The first 175 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
মিসাকির কথা শুনেছ কখনও?
নাইন্থ গ্রেড, ক্লাস থ্রিতে পড়তো মেয়েটা।
ক্লাস থ্রিতে মিসাকি নামে কেউ ছিল?
২৬ বছর আগে ঘটনাটা ঘটেছিল।
সে সেভেন্থ গ্রেড থেকেই বেশ জনপ্রিয় ছিল।
ওর মধ্যে ছিল স্বভাবসুলভ বিচক্ষনতা, সৌন্দর্য আর দারুণ একটা ব্যক্তিত্ব!
শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব সবাই ওকে বেশ স্নেহ করতো!
প্রত্যেকটা গ্রেডেই এরকম কেউ না কেউ থাকেই।
কিন্তু, নাইন্থ গ্রেডে ক্লাস শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই...
মিসাকি মারা যায়।
কীভাবে?
শুনেছিলাম, এটা একটা অ্যাক্সিডেন্ট ছিল।
সবাই শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল!
যতক্ষণ কেউ একজন সেই কথাটা বলেছিল!
কী বলেছিল?
কেউ একজন মিসাকির ডেস্কের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিল...
"মিসাকি মরেনি, ওখানেই বসে আছে ও"
তারপর?
তারপর থেকেই অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটা শুরু হলো!
ক্লাস থ্রি এর স্টুডেন্টরা এমন আচরণ করতো যেন মিসাকি বেঁচে আছে!
বেশ অদ্ভুত তো!
গ্র্যাজুয়েশনের আগ পর্যন্ত তারা এরকম আচরণ অব্যাহত রাখে।
প্রিন্সিপাল গ্র্যাজুয়েশনের অনুষ্ঠানে মিসাকির জন্য আলাদা সিটও রেখে দিয়েছিল।
কাজটা কি খারাপ করেছিলেন তিনি?
ঘটনা সেখানেই শেষ হয়ে গেলে ভালো হতো।
আরও কিছু ঘটেছিল?
গল্পের বাকি অংশটা ছিল...
কী অবস্থা? শরীরে কোনো ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে?
আমি ঠিক আছি।
এখানে নতুন করে জীবন শুরু করতে হবে তোমাকে!
বেচারা!
আমি সরি, দাদী!
আহা, সরি বলার কি আছে? টেনশন করো না।
তোমার ভাগ্যেই লেখা ছিল ওরকম।
বাবা জানে?
ওকে এখনও বলিনি।
ইয়োস্কে এখন ভারতে আছে, না?
উনাকে বলবো? উনার নাম্বার আমার কাছে আছে।
না, ধন্যবাদ তোমাকে। আমি নিজেই ওকে ফোন দেবো।
সেটাই ভালো হবে।
ইয়োস্কে বেশ ব্যাস্ত একজন মানুষ।
রিতুস্কোর মৃত্যুর পর যতটা সময় গড়িয়েছে...
ইয়োমিয়ামা নদীর জল এভাবেই শহরে প্রবাহিত হচ্ছে!
নিচে নদীর পাশে কিছু দেখতে পাচ্ছো?
উম্মম...
ওই বিল্ডিঙের কথা বলছ?
হ্যাঁ।
এই স্কুলেই তুমি ভর্তি হবে।
এই স্কুলেই তুমি পড়তে না, রিকো?
হ্যাঁ, ১৪ বছর আগের কথা যদিও।
আমার মাও তো এই স্কুলে পড়ত, তাই না?
ঠিক বলেছ।
আমার বোন রিতুস্কো ইয়োমি নর্থেও পড়েছে।
ইয়োমি নর্থ?
ইয়োমিয়ামা নর্থ হাইস্কুল।
ওহ।
সরকারী স্কুল আর বেসরকারী স্কুলের মধ্যে পার্থক্য আছে।
কিছুটা সময় লাগে অবশ্য অভ্যস্ত হতে।
সময় গেলেই দেখবে তুমি অভ্যস্ত হয়ে গেছ।
আমারও তাই আশা।
তুমি সুস্থ হয়ে যাবে।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর...
ইয়োমি নর্থে ভর্তির ব্যাপারে সাহায্য করবো তোমাকে।
ওয়াও! স্টিফিএন কিং এর হরর উপন্যাস পড়ছো নাকি?
আচ্ছা, আমি আসি। তোমরা কথা বলো।
আমরা ইয়োমিয়ামা নর্থ জুনিয়র হাইস্কুলে নাইন্থ গ্রেডের ক্লাস থ্রি এর স্টুডেন্ট!
আচ্ছা!
আমি কাযামি, কাযামি টমোহিকো।
ও হচ্ছে সাকুরাগি!
তোমার সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগছে! আমি সাকুরাগি ইয়ুকারী!
আর, ও হচ্ছে...
আকাযাওয়া ইজুমি।
কিছু বলতে এসেছ তোমরা?
হ্যাঁ।
সাকুরাগি আর আমি ক্লাস অফিসার্স।
আকাযাওয়া শৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করে।
আমরা ক্লাস থ্রি এর প্রতিনিধি হিসাবে এখানে এসেছি।
শৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণ?
তুমি এখানে এসেছ সপ্তাহ দুয়েক হলো, তাই না?
শুনেছিলাম, সোমবার থেকে ক্লাস শুরু করবে। তারপর শুনলাম, হঠাত করে তুমি অসুস্থ হয়ে পরেছ!
তাই, পুরো ক্লাসের পক্ষ থেকে তোমার খোঁজখবর নিতে এসেছি আমরা।
এগুলো তোমার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সামান্য উপহার!
টোকিও থেকে এসেছ?
হুম।
সেখানে শুনেছি প্রাইভেট স্কুলে পড়তে?
হঠাত করে এখানে আসলে?
পারিবারিক কারণে।
ইয়োমিয়ামাতে এই প্রথমবার এসেছ তুমি?
হ্যাঁ।
আচ্ছা! আমাদের শহরটা তোমার কাছে ভালোই লাগবে! বেশ নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ এখানে!
এর আগেও এখানে এসেছি...
তবে, ঘুরতে।
কতদিন আগে এসেছিলে এখানে?
ঠিক বলতে পারছি না!
সেভাবে, খেয়াল নেই।
সেই ছোট্টবেলায় বাবার সাথে এসেছিলাম একবার!
এই নাও।
ফার্স্ট টার্মের সবগুলো নোটের ফটোকপি এনেছি তোমার জন্য।
অসংখ্য ধন্যবাদ!
স্কুলে মনে হচ্ছে সময়টা ভালোই কাটবে!
তোমাদের সাথে আবার স্কুলে দেখা হবে!
তোমার নাম সাকাকিবারা?
হ্যাঁ?
বেশ।
সাকাকিবা...
তোমার ডাক নাম কোউচি?
তোমাকে কোউচি বলে ডাকি আমরা?
অবশ্যই!
স্কুলে যে কোনো ধরনের দরকার লাগলে আমাকে বলবে।
ঠিক আছে, ধন্যবাদ!
কোউচি, তুমি শিউর এর আগে কখনও ইয়োমিয়াতে স্থায়ীভাবে থাকতে না?
হ্যাঁ, এখানে শুধুমাত্র এর আগে ঘুরতে এসেছিলাম!
বাবা।
ক্ষ-ক্ষমা করবেন!
তুমি ইয়োমি নর্থে পড়ো?
বেজমেন্টে তোমার কোনো কাজ আছে?
আছে...
কিন্তু, বেজমেন্টে তো...
একজনকে একটা জিনিস দিতে এসেছি।
আমার অস্তিত্বের অর্ধেকটা অংশ...
...সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
এই দাঁড়াও?
তোমার নাম কী?
মেই।
মিসাকি মেই।
মর্গ।
গুড মর্নিং, রেই!
গুড মর্নিং, রেই!
তুমি কেমন আছো?
গুড মর্নিং!
গুড মর্নিং!
গুড মর্নিং! কেমন আছো, বাবা?
গুড মর্নিং!
এখানে দুপুর দুইটা বাজে!
ভারতে প্রচন্ড গরম আবহাওয়া এখন!
কী অবস্থা তোমার?
আজ থেকে স্কুলে যাচ্ছো, তাই না?
তোমাকে শুভকামনা জানানোর জন্য ফোন করেছি!
ধন্যবাদ বাবা!
শরীরের অবস্থা কেমন?
দুর্বল নাতো? খাওয়া দাওয়া ঠিকমত করছ তো?
আমার কথা শুনতে পাচ্ছো, কোউচি? আমি বলতে চাচ্ছি...
ধুর! নেটওয়ার্কের অবস্থা বেশ খারাপ এখানে।
আগের চেয়ে বেশ সুস্থ আছি।
চিন্তা করো না।
শোনো, কিডনিতে পাথর অনেকেরই হয়!
আমারও ছোটবেলায় এরকম হয়েছিল!
তাই? জানতাম নাতো!
বলা হয়নি কখনও।
লবণ আর ভাজাপোড়া খাবার একদমই খাবে না।
তাই?
ভাজাপোড়া খাবার পাকস্থলীর ১২ টা বাজিয়ে দেয়।
খাবারদাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে!
ঠিক আছে! ঠিক আছে!
অসুখ বিসুখটাকে অতীত ভেবে ভুলে যাও...
মজা করে সময়টা কাটাও।
তোমার কথাই সই!
এই তো আমার বুদ্ধিমান ছেলে! তোর দাদাকে বলিস, তাকে আমি সালাম জানিয়েছি!
বাপরে, ভারতে এত গরম!
গুড মর্নিং, রেই! গুড মর্নিং!
রেই হচ্ছে তোর নাম!
হাসো হাসো! খেলো!
ঠিক আছে জনাব, ধন্যবাদ!
কিছু কথা আগেই বলে নেই।
ইয়োমি নর্থে ভর্তি হলে একটা জিনিস সবসময় মাথায় রাখবে!
সেখানকার নিয়ম কানুন সবসময় মেনে চলবে!
ওকে।
টোকিওর থেকে এখানকার পরিবেশ খানিকটা আলাদা...
তবে, ইয়োমিয়ামায় একাকী চলাফেরার চেয়ে দলগতভাবে চলাফেরার সুবিধা বেশী।
তোমার প্রত্যেকটা মনে থাকবে।
খুব ভালো।
এখন যে বিষয়টা তোমার জানা দরকার সেটা হচ্ছে...
কোউচি!
নাশতা খেতে আসো!
No comments yet. Be the first to leave one.