The first 143 lines.
ফ্লেমস- সিজন ১- এপিসোড ১ অনুবাদ ও সম্পাদনায় : আকতার হোসেন
রজত বাবা, এদিকে আমি কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে চলেছি...
...আর তুমি এখানে একা বিদ্যাসাগরের মতো বসে আছো!
পান্ডেজি'কে দেখছি না যে?
কী ব্যাপার? ২-১ নাম্বার কম-বেশির জন্য বন্ধুত্ব ভেঙে ফেললে না-কি ?
আমার বকা দেয়াটাকে এতটাই সিরিয়াসলি নিয়েছো?
রজত?
না, স্যার। আসলে..
ইউ-ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণগুলো নোট করছিলাম।
তাই?
কিন্তু বাবা, বইয়ে তো বি-ব্লকের অধ্যায় খোলা!
স্যার, আগেরটাও রিভিশন দিচ্ছিলাম।
বাবা, কী হয়েছে বলো?
রজত?
কিছু না, স্যার।
রজত?
বাবা?
আরে, এই!
স্যার, কিছুই বুঝতে পারছি না, স্যার।
এটা এই গল্পের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।
আর আপনারা তো ভাই মাত্রই যোগ দিলেন।
তো চলুন সহজ অধ্যায়গুলো আগে করে ফেলি।
যেন আপনি বুঝতেও পারেন...
..আর গল্পটার প্রতি আগ্রহীও হয়ে ওঠেন।
তো বাচ্চারা, চলো শুরু করা যাক।
নিজেদের নোটবুক বের করো,
আজকের তারিখটা দাও..
..আর লিখো, অধ্যায়-১।
প্রথম আকর্ষণ
সান-সাইন কোচিং ক্লাস।
জুয়েলাহেরী, পাঞ্জাবীবাগ, পশ্চিম বিহার, বিকাশপুরী, জনৈকপুরী সকল জায়গা থেকে...
...একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর সকল মেধাবী শিক্ষার্থীরাই এখানে পড়তে আসে।
এমনটা আমি বলছি না...
...পরিসংখ্যান বলছে ভাই!
এবং এ হলো রজত।
সে-ও এখানেই পড়তে আসে,
পান্ডেজি'র বাইকে করে।
কী দরকার ছিল ফ্রাইড মোমোস নেয়ার?
সেঁদ্ধটা দু'মিনিটেই হয়ে যেত!
দেরিটা করিয়ে দিলি না!
আরে, ঐ বাঞ্চোদ কৌশল কিচ্ছু বলবে না।
প্যারা নাই, চিল।
আর এই গালিটা আমার উদ্দেশ্যেই ছিল।
যাই হোক, আমি প্রদীপ কৌশল।
এখানে রসায়ন পড়াই।
'মা দূর্গা'র জয়' ছাড়াও...
... খাতায় অনেক কিছু লিখতে হয়।
আরে, তোর প্রতিদিনের একই কান্ড।
আজকেও দেরি করিয়ে দিলি।
আবারও পুরো প্রশ্নের উওর লিখতে পারবো না।
ঐ শালা সায়েম আবারও ফার্স্ট হবে।
ভাই, এই চিকেন মোমোসগুলো একদম ফাটাফাটি!
আরে, ওগুলো চিকেন না, কুত্তা মোমোস।
তোর বাবা বলেছে আমায়, ওসবে কুকুরের মাংস দেয়া হয়।
পনির খেতে পারিস না?
আরে, চল তো তুই।
বাবা, রজত।
আবারও দেরিতে!
আমার কথা শোনো, ফ্রেন্ড সার্কেল বদলাও।
আর গৌরভকে বোলো...
ওহ্, পান্ডেজি, আসুন, আসুন!
সবাই স্বাগত জানাও তাকে।
কী ব্যাপার, পান্ডেজি?
আজ তো দেখে মনে হচ্ছে...
... বানর বাহিনীতে চান্স পেয়েই যাবে তুমি।
বাছা, বানরের দল তো বেরিয়ে পড়েছে।
তুমি তো এটাতেও দেরি করে ফেললে।
যাও, বোসো।
আর ফোন এখানে রেখে যাও।
আরে, প্রশ্ন তো নিয়ে যাও।
প্রশ্ন ছাড়াই উওর দিবে?
এতটা ব্রিলিয়ান্ট কবে হলে?
কোন প্রশ্ন?
সবগুলোই!
পরীক্ষা শেষ হলে!
আসলেই কী মোমোসে কুকুরের মাংস দেয়?
ভাই, সত্যি?
পরীক্ষার মাঝেও তুই কুকুরের মোমোস নিয়ে ভাবছিস?
ভাইরে, পিলাই আঙ্কেলের কুকুর, রক্সি, চুরি হয়ে গেছে...
ওকেই খেয়ে ফেললাম না তো?
খেয়ে ফেলেছিস তো না-কি?
বাবা!
কেউ কি তোমাদেরকে বলেনি?
খবরের পেপার পড়ার সময়ও আমার কান খোলা থাকে।
সবই শুনি।
দাঁড়িয়ে যাও আমার সোনামনিরা।
হ্যাঁ, দাঁড়াও।
স্যার, আসলে হয়েছে কী, ও আমাকে একটা প্রশ্ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল।
আমি তার দ্বিধা দূর করতে সাহায্য করছিলাম।
ওহ্, আচ্ছা! দ্বিধা?
ও তোমাকে জিজ্ঞাসা করছিল?
আর তুমি দ্বিধা দূর করে দিচ্ছিলে?
দেখি তো তোমার রসায়ন কেমন।
অসাধারণ!
ওহ্ হো, দেখুন সবাই। উনার রসায়ন দেখুন।
দেখে তো আমিই দ্বিধায় পড়ে গেলাম।
- আরে, কী যেন বলো তোমরা? L...O -'লোল'।
'লোল' হয়ে গেলো।
পান্ডেজি!
আহ্, এক্সকিউজ মি, স্যার?
বাছা, 2 মিনিট অপেক্ষা করো।
প্রথমত,...
এ পরীক্ষায় তো কোনো স্কেলের প্রয়োজন নেই।
তাই এটা আমার কাছেই থাক।
আর দ্বিতীয়ত...
তুমি এতই বুদ্ধিমান ছেলে,
ধন্যবাদ, স্যার।
তোমাকে বলছি না!
চিটিং করছো?
দেরিতে আসছো?
বাবা, ফেল করতে চাও না-কি?
দুঃখিত, স্যার।
বাবা, ভালো হয়ে যাও।
নাহলে যেই মোমোসের দোকানে ও তোমাকে প্রতিদিন নিয়ে যায়...
তার পাশে তোমাকেও দোকান দিতে হবে।
তারপর বসে বসে মোমোস খেয়ো!
আর আমাদেরকেও খাওয়াইও।
এতটুকু সন্মান তো দিবে স্যারকে না-কি?
হ্যাঁ, মা কী বলছিলে?
স্যার, গণিত ক্লাসে এক্সট্রা চেয়ার লাগবে।
ওয়ালিয়া স্যার পাঠিয়েছেন।
অবশ্যই, নিয়ে যাও।
উনাকে আমার তরফ থেকে হাই জানিও।
আচ্ছা, স্যার।
আর তুমি! কলার নীচে নামাও।
রসায়ন সব ধরনের প্রতিক্রিয়াকে নাম দিয়েছে।
যেমন বিয়োজন বিক্রিয়া...
প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া।
এবং আরও অনেক।
কিন্তু রজত যেই প্রতিক্রিয়াটা অনুভব করছিলো...
রসায়নে তার কোনো নামই নেই।
কারণ কেউ ভাই এখন পর্যন্ত এটা ঠিকভাবে বুঝে উঠতেই পারেনি।
তাহলে রজতের বুঝতে পারার তো প্রশ্নই আসে না।
ভাই বাদ দে না! সরি বলতে হবে না-কি?
তুই টেনশন নিস না।
এই কৌশল স্যারের পা আমি ভাঙ্গাবোই।
এখনই চারু ভাইকে ফোন লাগাচ্ছি।
এসে কৌশল স্যারের হোগা মেরে দিবে।
অফিসে থাকতে পারে, পরে ফোন করবোনি।
কী খবর আমার নন-মেডিকেল বন্ধুদের?
তুই জানিস এই বাইঞ্চুদ আজ পরীক্ষায় কী করেছে..?
আরে ভাই, তোদের ওসব...
বোরিং টেস্টের ব্যাপারে শুনবো না আমি।
No comments yet. Be the first to leave one.