The first 170 lines.
রুহেনহাইম...
এটাই।
থাম বলছি, লুডভিগ!
এমন করে চেঁচাচ্ছিস কেন?
“রুহেনহাইম”
সাইকেলটা আবার নষ্ট হয়ে গেছে?
হ্যাঁ, বারবার শুধু চেইন পড়ে যাচ্ছে।
কেন এটা আস্তাকুঁড়ে পড়ে ছিল, আমার আগেই সেটা বোঝা উচিত ছিল।
আমার সাইকেলটাকে তেমন বাজে মনে হচ্ছেনা।
যখনই আমি সাইকেলটা চালাই সবাই বলে, “দেখ! দেখ! একটা চলন্ত জঞ্জালের স্তুপ!”
জঞ্জালটাকে আবার আরেকটা জঞ্জাল চালাচ্ছে...
ওদের কথায় কান দিওনা।
এটা একটা পাঁচ গিয়ারের সুপার সাইকেল।
আবার একে সারানোর চেষ্টা করে দেখি।
মনে হচ্ছে আপনার কোনো কাস্টমার এসেছে।
ওহ, হ্যাঁ। একটু আগেই একটা কল পেয়েছিলাম।
শুনুন, আপনিই কি একটা রুম রিজার্ভ করেছিলেন?
হ্যাঁ। আমার নাম লুঙ্গে।
ওহ, মি. লুঙ্গে।
স্বাগতম।
এতো কম সময়ের মধ্যে একটা রুমের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন দেখে খুশি হলাম।
আসলে, সবগুলো রুম খালিই পড়ে আছে।
এখনো অফ-সিজন চলছে।
এখানে সারাবছরই অফ-সিজন লেগে থাকে।
এখন কেবল ঐ বয়স্ক দম্পতিই এখানে আছেন।
তার স্বামীর পায়ে চোট লেগেছে...
...তাই সম্ভবত তাদের ঘোরাঘুরি করতেও সমস্যা হচ্ছে।
আমি আপনার ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছি।
আচ্ছা, ভিম।
৩০২ নাম্বার রুমে নিয়ে যাও।
ঐ রুম থেকে চারপাশের দৃশ্য কেমন?
এই হোটেলে ঐ রুম থেকেই সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।
এখানে আপনার ব্যাগ রাখলাম।
আমারও ওটাকে কোনো জঞ্জাল মনে হয়নি।
বেশ ভালো সাইকেলই মনে হচ্ছিল।
বি.কে.এ থেকে ইন্সপেক্টর লুঙ্গে?
এমন মফস্বল শহরে আপনি কী করছেন?
ভাবছিলাম যে, দরকার পড়লে কী পরিমাণ পুলিশ ব্যাকআপ আপনি এখানে চাইতে পারবেন।
ব্যাকআপ?
রাজ্য সদর দপ্তরে কল করলে, এক ঘণ্টার মধ্যেই এখানে বেশ কয়েকজন অতিরিক্ত অফিসার এসে পড়বে।
কিন্তু আমার মনে হয়না এমন মফস্বল শহরে সেসবের দরকার হবে বলে।
আপনার এখন থেকে এই শহরে কারা কারা আসছে সেটা নজরে রাখা উচিত।
ভয়ানক কিছু একটা ঘটে যাওয়ার আগে।
দারুণ! চল চল!
ভালো চলছে!
আরো জোরে!
গিয়ার চেঞ্জ!
আহঃ...
কী খবর?
এই জঞ্জালটা এখনো চলছে?
এই জঞ্জালটাকে আমি দুচোখে দেখতে পারিনা!
থামো!
থামো!
গাধার বাচ্চা!
জঞ্জাল কোথাকার!
তুমি ঠিক আছ?
আপনি একা?
একা একা ঘুরতে এসেছেন?
হ্যাঁ।
অফিসের কাজের জন্য?
না, নিজের কাজে।
ওহ, এই ব্যাপার।
এভাবে নিজেকে একলা লাগে না?
না, আমি এসবে অভ্যস্ত।
আপনার পরিবারের কেউ নেই?
হ্যাঁ, আছে।
আমার মেয়ের একটা ছেলেও আছে।
ওহ, আপনার নাতি আছে!
নাতি-নাতনিরা ঈশ্বরের আশীর্বাদ।
ওরা আমাদের নিয়ে কতটা ভাবে।
দেখুন! আমি এখন আমার নাতিকেই একটা চিঠি লিখছিলাম।
চিঠি এক আশ্চর্য জিনিস।
সামনাসামনি যেসব কথা বলা যায়না, চিঠিতে সেসব লিখে ফেলা যায়।
আপনিও একটা চিঠি লিখছেন না কেন?
আমার নাতির জন্য চিঠি...
কিন্তু, আমি জানিও না কী লিখব...
আপনার যা খুশি।
আমি যদি আঁকতে পারতাম...
শুনছেন।
আমি কি রাতে এখানে থাকতে পারি?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
ওহ, দারুণ!
একটা সুন্দর পিকনিক উপভোগ করছিলাম...
কিন্তু আমি হারিয়ে গেছি।
শেষ পর্যন্ত যখন এই শহরে পৌঁছালাম...
ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
যাইহোক, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মনে হচ্ছে এই শহরে লোকজন খুব একটা আসেনা।
গুলির শব্দ?
আমি কোনো গুলির শব্দ শুনিনি।
না, আমি সত্যি বলছি।
এই শহরে কারো কাছে বন্দুক নেই।
কারো কাছে থেকে থাকলে, ঐ মাতালের কাছেই থাকবে।
সে গুলি চালালে, আরো জোরে শব্দ শোনা যেত।
তাছাড়াও, ওর কাছে বন্দুক থাকলেও কাউকে গুলি করতে পারত না।
ধ্যাৎ! আবার হেরে গেছি!
তোমার কারণে আমার ভাগ্যে শনির দশা লেগে আছে। তাই আমি হারলাম!
ধুর!
চুপ করো!
আমার কোনো দোষ নেই!
তোমারই এসব লটারি-ফটারি জেতার ধান্দা বাদ দেওয়া উচিত।
লুডভিগ!
লুডভিগ!
আমি আমার লুডভিগকে কোথায় খুঁজে পাচ্ছিনা!
আপনি একটু আগেই গুলি চলার আওয়াজ শুনলেন না?
যদি আমার লুডভিগ...!
যদি আমার সোনাটা...!
প্লিজ শান্ত হোন, মিসেস. হিলমান।
কোনো গুলি চলেনি।
প্লিজ শান্ত হোন।
কোনো সমস্যা?
আসলে, উনার কুকুর হারিয়ে গেছে।
ওহ, ঈশ্বর।
বেশ চিন্তার বিষয়।
আচ্ছা, পুলিশকে কল করে দেখি।
আমি এর মধ্যেই পুলিশকে জানিয়েছি!
ঐ লোককে দিয়ে কাজ হবেনা।
ও পুলিশ অফিসার হলেও, ওর উপর ভরসা করে থাকা যাবেনা!
ও তো নিজেই কুকুরকে দেখতে পারেনা।
আমি কি কুকুরটাকে খুঁজে দেখব?
আপনার কোনো অসুবিধা হবেনা, মি. নয়মায়ার?
না।
আমি শহরটা ঘুরে দেখতেই যাচ্ছিলাম।
হ্যাঁ, আমি মিসেস. হিলমানের কুকুরকে খুব ভালো করে চিনি।
যে ফালতু কুকুরটা সবসময় ঘেউঘেউ করে, তার কথা বলছেন না?
হ্যাঁ, কুকুরটা হারিয়ে গেছে।
দেখেছেন কুকুরটাকে?
না।
আচ্ছা, ধন্যবাদ।
ওহ, আরেকটা কথা।
ইদানিং কোনো সন্দেহজনক লোককে শহরে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন?
হ্যাঁ, দেখেছি।
আপনাকে।
কুকুর?
ভাবলাম, আপনি এখানে থাকতে এসেছেন।
দুঃখিত।
আমি ভার্সটেক হোটেলে থাকছি।
শালার ব্যাটা আমার সব কাস্টমার মেরে দিচ্ছে।
মানে এই হোটেলে এখন কেউ থাকছে না?
কেউ না।
ওর কারণে আমি এমন নির্জন জীবন কাটাচ্ছি।
তাই ঐ পাগলা কুত্তাটা আশেপাশে থাকলে সাথে সাথে টের পেয়ে যেতাম।
আজ কুকুরটাকে ঘেউঘেউ করতে শোনেন নি?
না।
কিন্তু সম্ভবত...
গুলি চলার মতো একটা শব্দ শোনা গেছিল, তাই না?
হয়তো কোনো পাগল ক্ষেপে গিয়ে কুত্তাটাকে গুলি করে দিয়েছে।
ওহ, হ্যালো। মিস্টার...
লুঙ্গে, মি. নয়মায়ার।
ওহ, মি. লুঙ্গে।
চলেছেন কোথায়?
আমি কুকুরটাকে খুঁজছি।
ওহ, আচ্ছা।
কোনো সূত্র খুঁজে পেলেন?
না।
তাহলে খুঁজতে থাকুন।
মদ!
আমাকে মদ এনে দে!
না, বাবা! তুমি আর মদ খাবেনা!
তাড়াতাড়ি আমাকে মদ কিনে এনে দে!
আমার কাছে কোনো টাকা নেই!
আমি জানি, হোটেলে কাজ করে তুই টাকা পাস।
হয়তো একটা বোতল কিনতে পারব...
ভিম।
কোনো ব্যাপার না।
ওটা তোমার উপার্জিত টাকা।
মনে হচ্ছে আজ বেশ বাজেভাবে মেরেছে।
এসো। আমার হোটেলে ফিরে চলো।
অনেক মজার!
খুব কম মানুষকে এমন আগ্রহ নিয়ে খেতে দেখেছি।
No comments yet. Be the first to leave one.