The first 166 lines.
মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রেডরিখ এমানুয়েল লাইব্রেরির অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়...
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জন, আহত ৩৪ জন।
নিখোঁজ ব্যাক্তিদের খোঁজ এখনো চলছে।
উদ্ধারকৃত কয়েকজন ব্যক্তির সাথে আমরা কথা বলেছি। তাদের মুখ থেকেই শুনুন...
কী ঘটেছে বুঝে ওঠার আগেই, চারিদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে...
ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে না পেরে মনে হচ্ছিল, এখানেই বুঝি আমার জীবনের ইতি ঘটবে...
কেউ একজন আমাদের বাঁচিয়েছে!
হ্যাঁ, একজন এশীয় লোক।
সে কি ঠিক আছে?
সে দরজার কবজায় গুলি করে, দরজাটা ভাঙতে সাহায্য করে।
সে না থাকলে, আরো অনেক মানুষ মারা যেত।
কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, পেট্রোল ব্যবহার করে এই আগুন লাগানো হয়েছে...
এবং যত শীঘ্রই সম্ভব, তারা এই ঘটনার পেছনের মূল হোতাকে খুঁজে বের করবেন বলে জানিয়েছেন।
The Hell In His Eyes
সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বইকে মানবজাতির জ্ঞান আর সম্পদ বলা হলেও...
সেগুলো পুড়ে গেলে, তাদের আর কোনো মূল্যই থাকেনা।
রাইফেলটা থেকে কোনো আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে?
সেটা পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ায়, মনে হয়না তা থেকে কোনো আঙুলের ছাপ পাওয়া যাবে...
কিন্তু রাইফেলটা সেই জাপানিজ লোকের কেনা মাউসার SR-93 মডেলেরই...
...যাকে আমরা ডা. তেনমা বলে মনে করছি।
কিন্তু সবকিছু এতো বাজেভাবে পুড়ে যাওয়ায়...
দোষীর কাছে পৌঁছানোর কোনো সূত্র খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে।
অপরাধ যেখানে ঘটে, সেখানে কোনো না কোনো প্রমাণ থাকেই।
এইতো মেঝেতে একটা বোতাম পড়ে আছে।
পরীক্ষা করতে ল্যাবে পাঠিয়ে দিন।
কেউ এখানে ছিল।
নিজের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ ফেলে না রেখে, কেউ কোনো জায়গা থেকে চলে যেতে পারেনা।
যদি কেউ তা পারে, তবে সে মানুষ নয়।
তাহলে, ধরে নিন যে আমরা কোনো প্রমাণ খুঁজে পেলাম না...
তাহলে সে...
একটা দানব।
পৃথিবীতে দানব বলে কিছু নেই।
তাই এমন কোনো অপরাধীও নেই, যাকে ধরা অসম্ভব।
মি. শুবাল্টের সাথে কি দেখা করা যাবে?
আহ, তিনি এখন আই.সি.ইউ তে আছেন।
আগুনে তার শরীর খুব একটা পুড়েনি..
কিন্তু তার বয়স তো অনেক।
তাই কাউকে তার সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছেনা।
চলুন, যাওয়া যাক।
হাহ?
না, অসম্ভব!
আমি আপনাকে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিতে পারিনা!
তার তো জ্ঞান ফিরেছে, না?
আমরা বেশিক্ষণ সময় নেবো না।
মি. শুবাল্ট প্রচন্ডরকম মানসিক আঘাত পেয়েছেন!
তার এখন প্রচুর বিশ্রামের প্রয়োজন!
ছেলেটা কে?
ও মি. শুবাল্টের ছেলে।
তোমার বাবার সাথে যা হয়েছে, আমি তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
আমি লুঙ্গে, BKA থেকে।
আম, আমি একটু আগেও পুলিশকে বলেছি, কিন্ত...
আমি চাই আপনারা একজনকে খুঁজে বের করুন...
ইনি কে?
এই লোকটা তোমার বাবাকে খুন করার চেষ্টা করেছিল।
তুমি সত্যিই ইনাকে চেনো না?
না, চিনিনা।
কিন্তু ও হয়তো চিনবে...
ও?
হ্যাঁ, আমি সেটাই বলতে চাচ্ছি!
দয়াকরে ইয়োহান লিবার্টকে খুঁজে বের করুন!
ইয়োহান... লিবার্ট...
ইয়োহানের আমার বাবার সাথে লাইব্রেরির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল!
আমি সব জায়গায় খোঁজ করলাম। কিন্তু, কোথাও ওকে পেলাম না...
ইয়োহান...
ইয়োহান লিবার্ট।
বুঝেছি।
আমি শীঘ্রই ওকে খোঁজার ব্যবস্থা করছি।
এই রুমেই ইয়োহান লিবার্ট ভাড়া থাকত।
যদিও, প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই সে এখান থেকে চলে গেছে...
বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্রেও ওর নাম উল্লেখ করা নেই।
ও আসলে কোনো ছাত্রই ছিলনা।
ওফেনবাখে তার মা-বাবার সাথে যোগাযোগ করেছেন?
সেখানেও কেউ নেই।
আর শুনেছি, প্রতিবেশীদের সাথেও তাদের খুব একটা ভালো সম্পর্ক ছিল না।
এই ঘরে কি কোনো আঙুলের ছাপ খুঁজে দেখব?
সম্ভবত কিছু পাওয়া যাবেনা।
নেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই...
এই প্রথমবার...
এমন একটা ঘর দেখছি, যেখানে কেউ থাকত কিন্তু কোনো চিহ্ন ফেলে যায়নি।
আমি ইয়োহান...
আমি ইয়োহান লিবার্ট...
আমি কে...?
আমি এখানে ছিলাম।
কিন্তু আমার কোনো অস্তিত্ব নেই।
দানব?
তোমার খুব একটা চোট লাগেনি দেখে নিশ্চিন্ত হলাম, নিনা।
তোমাকে দুঃশ্চিতায় ফেলার জন্য দুঃখিত, লট্টে।
হ্যাঁ, আমি প্রচন্ড চিন্তায় ছিলাম!
যদিও এক এক করে সবাইকে বের করা হচ্ছিল, আমি তোমাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছিলাম না।
তাই আমি চিন্তায় পড়ে গেছিলাম।
কিন্তু এসব আঘাত নিয়েও ঐ আগুনের মধ্যে থেকে বের হতে পেরেছ, দেখে অবাক হলাম।
ফায়ার ব্রিগেডের লোকেরা পর্যন্ত চমকে গেছিল।
কারণ একজন আমাকে সাহায্য করেছিল...
কেউ সাহায্য করেছিল?
তুমিই তো সবার শেষে সেখান থেকে বের হলে।
একজন জাপানিজ লোক...
আশেপাশের কোনো হাসপাতালে কি কোনো জাপানিজ ডাক্তার ভর্তি আছে?
কয়েকজন জাপানিজ লোককে দেখেছি, কিন্তু...
শুনেছি তারা সকলেই ব্যবসায়ী।
তা হতে পারেনা...
কারণ আমি যখন পর্দার নিচে চাপা পড়ে গেছিলাম, তিনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন...
নিনা...
নিনা!
নিনা!
তিনি অবশ্যই ওখানে ছিলেন...
আমি শুনেছি, আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঠিক আগে...
আপনি সেখানে উপস্থিত সকলকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন, ঠিক না?
আপনি কেন সেটা বলেছিলেন?
আপনি আগেই কিছু টের পেয়েছিলেন...
ভুল কিছু বলেছি, মি. শুবাল্ট?
আম, আপনি কি দয়াকরে...
আর, আপনি এই লোকটাকে চেনেন?
কাছে ধরলে দেখতে পাচ্ছেন?
এই লোকটাই আপনাকে খুন করার চেষ্টা করেছিল।
অনেক প্রত্যক্ষদর্শী তাকে লাইব্রেরিতে দেখেছেন।
তাদের ভাষ্যমতে, এই লোকটা...
অন্যদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিল...
যথেষ্ট হয়েছে!
থামুন এবার!
উনার কিছু মনে পড়লে, দয়াকরে সাথে সাথে আমাদের জানাবে।
ওহ, আরেকটা ব্যাপার।
আপনি কি জানেন, আপনার সেক্রেটারি ইয়োহান লিবার্ট কোথায় আছে?
দয়াকরে, যান এখন!
মনে হচ্ছে উনার অবস্থা পুরোই খারাপ।
এই বয়সে এমন একটা আঘাত পাওয়ার পর, এমনটাই হওয়ার কথা সম্ভবত...
মনে হয় অর্থনীতির বাদশা, বায়ার্নের ভ্যাম্পায়ারের শেষ দিন ঘনিয়ে এসেছে।
না...
তিনি একদম সজ্ঞানে ছিলেন, সেটা তার চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল।
চলুন, অন্যদের সাথে কথা বলা যাক।
ভিক্টিমদের লিস্ট আছে আপনার কাছে?
ওহ, হ্যাঁ।
কিন্তু, এসব কী হচ্ছে?
আমরা যাকে তেনমা মনে করছিলাম, সকলে বলছে সে তাদের জীবন বাঁচাচ্ছিল।
এটা কি তার আরেকটা সত্ত্বা?
নিনা...
নিনা ফর্তনার...
এই নামে বিশেষ কিছু আছে নাকি?
নিনা ফর্তনার আজ সকালেই ছাড়া পেয়ে গেছেন।
পুলিশের তালিকায় থাকা ঠিকানাটাও নকল।
আর হাসপাতালে দেওয়া ঠিকানাটা?
আমি গিয়ে চেক করে দেখছি।
নিনা ফর্তনার...
হাইডেলবার্গে খুন হওয়া, ফর্তনার দম্পতির মেয়ে।
বর্তমানে নিরুদ্দেশ।
এতোটা কঠিন বিষয় নিয়ে আমার সাথে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ।
গত ১০ বছর ধরে ঘটে চলা, এসব ঘটনার সম্পর্কে তেনমা যা বলেছে, তার সাথে তোমার বর্ণনা মিলে যাচ্ছে।
তেনমা?!
হ্যাঁ।
আমি কিছু কেস নিয়ে তদন্ত করার সময় ওর দেখা পাই।
কিন্তু সাথে সাথেই এখান থেকে চলে গেছে...
ইয়োহানকে মারার জন্য।
সেদিন, লাইব্রেরিতে...
আমি ভেবেছিলাম, তেনমা ইয়োহানকে মেরে ফেলতে চলেছে...
তাই আমি তাড়াতাড়ি করে ওখানে পৌঁছাই।
কিন্তু, সেখানে তো আগুন লেগে গেল।
ওখানে ইয়োহান কিংবা তেনমা ছিল কি-না তাও আমরা জানিনা...
আমার কথা শোনো, নিনা।
ইয়োহানের পেছনে ছোটা বাদ দাও।
তুমি একা তার বিরুদ্ধে লড়তে পারবে না।
আমি জানি, পুলিশ আমাদের খুব একটা সাহায্য করতে পারবে না।
আমাদেরকে সতর্কতার সাথে ওর সাথে লড়তে হবে।
সত্য একদিন সবার সামনে উন্মোচিত হবেই।
চিন্তা কোরোনা!
আমরা তোমার সাথে আছি!
তুমি নিশ্চয় ক্লান্ত।
No comments yet. Be the first to leave one.