The first 200 lines.
বঙ্গানুবাদক: এফআর সজিব
সবসময় একই চ্যানেল দিয়ে রাখে!
-চ্যানেল পরিবর্তন করে না কখনো! -যথেষ্ট হয়েছে!
-খাবার নষ্ট করো না, ঠিক আছে? -এখানে।
পিছনে যাও!
-আমুধা! -তোমার আরো লাগবে?
আমুধা!
-ম্যাম। -এদিকে আসো।
প্লেট রেখে যাও, আমি ধুয়ে রাখছি।
এটা আমার কাছে দিয়ে যাও।
বেশিরাত পর্যন্ত খেলো না।
তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চলে যেও, ঠিক আছে?
-কেন? -কেউ একজন খুব গুরুত্বপূর্ণ মানুষ....
....কাল তোমার সাথে দেখা করতে আসবে।
-আমার সাথে? -হ্যাঁ।
কে আসবে, ম্যাম?
কাল যখন সকালে ঘুম থেকে উঠবে তখন দেখতে পারবে। এখন ঘুমাতে যাও।
সাবধানে খেলো! নয়তো পড়ে গিয়ে ব্যথা পাবে।
দিদি! আমার যদি বাসায় বাবা না থাকে তাহলে আমার সাথে কে আসবে দেখা করতে?
বাবা মা নেই কিন্তু কাকা, চাচা, মামা থাকতে পারে।
আর তাদের বউ ও তো আছে, তোমার চাচী, জেঠী বা মামী, উনারা একসাথে দেখতে আসতে পারেন।
বলতে ভুলো না যেন।
আমি সবাইকে বলেছি। তোমার দাদা দাদী আসলে কী হবে?
যখন কালকে উনারা দেখা করতে আসবে, ভালো কিছু জামা কাপড় পড়ে দেখা করতে যেও।
-আছে তোমার কাছে? -হ্যাঁ, আছে।
হাতটা একটু আলগা করুন, স্যার।
এই সবগুলো গুণো।
বিশ্রাম নিন, স্যার।
-পুনরায় চেক করে কন্টেইনার গুলোর সব তথ্য নাও। -ঠিক আছে।
স্যার?
স্যার?
আমরা একটা টাইল ভেংগেছি।
টাইলের মধ্যে ১০০% বিশুদ্ধ কোকেইন লুকানো ছিলো, স্যার।
-কত কিলো হবে? -প্রায় এক টন, স্যার।
৯০০ কিলো!
নিশ্চিতভাবে বলা যায় এর বাজারমূল্য ৮০০ কোটির উপরে হবে, স্যার।
নিঃসন্দেহে এখন পর্যন্ত সবথেকে বড় মাদকের চোরাচালান।
বয়েজ!
সূর্যদোয়ের আগে এই ড্রাগের আসল মালিকানা কে বা কয়জন হবে তা জানা যাবে না।
তাই যতক্ষণ পর্যন্ত নারায়ণ বা ওপিজি প্রধানের থেকে কোন তথ্য না পাচ্ছি, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ব্যাপারে যাতে কেউ না জানে।
-তোমাদের পরিবারও যাতে না জানে। -জি, স্যার।
শুধুমাত্র থিরুর ফোন চালু আছে।
-যোগাযোগ করার একমাত্র লোক সে। -জ্বী, স্যার।
আমার নাম্বার ছাড়া অন্য কারোর কল ধরবে না।
-জ্বী, স্যার। -ঠিক আছে।
আনবু, আনবু। বিশ্বাস করো, আনবু।
গাড়ি গেইট পার হবার সাথে সাথেই আমি সংকেত দিয়েছি।
আমার কোনো দোষ নেই। পুলিশ কি করে চলে আসলো আমি কিছুই জানিনা, আনবু।
-আমার কথা শোন। আমার পুরো কার্গো হাতছাড়া হয়ে গেছে! -আমি কিছুই জানিনা....
আর তুই পাগলের মতো একই কথা বিলাপ করতেছিস!
যে কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারো, আনবু।
স্বীকার কর।
-ছেড়ে দেবো তোকে। -আমার ছেলের কসম খেয়ে বলতেছি, আনবু।
কীভাবে এসব হয়ে গেলো আমি কিছুই জানিনা।
আমাকে বিশ্বাস করো, আনবু।
গাড়িটা গেইট ক্রস করার সাথে সাথেই আমি সংকেত দিয়েছিলাম।
আমাকে বিশ্বাস করো, আনবু।
আমার কোনো ক্ষতি করোনা, আনবু।
আমার কোনো দোষ নেই, আনবু।
বিশ্বাস করো আনবু! গাড়ি ক্রস করার সাথে সাথেই আমি সংকেত দিয়েছিলাম।
আনবু আছে ওখানে?
-ওকে বলো, ভাই। তুমি তো আমাকে জানো, তাইনা? -আনবু।
ওকে বলো, ভাই। প্লিজ।
কথা বল।
কে বলছেন?
কী হয়েছে? পুরো কোকেইন ধরা পড়েছে বলে হতাশ হয়ে আছো?
কে আপনি?
তোমার কোকেইন কোথায় আছে সেটা আমি জানি।
আদাইকালামের ছোট ভাই তুমি, তাইনা?
তোমার বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলতে হবে, লাইন দাও ওকে।
সে কথা বলতে পারবে না। আপনার মনের মধ্যে কোনো লেনদেনের ব্যাপার থাকলে আমাকে বলতে পারেন।
পুলিশ কীভাবে এসে গেলো আমি জানি না,ভাই। কসম করে বলছি।
আমাকে যেতে দাও, ভাই। আমি কিছুই করিনি।
আমি বলবো তোমার কোকেইন কোথায় আছে।
পুলিশ যাতে সেখানে কোনো ঘাপলা না করে সেজন্যে আমাকে বিশ কিলো দিতে হবে।
বাজারে বিশ কিলোর দাম কতো সেটা জানেন আপনি?
আমি জানিনা বাজারে বিশ কিলোর দাম কতো।
কিন্তু ৯০০ কিলোর দাম কতো সেটা ভালো করেই জানি!
আমি তো একা এতকিছু করতেও পারবো না।
মাদক বিভাগ, ফরেস্ট বিভাগ, আই ই জির অফিস!
সবাইকেই হাতে আনতে হবে।
একটু ঝুঁকি তো আছেই।
অনেক লোকের কাছে খেসারত দিতে হবে।
বিশ কিলোর কথা যদি ঠিক থাকে, তাহলে আমাদের কথা হবে।
ওকে বলো, ভাই।
বলো ভাই।
গাড়ি চলে যাওয়ার পর সে সংকেত দিয়েছিল, ভাই।
-হ্যাঁ, দিয়েছি। -সত্যি?
দিয়েছিল সে, হাহ?
বিশ কোনো ব্যাপার না। যা লাগে আপনি নিয়েন।
কিন্তু আমি ওই শিকারীর ব্যাপারে জানতে চাই, যে আমার ড্রাগ আটক করেছে।
আজকে রাতেই ওকে মারবো।
আদাইকালামের এরিয়াতে ঢোকার দুঃসাহসের ফল সম্পর্কে পুলিশের জানা চাই!
পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এর জানা চাই!
আশেপাশের কেউ কল উঠাচ্ছে না, আনবু।
ভাইয়ের ফোনও বন্ধ বলতেছে।
ভাই যেহেতু এখনো আসলো না, কিছু একটা হয়েছে তাহলে।
পাল পান্ডি, সবাই কি আইজির গেস্ট হাউজে পৌছে গেছে?
স্যার, না স্যার। এখনো না।
তারা একজন একজন করে ঢুকাচ্ছে। জ্বী, স্যার।
তুমি কি বিশ্বাস করো, এক রাতে কেউ লাখপতি হতে পারে?
আমি বুঝতে পেরেছি, স্যার।
সেই রাতটাই হচ্ছে আজকের রাত!
যদি কাজটা করতে পারো, লাইফ সেট করে দেবো।
এক ইঞ্চিও ভুল হলে, তারা তোমার পরিবারকে মেরে রাস্তায় আনবে।
-দেখে নিও। -বুঝতে পেরেছি, স্যার। ভুল করবো না।
-কী? -এক মিনিট।
কী সমস্যা তোর?
আগেরবার বলেছি বুঝতে পারিসনি তুই?
বারবার কল করে কেন বিরক্ত করতেছিস আমাকে?
বিজয়! স্কোয়াডের হেড!
তার স্কোয়াডে আছে চারজন।
থিরু, সুধাকর, জোসেফ, কুমারান।
ভোর হবার আগেই ওদের পাঁচজনকেই মেরে ফেলবো।
খুটিনাটি সব পাঠান আমাকে। হ্যালো?
জ্যালো? লাইনে আছেন, স্যার?
শুধু পাঁচজনকে মারলেই হবে না।
-মানে? -তোমার গ্যাং এ এক গুপ্তচর আছে।
-কোনো সম্ভাবনাই নেই। ওরা সবাই.... -আছে বললাম তো।
গত দুই বছর ধরে কেউ একজন বিজয়ের কাছে তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এভাবে কেন তোরা আমাকে বিরক্ত করিস?
স্যার! স্যার! স্যার!
তাদের কাছে পুরো ৯০০ কিলো কোকেইন আছে।
'গোস্ট' এর ব্যাপারে কোনো তথ্য পেয়েছো?
স্যার, আমি কী বলতেছি আর আপনি কী বলতেছেন!
যেই তথ্যটা আপনাকে দিলাম সেটার জন্যে তারা চোখের পলকেই একজনে মেরে দিলো।
শ্বাস নিতেও সমস্যা হচ্ছে। ভয়ে আমি শেষ, স্যার।
-আমার কথা শোনো, আজাজ। -আমি আর এটা করতে পারবো না, স্যার।
-কাছের কোনো থানায় গিয়ে সারেন্ডার করবো। -এই গাধা!
এটা তোমার কাছে নতুন কিছু নাকি?
আন্ডারকভারে ২৬ মাস যাবত কাজ করছো তুমি।
আদাইকালামকে দেখেছো কখনো?
তারা কেউ কি জানে যে সে দেখতে কেমন?
তারা কেউ জানে না, তাই না? আমরা ৯০০ কিলো আটক করেছি!
সে অবশ্যই বাইরে বেরিয়ে আসবে।
একটা মাত্র শেষ সুযোগ, আজাজ।
এই রাতটার জন্যে আমরা দুই বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছি।
-কতজন মারা গেছে হিসাব আছে কোনো? -স্যার।
-প্লিজ স্যার, আমার কথা শুনুন। -আজাজ, শোনো।
খুঁজে পেয়েছেন সে কে?
এত তাড়াতাড়ি সেটা কীভাবে করবো?
তাদের কাউকে ট্র্যাক করতে হবে, বা কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
এটা এত সহজ না।
ওকে ধরা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কী বলো তুমি?
আপনি ঠিক বলেছেন। আমার দলের কুলাংগার কে খুঁজে বের করুন।
কেটে দুইভাগ করে ফেলবো।
এই! কল দিয়ে দেখতো, সে শংকরের কাছে নাকি?
-ঠিক আছে, ভাই। -গতকাল যারা এসেছিল, কাউকে ছাড়বি না।
-সবাইকে এখানে নিয়ে আয়। -সবাই তো বাইরে গেছে। ওকে ধরে আনতে।
বুঝতে চেষ্টা করুন, স্যার।
-প্লিজ, স্যার। -আজাজ!
আমি বুঝতেছি সেখানে কি হচ্ছে।
যখনি পারো আমাকে রিপোর্ট করবে। এটা আমার আদেশ।
আমি পারবো না স্যার....
আমি পরে কল দিচ্ছি।
-সম্পথ। -হ্যাঁ, আনবু।
আমাদের মধ্যে কেউ একজন পুলিশের লোক।
তোর কাউকে সন্দেহ হয়?
না, আনবু।
-এরকম কেউ থাকতেই পারে না। -আছে রে।
সে আমাদের দলে থেকে গোয়েন্দাগিরি করছে।
-কী করবো তাহলে এখন? -শহরে থাকা আমাদের গ্যাং এর সবাইকে ডেকে পাঠা।
আমি ওই পাঁচজন পুলিশকে জানি।
আজকে রাতেই ওদের সবার মাথা কেটে স্টেশনে পাঠাবো।
ঠিক আছে, আমি দেখতেছি সব।
-এই, চন্দ্রা? -হ্যাঁ, সম্পথ।
-সবাইকে ডাক এখানে। -দাঁড়া! সবাইকে একত্র করতেছি।
ওটা ফেলে এখানে আয়।
একসাথে সবাইকে বসতে হবে। জলদি আয় সবাই।
ভাই, বাদামী রংয়ের একটা গাড়ি, নাম্বার টিএন-৪৫-কেএ-৯০৭২, এখান দিয়ে যেতে দেখেছেন?
এক মিনিট।
হ্যাঁ, স্যার। দেখেছি।
-কয়টা নাগাত গিয়েছে? -সন্ধ্যা ৭ টার দিকে।
থামাও, থামাও।
মোটর বাইকের কেইসের ফাইলগুলো কোথায়?
ইন্সপেক্টর সকাল সকাল সেটা দেখতে চেয়েছেন বের করে পূরণ করতে পারবে?
ফিলাপ করেছি, স্যার। ওখানেই আছে ওটা।
ঠিক আছে,আমি দেখে নেবো।
-আমি তাহলে যাচ্ছি,স্যার। -ঠিক আছে।
নমস্কার,স্যার।
আমার নাম নেপোলিয়ন। তিরুনেলভেলি জেলা থানার কন্সটেবল।
মি. মানিকাভেল এর সাথে দেখা করতে এসেছি। নতুন বদলি হয়ে এসেছি।
কোন স্টেশনে আমাকে পোস্টিং দেয়া হয়েছে সেটা জানতে এসেছি।
ওহ, আপনিই সেই লোক। উনি এই ব্যাপারে বলেছেন।
-এই রাতের বেলা এসেছেন কেনো আপনি? -ভাবতে পারিনি এতোটা দূরে,স্যার।
কাল থেকে কি আমাকে ডিউটি দেয়া হবে?
এই যে! কে আপনি?
পুলিশ স্ট্যাশনে এসে মানুষকে থাপ্পড় দিচ্ছেন!!
-এটা কি তোর বোন নাকি? -ঠিকই অনুমান করেছে!!
তুই হাসতে থাক, আমি এসে তোর দাত ভাংছি দাড়া!!
তোমরা স্টুডেন্ট বলেই আমি কিন্তু চুপ করে আছি।
-স্যার? -কী হয়েছে?
ওরা আমার কলেজেই পড়ে। আমার ফ্রেন্ড।
-ওদেরকে নিতে এসেছিলাম.... -নিতে এসেছিলে....?
এটা স্কুল পেয়েছো নাকি? তুমি কি জানো ওরা কি করেছে?
মদ খেয়ে রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে গিয়ে উচ্চস্বরে গান গাচ্ছি লো আর নাচছিল।
ওখানকার কন্ট্রোল রুম থেকে অভিযোগ করায় ওদেরকে ধরে নিয়ে এসেছি।
ওখানে বসো। ইন্সপেক্টর আসলে ওদেরকে নিয়ে যেও।
-ও ইন্সপেক্টর কে চিনে,স্যার.... -সবাই এটাই বলে! বসো ওখানে!
কোনায় গিয়ে বসি। আয়,বোন।
No comments yet. Be the first to leave one.