Le prime 128 righe.
পৃথিবী নামক গ্রহটি এত এত দর্শনীয় জিনিসে ভরপুর,
যে জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসগুলো সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়।
কিন্তু কাছ থেকে তাকান...
দেখবেন এখানে রয়ে গেছে পুরো এক অনাবিষ্কৃত জগৎ।
এমন এক দুনিয়া যেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হিরো...
আর ছোট্টো ছোট্টো ভিলেনদের...
অসাধারণ সুপারপাওয়ারের প্রয়োজন হয়...
দানবীয় প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকার জন্য।
:.:.: TINY WORLD :.:.: EPISODE 02
লাতিন আমেরিকার জঙ্গলগুলোতে,
পৃথিবীর যেকোনো স্থানের চেয়ে বেশি
ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাস।
পাতার জঞ্জালের মাঝে, এক নতুন জীবনের শুরু হচ্ছে।
এই স্ট্রবেরি ডার্ট ফ্রগটি তার ব্যাঙাচিকে পিঠে করে বহন করছে।
এটা প্রায় একটা চালের সমান।
নিচের এই জঙ্গল তার বাচ্চার জন্য ভয়াবহ বিপজ্জনক।
এর বেড়ে ওঠার জন্য তাকে একটা নিরাপদ স্থান খুঁজে বের করতে হবে।
ওই ওপরে, এই ৪০-মিটার উচুঁ জঙ্গলের গগণস্পর্শী গাছের ওপরের শাখাগুলো।
আঙুরের সমান আকারের একটা ব্যাঙের জন্য...
এটাই মাউন্ট এভারেস্ট।
আঠালো পা তাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু একটা পদস্থলনই প্রাণঘাতী হতে পারে।
গাছগুলোতে তার প্রচুর প্রতিবেশী রয়েছে।
একদম গোড়া থেকে...
আগা পর্যন্ত।
একটা গাছেই ৫,০০০ ভিন্ন প্রজাতির ছোটো ছোটো
প্রাণী থাকতে পারে।
অবশেষে, ক্যানোপির উপরিভাগে, যেখানে সূর্যের কিরণ পৌঁছায়।
একটা ব্রোমেলিয়াড গাছ তার বাচ্চার বেড়ে ওঠার জন্য
পারফেক্ট পেন্টহাউজ পুল হিসেবে কাজ করে।
কিন্তু এত বেশি সংখ্যক ছোটো প্রাণী খাদ্য এবং স্থানের জন্য প্রতিযোগিতা করায়,
জঙ্গলের জীবন অনিশ্চিত।
কেবল একজন সত্যিকারের বিশেষজ্ঞই এখানে বেঁচে থাকতে সক্ষম।
"JUNGLE (জঙ্গল)" অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
পরিচিত হোন পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো বানরের সাথে...
পিগমি মারমোসেট।
একটা পূর্ণবয়স্ক বানর আপনার হাতের তালুতে এটে যাবে।
এত ক্ষুদ্র আকারের ফলে কোনটা বন্ধু, কোনটা শত্রু বা কোনটা খাবার তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে।
কিন্তু ঠিক তাদের পায়ের নিচেই
আছে একটা খাদ্যের উৎস।
ধারালো দাঁতের সাহায্যে তারা বাকলে গর্ত করে...
ছোটো ছোটো কূপ সৃষ্টি করে যা সুস্বাদু মিষ্টি রসে ভরে যায়।
একটা বড়ো গাছে, এরকম ১,০০০ এর বেশি কূপ থাকতে পারে।
একটা বর্ধমান পরিবারের জন্য যথেষ্ট।
ভালো ব্যাপার। দলে নতুন সদস্য যোগ হচ্ছে।
প্রত্যেকের আকার একটা পিং-পং বলের সমান।
মারমোসেটরা প্রায় সবসময় জমজ সন্তানের জন্ম দেয়।
বাবা-মা দুজনই ভাগাভাগি করে বাচ্চা লালনপালন করে, এমনকি বড়ো ভাই-বোনরাও মাঝে মাঝে তাতে যোগ দেয়...
যখন তারা মারামারিতে ব্যস্ত না থাকে।
এই পকেট-সাইজের প্রাইমেটদের জীবনধারণের একটা উপায় হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতা।
যেমনটা গাছের মাঝখানে আড্ডা দেওয়াটাও।
নিচে মারাত্মক বিপজ্জনক পরিস্থিতি...
আর ওপরে ভীড় খুব বেশি।
মারমোসেটদের তুলনায় ৬০ গুণ বড় আকারের হাউলার বানরের রাজত্ব ওপরে।
এই ক্যানোপিতেই জঙ্গলের ৮০% প্রাণীর বসবাস।
জঙ্গলের মেঝেতে, জীবন আরও সংগ্রামময়।
সূর্যের আলো নিচে পৌঁছায় না বললেই চলে, তাই খুব বেশি কিছু জন্মাতেও পারে না।
এই পাইন্ট-সাইজের অ্যাগুটি ওপর থেকে পড়া বস্তুর ওপর নির্ভর করে।
বৃষ্টি জঙ্গলের জীবনীশক্তি।
প্রতি বছর প্রায় ৩ মিটার বৃষ্টিপাত হয়।
প্রতিটি ফোঁটা ছোট্টো প্রাণীদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
বারিধারা ব্যাঙাচির পুলকে ভরপুর রাখে।
কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কোনো ভালো জিনিসই ভালো নয়।
গাছ আর বাকলের শুষে নেওয়া পানির ফলে পুরনো গাছগুলোর ভর প্রচন্ড বৃদ্ধি পায়।
মূষলধারে বৃষ্টি হালকা মাটি ধুয়ে নিয়ে যায়।
দানবীয় গাছগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঝড়-ঝঞ্ঝায় টিকে থাকে...
কিন্তু একদিন...
এরকম আকারের একটা গাছের পতনের ফলে...
জঙ্গল জীবনে অপূরণীয় ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
স্ট্রবেরি ডার্ট ফ্রগটি বেঁচে গিয়েছে।
কিন্তু তার ব্যাঙাচি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
আর একটা ফায়ার-বেলিড গ্রাউন্ড স্নেক সেটা টের পায়।
মায়ের কিছুই করার নেই...
আবার নতুনভাবে শুরু করা ছাড়া।
কারো পৌষমাস, কারো সর্বনাশ।
পাতা-কাটা পিঁপড়াদের আর গাছ বেয়ে উঠতে হচ্ছে না।
পাতাগুলো তাদের তুলনায় কয়েকগুণ বড়ো।
কিন্তু প্রতিটি পিঁপড়া তার ওজনের দশগুণ ভর বহন করতে পারে।
আর আশি লক্ষ পিঁপড়ার একটা কলোনি এরকম একটা গাছকে
মাত্র কয়েকদিনে পত্রশূন্য করে ফেলতে পারে।
এই পতিত দানব আরও নানারকম পাতাখাদকদেরও আকৃষ্ট করে।
দুর্ভাগ্যবশত, মারমোসেটরা পাতা খায় না।
আর একটা বৃহৎ রসালো গাছ হারানো একটা বিশাল ক্ষতি।
কিন্থ এই পিচ্চি গ্রেমলিনদের আশ্চর্যজনক এক শিকারী দিকও রয়েছে।
তাদের স্প্রিং-লোডেড পা তাদেরকে তিন মিটার পর্যন্ত তুলে দিতে পারে।
বাঁকানো থাবা মিনি গ্র্যাপলিং হুকের মতো কাজ করে।
আর বাকল-চাছা দাঁতগুলো কীটপতঙ্গের ক্ষেত্রেও সমান কার্যকর।
পড়ে থাকা ডালপালার জটলার মাঝে শিকার করা এই পিচ্চি বানরদের জন্য খুব সহজ।
এরা হাতের নাগালে পাওয়া প্রায় যেকোনো কিছুই খায়।
কিন্তু সব জিনিস একরকম নয়।
অনুকরণের এক অসাধারণ প্রদর্শনী।
এই শুয়োপোকার বিষাক্ত সাপের রূপধারণ এতটা নিখুঁত যে...
এটা ভয়ঙ্কর।
শত শত বছর ছায়ায় থাকার পর,
হঠাৎ বনের মেঝে সূর্যের আলোর দেখা পেয়েছে।
সুপ্ত বীজসমূহ আস্তে আস্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে থাকে।
শুরু হয় আলোর জন্য নতুন প্রতিযোগিতা।
আরোহী আর দ্রাক্ষালতা শীঘ্রই বেড়ে ওঠে...
সূর্যের আলোর জন্য লড়াইয়ে অন্য সব চারাগাছকে ছাপিয়ে যায়।
শীঘ্রই পতিত দানব ছেয়ে যায় নতুন উদ্ভিদের আবরণে।
আর শূণ্যস্থান রূপান্তরিত হয় সবুজ কাননে।
কিন্ত এটা স্বর্গ নয়।
হামিংবার্ডরা কাগজের মতো হালকা।
আকারের এই দৈন্যতা তারা পুষিয়ে নেয় তাদের আগ্রাসনের মাধ্যমে।
কারো কারো ছোরার মতো ঠোঁট, এমনকি দাঁতও আছে।
সবই ফুলের দখল নিয়ে লড়াইয়ের জন্য।
প্রতি কয়েক মিনিট অন্তর হামিংবার্ডকে নতুন করে জ্বালানি নিতে হয়।
পালকযুক্ত জিহবার মাধ্যমে, তারা সেকেন্ডে ২০ বার মধু শোষণ করে।
আর তাদের দ্রুত কাজ সারতে হয়।
প্রতিযোগিতা নিরন্তর।
কিন্তু ব্যাপারটা এরকম হওয়ার দরকার নেই।
হেলিকোনিয়ার অর্ধচন্দ্রাকৃতির ফুলগুলো থেকে মধুপান করা
অধিকাংশ হামিংবার্ডের পক্ষেই অসম্ভব।
কিন্তু গ্রিন হার্মিটের আছে লম্বা, বাঁকানো ঠোঁট।
এটা তাকে শান্তিতে মধুপানের সুযোগ করে দেয়।
বেশ, প্রায়।
একটা পিনের মাথার চেয়েও ছোটো,
এই ফুলের পোকাগুলো হেলিকোনিয়ার মধুপান করে প্রায় শুকিয়ে ফেলেছে।
পরবর্তী ফুলে পৌঁছানোর জন্য, তাদের একটু লিফট প্রয়োজন।
তাদের আকারের তুলনায়, তারা প্রায় চিতার মতোই দ্রুতগামী।
হামিংবার্ডের ঠোঁট বেয়ে ওপরে উঠে...
এর নাকের ছিদ্রে লুকিয়ে থাকে...
আর পরবর্তী ফুলে পরিবহনের জন্য প্রস্তুত হয়।
কাননবিথী যখন অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়,
বনের মেঝে আবারও অন্ধকারে ঢেকে যায়।
এরকম স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক বেড়ে ওঠে...
আর পতিত গাছসমূহের অবশিষ্টাংশ পচিয়ে ফেলে।
এখানে তাজা খাবার খুঁজে পাওয়া দারুণ কষ্টকর।
No comments yet. Be the first to leave one.