The first 200 lines.
Sarah Iqbal Presents
ডার্কেস্ট পেরু
এতদিন যাবত এক রহস্যের চাদরে ঢাকা এক বিস্তৃত অনাবিষ্কৃত জনহীন প্রান্তর ছিল।
তারপর একদিন, আমার সহকর্মী অন্যান্য ভূবিজ্ঞানীদের দেওয়া নির্দেশমতে,
ঘর-সংসারের মায়া ছেড়ে,
আমি জলপথে নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায় যাত্রা শুরু করে দিলাম।
আমার সাথে খুব প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
মানচিত্র, শুষ্ক খাবার, মাঝারি আকৃতির ঘড়ি ও ট্রাভেল পিয়ানোর মতো
আর অবশেষে, ঘন বনাঞ্চলের ভেতর আমি দারুণ বিস্ময়কর কিছু আবিষ্কার করে বসলাম।
একটি অনাবিষ্কৃত ভালুক প্রজাতি।
জাদুঘরে সাজিয়ে রাখার মতো নতুন এক নমুনা।
ভেবে নিয়েছিলাম, আমার সময় ঘনিয়ে এসেছে। উপর থেকে ডাক চলে এসেছে।
কিন্তু ভালুকটা আমার জীবন বাঁচালো।
সে আমাকে পুরো জঙ্গল ঘুরিয়ে, নিজের দুনিয়ায় সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।
আর বিনিময়ে, আমি আমার জগতের কথা ওর কাছে তুলে ধরলাম।
ওটা... একটা টেলিস্কোপ আমার দাদার টেলিস্কোপ।
একটু সাবধানে।
ওটা সাবান। খাওয়ার জিনিস না।
আচ্ছা, এটা খেয়ে দেখবে নাকি? এটা হলো মার্মেলেড।
টোস্টের উপরে দিয়ে, স্যান্ডুইচের ভেতর, অথবা...
তুমি পান করেও খেতে পারো। এই তো, সাবাশ।
এটা হলো লন্ডন। আমি এখান থেকেই এসেছি।
লন-ডন
খাইছে!
এখন স্ট্রাট ফোর্ড-আপোন-এভোন বলো।
সময়ের সাথে, আমি ওদের বন্ধু হয়ে গেলাম, এমনকি ওদেরকে নতুন নামও দিলাম.
মেয়েটাকে আমার স্বর্গবাসী মায়ের নাম
আর ছেলেটাকে কোনো একবার বারে পরিচয় হওয়া অদ্ভুত কিসিমের এক বক্সারের নাম।
এভাবেই দেখতে দেখতে, আমার স্ত্রী ও মেয়ের কাছে ফিরে যাবার,
আর নিজের আবিস্কারের কথা পুরো দুনিয়াকে জানানোর সময় হয়ে এলো।
গুড বাই, লুসি। গুড বাই, পাস্তুজো।
যদি কোনোদিন লন্ডন আসো, আমার দরজা তোমাদের জন্যে খোলা থাকবে।
আমি ওদের কাছ থেকে এত কিছু জেনেছি
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ওরা কি আমার থেকে কিছু জানতে পেরেছে?
মার্মালেড!
পেকে গেছে! পেকে গেছে! পুরোপুরি পেকে গেছে!
লুসি আন্টি!
পাস্তুজো আঙ্কেল!
তোমরা চিন্তাও করতে পারবে না...
গুড মর্নিং, লুসি আন্টি।
গুড মর্নিং, আমার দস্যি ছেলেটা।
হঠাৎ এখানে ঝড়ের মতো আছড়ে পড়লে কেন?
কিন্তু, আঙ্কেল পাস্তুজো... ওগুলো পেকে গেসে।
আজকে মার্মেলেড ডে!
মার্মেলেড ডে!
এটা বরং আমি পরি। মার্মালেড ডে।
ওহ, তোমরা দুজন শান্ত হও।
তাড়াহুড়োর কিছু নেই,
সাবধানে ওঠো।
আর তোমার থাবা আমার টুপি থেকে দূরে রাখবে।
আচ্ছা।
মার্মেলেড!
একটা স্যান্ডুইচেই একটা ভালুকের পুরো একদিনের প্রয়োজনীয়...
সকল পুস্টিগুণ রয়েছে।
- দারুণ। - হুম।
তোমার আন্ট লুসির রেসিপি সেই অভিযাত্রীর রেসিপি থেকেও ভালো।
লন্ডনে যাবার সময় অবশ্যই আমাদের একজার নিয়ে যেতে হবে।
লন্ডন?
ও কথা আর বলো না! আমরা ৪০ বছর ধরে এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করছি।
একদিন যাবো, পাস্তুজো।
কিন্তু তোমরা অন্য কোথাও যাবে কেন?
আমরা তো এখনি দুনিয়ার সবচাইতে ভালো জায়গায় আছি, তাই না?
হায় খোদা।
তোমাকে না সাবধান হতে বলেছিলাম।
আর আমার টুপি ফেরত দাও।
- হ্যাঁ, আঙ্কেল। কিন্তু... - কোনো কিন্তু নয়।
এখন আমাকে একটু সম্মান দেখানোর সময় এসে গেছে।
ব্যাপারটা লজ্জাজনক,
তবে খেতে ঠিকই সুস্বাদু।
লন্ডনে আগত ভিনদেশিদের জন্য বন্ধুত্বসুলভ উপদেশ। অধ্যায় তিন।
গোধূলি বেলায় যদি রাস্তায় কারো সাথে দেখা হয়ে যায়,
- তাদের বিনীতভাবে শুভেচ্ছা জানাবে। - গুড ইভিনিং।
কথাকে সামনে আগানোর জন্য, আবহাওয়া নিয়ে কথা বলবে।
কী দারুণ জীবন, তাই না?
ফ্যাক্ট: লন্ডনবাসীদের " বৃষ্টি পড়ছে" বলারও ১০১টি উপায় আছে।
- শেষ স্যান্ডুইচটা খেয়ে ফেলি? - ওহ, না, ওটা আমার দরকার।
একজন বুদ্ধিমান ভালুক সবসময় ইমারজেন্সির জন্য,
তার টুপিতে একটা মার্মেলেড স্যান্ডউইচ রাখে।
এই সাধারণ নিয়মাবলী মেনে চললেই, লন্ডনকে নিজের বাড়ির মতোই আপন মনে হবে।
- লুসি আন্টি? - ভুমিকম্প!
নিরাপদ আশ্রয়ে যাও!
ওহ!
- লুসি আন্টি! - যেতে থাকো!
তুমি ঠিক আছো তো?
আঙ্কেল পাস্তুজো!
আঙ্কেল পাস্তুজো!
নিচু হও!
আঙ্কেল পাস্তুজো?
পাস্তুজো?
আঙ্কেল পাস্তুজো?
লুসি আন্টি,
আমরা এখন কী করবো?
লন্ডন না পৌছানোর আগে বের হবে না।
কিন্তু... তুমি আসবে না?
আমার মতো বুড়ো ভালুকের জন্য এতদূর ভ্রমণ করাটা কষ্টকর।
আচ্ছা, তাহলে তুমি কি করবে?
ওহ, তোমাকে আমার কথা ভাবতে হবে না।
অবসর প্রাপ্ত ভালুকদের আশ্রমে আমি নিরাপদেই থাকব।
কিন্তু তোমার তো এখনো অবসরের সময় হয়নি।
তোমাকে লন্ডনে নতুন বাসা খুঁজে নিতে হবে।
কিন্তু... আমি তো ওখানে কাউকে চিনিই না। ওরা যদি ভালুক পছন্দ না করে?
তুমি কি জানো, অভিযাত্রীর দেশে একবার যুদ্ধের সময়
হাজারো শিশুদের নিরাপত্তার জন্যে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
গলায় নাম ট্যাগ ঝুলিয়ে তাদের স্টেশনে ফেলে আসা হয়েছিল,
আর অপরিচিত ব্যক্তিরা তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে, নিজেদের পরিবারে ঠাঁই দিয়েছিল।
অতিথিকে কীভাবে আপ্যায়ন করতে হয় তা ওরা ভুলে যায়নি।
সাবধানে থেকো, সোনা। ভদ্রতা বজায় রেখে চলবে।
আর সাবধানে থেকো।
হুম?
ওহ।
আচ্ছা, নিয়ে আসছি।
আমি নামিয়ে রাখছি।
হাই।
লন্ডন।
ওহ, মনে পড়েছে, ভদ্রতা বজায় রাখতে হবে।
গুড মর্নিং অনেক কড়া রোদ, তাই না?
কী আজব!
কেমন আছেন আপনি? আমি একটা নতুন বাসার খোঁজ করছি আর...
হ্যালো?
মাফ করবেন...
কেউ কি বলতে পারবেন... আমি নতুন বাসা কোথায় পাবো?
কেউ কি জানেন?
যাত্রীরা সবসময় নিজেদের মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখবেন।
নামবিহীন মালামাল নিয়ে আবর্জনার সাথে ধ্বংস করে ফেলা হবে।
ওরে!
ওহ, হ্যালো।
খিদে পেয়েছে?
আমারও পেয়েছে।
কিন্তু আমার কাছে এটুকুই আছে। আর এটা শুধু ইমারজেন্সির জন্য রেখেছি।
ওহ, আচ্ছা, অল্প একটু নাও।
আরে, ভুল করে ফেললাম মনে হচ্ছে।
দেখো, আমার ইমারজেন্সির অংশ থেকে তোমাদের আর দিতে পারবো না।
তোমরা সবাই চলে যাবে, প্লিজ? আমাকে ভদ্র দেখাতে হবে।
- এটা অনেক বোরিং ছিল। - তোমার এরকম লাগলে আমি দুঃখিত,
এই সপ্তাহটা আমার ছিল। আর আমি ভিক্টোরিয়ান উল এক্সপেরিয়েন্স ভালোই উপভোগ করেছি।
আমরা পুরো পরিবার একসাথে কিছু সময় তো কাটিয়েছি।
- আর আমরা উল সম্পর্কেও অনেক কিছু জেনেছি। - তোমার কি ভালো লাগেনি, সোনা?
আমার নাম জুডি, আর তুমি লেকে ঝাঁপ দেওয়ার আগ পর্যন্ত সবকিছু ভালোই ছিলো।
ওটা গোসলের পুকুর ছিল। ওখানে তো এটাই করতে হয়।
- নগ্ন হয়ে তো আর না! - আসলে, আমি জামা পরতে ভুলে গিয়েছিলাম।
জোনাথন, এভাবে লাফিও না।
শিশুদের শতকরা ৭ ভাগ দুর্ঘটনা লাফঝাঁপ থেকেই হয়ে থাকে।
- আমি যদি বড় হয়ে নভোযাত্রী হই... - তুমি মোটেও নভোযাত্রী হবে না।
তোমার যা ইচ্ছে, তুমি তাই হতে পারবে, সোনা।
- ওরে, উদ্ভট বিপদ দেখছি! - মানে?
নিচের দিকে তাকিয়ে থাকো। ওখানে ভালুকের মতো কিছু একটা আছে।
-সম্ভবত কিছু বিক্রি করছে। - গুড ইভিনিং।
১৫২
না । ধন্যবাদ।
১৫৩
ওহ, ডিয়ার।
১৫৪
নিশ্চয়ই কিছু একটা ভুল করছি।
১৫৫
এই যে, হ্যালো!
১৫৬
মেরি!
১৫৭
ওহ, হ্যালো!
১৫৮
রড এর সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে । তাই না ?
১৫৯
ওহ...
১৬০
হ্যাঁ।
১৬২
কিছু মনে কোরো না, কিন্তু তোমার কি বাসায় থাকার কথা না ?
১৬৩
ওহ হ্যাঁ, থাকা উচিত। কিন্তু আমি এখনো ভেবে পাইনি কীভাবে বাসা খুঁজে পাবো।
১৬৪
- তোমার বাবা মা কোথায়? - আমি ছোট থাকতেই মারা গেছেন।
১৬৫
- এই যে শুরু হলো। - আমার শুধু আপন বলতে এক আন্টিই আছেন।
১৬৬
- উনি তাহলে কোথায় ? - ডার্কেস্ট পেরুতে।
১৬৭
- অবসরপ্রাপ্ত ভালুকদের আশ্রমে। - হ্যাঁ, তা তো অবশ্যই।
১৬৮
তুমি এখানে কীভাবে এলে ?
১৬৯
-একটা লাইফ বোটে করে। - ভালো তো!
১৭০
আর মার্মালেড খেয়েছি। আপনি কি জানেন যে, ভালুকেরা মার্মালেড পছন্দ করে?
১৭১
ভালুকেরা যে কথা বলতে পারে, এটাই তো জানতাম না !
১৭২
আমি অবশ্য খুবই দুর্লভ ভালুক।
১৭৩
আমার প্রজাতির বেশি আর টিকে নেই।
১৭৪
তাহলে তুমি এখন কী করবে ?
১৭৫
ভাবছি, ঐ ডাস্টবিনে রাতটা কাটিয়ে দেবো।
১৭৬
এই তো চাই! যাইহোক...
১৭৭
- বাবা! - আমরা কি তোমাকে সাহায্য করতে পারি ?
১৭৮
ওহ, হ্যাঁ। অবশ্যই। যদি আর কি আপনার কোনো সমস্যা না হয়।
১৭৯
No comments yet. Be the first to leave one.