The first 176 lines.
আচারটা তো সত্যিই খুব সুস্বাদু!
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
এটা স্থানীয় লিঙ্গনবেরির হোমমেড আচার।
ওহ, হোমমেড?
আমাকে যাদের যাদের আচার ভালো লাগবে তাদের এটা দেখাতে বলা হয়েছে।
সে-ই এই আচার বানিয়েছে।
ওহ, এসব তাহলে ইনিই বানিয়েছেন?
ওর নাম কনরাড।
দক্ষিণের পাহাড়ে একটা জায়গায় প্রচুর লিঙ্গনবেরি ফলে।
একটা সময়, ও পুরো জায়গাটাই কিনে ফেলে।
আর এই আচারটা এতো মজার যে...
কেউ তাতে আপত্তি করেনি।
হ্যাঁ, ও মানুষটাও বেশ মজার।
আমার গুটিকয়েক বন্ধুদের মধ্যে ও একজন।
ছবি দেখানোর এই বুদ্ধিটাও ওরই।
সম্ভবত ওর মনে হয়েছে যে ওর ছবি দেখালে লোকে আবার আচার কিনতে চাইবে।
তবে তো এই আচারের জন্য আমাদের আবার এখানে আসতে হচ্ছে।
ঠিক বলেছ।
ও এটা শুনে নিশ্চয় খুব খুশি হবে।
ওরা কি সত্যিই এই শান্তিপূর্ণ শহরে আক্রমণ করতে চলেছে?
"A Peaceful Home"
আক্রমণ?
সেটা ছাড়াও আরো অনেক উপায় আছে।
এমন ঘটনাও আছে, যেখানে কেবল একটা বন্দুকের কারণে পুরো শহর ধ্বংস হয়ে গেছে।
১৯৫৮ সালে সোয়াইফেলস্টাট, নিডারসাক্সেনে।
সেখানে কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
লোকজন তাদের প্রতিবেশীকেই সিরিয়াল কিলার বলে সন্দেহ করতে শুরু করে...
সাধারণ দৈনন্দিন বিভিন্ন ব্যাপারেও শহরের লোকেরা ভয় পেতে শুরু করল।
গণ হিস্টিরিয়ার কবলে পড়ে...
একজন বাসিন্দা "আত্মরক্ষার" জন্য কেনা বন্দুক দিয়ে...
তার প্রতিবেশীকে গুলি করে দেয়।
এরপর তাদের থামানোর আর কোনো উপায় থাকল না।
শহর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো...
আর তারা হাতের নাগালে যা পেল, সেটাই তাদের অস্ত্র হতে উঠল।
বাসিন্দারা একে অপরকে হত্যা করল...
আর সেখানে একজনও বেঁচে রইল না।
এটা হতে পারেনা...
এই শহরেও কি এসব ঘটতে চলেছে?
এমন কিছু শুরু হওয়ার আগেই আমাদেরকে তা থামাতে হবে।
না।
এসব সম্ভবত ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
আমাদেরকে তোর টাকাগুলো দে!
আমি জানি তোর কাছে টাকা আছে!
তাড়াতাড়ি দে আমাদের!
না, এটা...
এটা তোর মাতাল বাপের মদ কেনার টাকা, তাই তো?
বেশি মদ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো না!
আমরা তার উপকারই করছি!
চল চল, ওখানে খেতে যাই!
হ্যাঁ, চল।
শোনো, খোকা।
তুমি ওদের ঘৃণা করো, তাই না?
তুমি ওদের এতোই ঘৃণা করো যে ওদের খুন করে ফেলতে ইচ্ছা হয়, তাই না?
কোথায় যাচ্ছ তুমি?
কনরাডের সাথে কথা বলতে।
কথা বলতে?
একটু আগেই যখন কফির দোকানে গেলাম...
তুমি দেখলে না দোকানদার রালফ আর বাকি কাস্টমারেরা আমাদের দিকে কীভাবে তাকিয়ে ছিল?
কারণ ওরা সচরাচর আমাদের দুজনকে একসাথে দেখেনা।
না, আমরা লটারিতে ২০ কোটি মার্কস জিতেছি জানতে পারলে ওরা কী করে বসে কে জানে?
ক-কিন্তু...
আমি বলছি যে, এভাবে ভয়ে ভয়ে থাকার চেয়ে...
ওর সাথে কথা বললেই ভালো হয়!
এটা ঠিক যে, মি. কনরাড হয়তো জানে যে আমি লটারি জিতে গেছি।
কিন্তু, আমরা এখন কী করব?
আমি ওকে টাকা খাওয়াবো।
ওভাবে ওর মুখ বন্ধ রাখব।
কিন্তু যদি কনরাডের লোভ বেড়ে যায়...
আর আমাদের কাছে আরো টাকা চাইতেই থাকে?
সেটা হলে...
তখন আমরা কী করব?
আমি...
আমি জানিনা!
এখানেই ও লিঙ্গনবেরি তুলতে আসে না?
সোনা...
মি. কনরাড খুব একটা বাজে লোক না, তাই না?
হ্যাঁ...
অবশেষে আমাদের ভাগ্য ফেরার পর...
ও তার ফায়দা লুটতে আসার মতো লোক নয়, তাই না?
কী গো...
কী হলো?
ও-ওগো!
বোলোনা যে... তুমি...!
আমি না!
এটা কী করলে তুমি!
বললাম না, আমি করিনি!
তাহলে কে এমন কাজ করল?
আমি কীভাবে বলব?
বন্দুক কেনার পর থেকে এখনো ব্যবহারই করিনি!
চুপ কর, বাল...
কুত্তাটা আমার মেজাজ বিগড়ে দিচ্ছে...
অসহ্যকর...
আজ খুব খোশমেজাজে আছ মনে হচ্ছে।
ভালো কিছু ঘটেছে নাকি?
অবশেষে সে দেখা দিয়েছে!
কে?
যে সুন্দর ছেলে আমাকে এই শহর থেকে বের করে নিয়ে যাবে!
মদ...
আমার মদ চাই...
বাল!
পুরো শহর...
আমার উপর হাসছে...
বালামার!
আমার মদ চাই...
তুমি যেটা চাও...
এটাই সেটা, তাই না?
তোমার ছেলেও একটা নিয়ে নিয়েছে।
গুলির আওয়াজ...
কুকুরটা আর ঘেউঘেউ করছে না...
কী দারুণ ছিল!
কী সুন্দর!
মি. লিপ্সকি।
আপনি ফ্রানৎস বোনাপার্টার ছেলে, তাই না?
আমাকে প্লিজ বলুন, আপনার বাবা কোথায় আছে।
হাতে বেশি সময় নেই।
তাড়াতাড়ি কিছু না করলে...
ভয়ানক কিছু ঘটে যাবে।
আপনি জানেন আপনার বাবা কোথায় আছে, তাই না, মি. লিপ্সকি?
আপনি নিনাকে দেখে এই পুতুলটা বানিয়েছেন, তাই না?
আপনাকে এখানে পাওয়া যাবে সেটা নিনাই আমাকে বলেছে।
নিনা বলেছে?
থাক...
পর্দা খোলাই রাখুন।
আচ্ছা।
আমি কতদিন ধরে এখানে এভাবে পড়ে আছি?
ওসব নিয়ে ভেবো না।
তোমার আরো বিশ্রামের দরকার।
ধন্যবাদ।
আমি জানি...
আপনিই এতোদিন ধরে আমার দেখাশোনা করছেন।
চিন্তা করবেন না।
আমি এখন ঠিক আছি।
আমি আর নিজেকে মেরে ফেলার কথা ভাবব না।
ডা. রাইখবাইন আর ডিটার জলদিই এখানে এসে পড়বে।
আর আপনি?
আমাকে যেতে হবে।
কোথায়?
জানিনা।
আপনি বেশকিছু কাগজপত্র যোগাড় করে সেগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলেন, তাই না?
কিছু জানতে পারলেন?
আমি ঠিক আছি। প্লিজ আমাকে বলুন।
আমি প্রাগের সাবেক সিক্রেট পুলিশ সদস্যদের...
এবং জেনারেল উলফের কিছু লোকদের...
যতটা সম্ভব তথ্য যোগাড় করতে বলেছিলাম।
ফ্রানৎস বোনাপার্টার বিষয়ে?
হ্যাঁ।
পুরো রহস্যের জালে আবৃত এক লোক...
কিন্তু আমি তার সম্পর্কে বেশ কিছু জিনিস জানতে পেরেছি।
জার্মানিতে জন্মানো এক চেকোস্লোভাকিয়ান।
সম্ভবত “ফ্রানৎস বোনাপার্টা” নামটা ভুয়া।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর...
অনেক জার্মানিতে জন্মানো চেককে তাদের মাতৃভূমি বোহেমিয়া থেকে বিতাড়িত করা হলেও...
তার পরিবার সেখানেই থেকে গিয়েছিল।
কিন্তু চেকোস্লোভাকিয়ায় সমাজতান্ত্রিক সরকারে তার ভূমিকা কী ছিল সেটা অস্পষ্ট।
আমি জানতে পেরেছি, সে একজন চেক মহিলাকে বিয়ে করেছিল...
আর তাদের একটা ছেলেও হয়েছিল।
মনে হচ্ছে, তার ছেলে ৬০ এর দশকের মাঝামাঝিতে শুরু হওয়া তার বই পড়া সভার ছাত্রদের মধ্যেই একজন।
“বোনাপার্টার ছেলে প্রাগে আছে।”
আমার মনে হয় পিটার চাপেক শেষ মুহূর্তে এই কথাটা দিয়ে সেই ছেলেকেই ইঙ্গিত করছিলেন...
ছবিটা অনেক পুরোনো হলেও...
আমি এর একটা কপি সংগ্রহ করতে পেরেছি।
এখানে ৬০ এর দশকে বই পড়া সভার সকল বাচ্চার ছবি আছে।
সম্ভবত সবার বামের এই ছেলেটাই...
“একজন সাধারণ ছাত্র।”
তাকে বই পড়া সভা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল...
কারণ তার মধ্যে কোনো বিশেষ প্রতিভা ছিল না।
তুমি এসব জানো?
বোনাপার্টার আর তাকে দরকার ছিল না।
আমি নিশ্চিত, প্রাগে যার সাথে আমার দেখা হয়েছিল, ইনিই সে।
সে কি জানে, তার বাবা কোথায়...
সে কি জানে ফ্রানৎস বোনাপার্টা কোথায়?
জানিনা।
কিন্তু সে-ই আমাদের একমাত্র ভরসা।
ভয়ানক কিছু ঘটে যাওয়ার আগেই তাড়াতাড়ি আমাদের কিছু করতে হবে।
ভয়ানক কিছু?
আমি বুঝতে পারছি...
No comments yet. Be the first to leave one.