয়ে এই কথা কীভাবে বলছ?
তুমি তিন মিনিট দেরি করে ফেলেছ।
সেইকো কোম্পানির ঘড়ি ভুল হবে না।
মিস কিম ইন-ওক, আসার সময় কোনো সমস্যা হয়নি তো?
আমি কি আসলেই দক্ষিণ কোরিয়ায় আছি?
হ্যাঁ।
শীঘ্রই আপনার ভালোবাসার মানুষের দেখা পাবেন। কেমন লাগছে আপনার?
তিনি এখন কোথায়?
প্লিজ ভেতরে যান।
এসব বিপদজনক কাজ ছেড়ে দেন।
নাহলে, অকাল মৃত্যু হবে আপনার।
আপনার যে দক্ষতা রয়েছে তাতে আপনার কোনও কাজের অভাব হবে না।
এই ছোটো যাত্রায়, তার উপর হয়তো মায়া সৃষ্টি হয়েছে আপনার।
অযৌক্তিক কথাবার্তা।
কোনটা অযৌক্তিক কথা?
না কিছু হয়নি!
মি.পার্ক, কাজ শেষ করো।
No comments yet. Be the first to leave one.