The first 103 lines.
পৃথিবীটা এতটাই সমৃদ্ধশালী যে,
ছোটো ছোটো জিনিসগুলো চোখ এড়িয়ে যাওয়া সহজ।
কিন্তু ভালো করে দেখলেই,
চোখে পড়বে এক অদেখা জগত।
যে পৃথিবীতে ছোট্ট হিরো,
আর ক্ষুদ্র দানবদের,
অসম্ভব শক্তির প্রয়োজন পড়ে,
বড়ো শক্তির প্রতিকূলে বেঁচে থাকার জন্য।
গ্রামাঞ্চল বদলে যাচ্ছে।
...পরাগবাহীদের।
অধিক চাষাবাদ মৌমাছি সংখ্যা হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নির্দিষ্ট একটা ফসলের সারি এখন জমিন ঢেকে রাখায়,
বন্য জীবনের জন্য সুযোগ কম থাকে।
কিন্তু কয়েকটা জায়গা আছে,
যেখানে চিরাচরিত পদ্ধতিতে চাষ করা হয়।
তেমন বিশেষ কিছু মনে না হতে পারে, কিন্তু এটা পৃথিবীর অন্যতম দুর্লভ একটা আবাস।
জীবনের গুঞ্জনে মুখর
ইউরোপীয় তৃণক্ষেত্র।
এটা কয়েক মিলিয়ন ক্ষুদ্র প্রাণির আশ্রয়,
আর হার্ভেস্ট মাউসের জন্য আদর্শ বাড়ি।
তৃণক্ষেত্রের অন্য বিষ্ময়গুলোর মতোই, ওর হাতে অঢেল কাজ
কিন্তু সময় অনেক কম।
গ্রীষ্মের শেষে, এই সবকিছু
কেটে ফেলা হবে।
অনুবাদে - মিস্টার ডেন্টিস্ট
বসন্ত তৃণক্ষেত্রে প্রাণসঞ্চার করে।
টেনিস বলের সমান আকারের এই বাসাটা
হার্ভেস্ট মাউসের জন্য স্বর্গ সমতুল্য।
কিন্তু ওর ঘুমানোর সময় নেই।
খড়ের জন্য তৃণক্ষেত্র কেটে ফেলার আগেই
ওকে একটা পরিবার বড়ো করতে হবে।
ওয়াইন কর্ক আকারের হার্ভেস্ট মাউস
ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র রোডেন্ট প্রজাতি।
কিন্তু এর খিদে অনেক বেশি।
বছরের এই সময়ে, জমিনে খাবারের পরিমাণ কম।
তাই ওকে তৃণক্ষেত্রের অনেকটা জুড়ে খাবারের খোঁজ করতে হবে।
আর তাকে অবশ্যই অন্য রোডেন্ট প্রজাতির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
ওর থেকে ৮গুণ বড়ো
ব্যাংক ভোল।
দ্রুতগামী।
আর ঘাসের মধ্যে চলাচলের জন্য নিজস্ব রাস্তা আছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়াতে হার্ভেস্ট মাউস আরও স্বতন্ত্র খাবারের খোঁজ করে।
শক্তিশালী পা আর গ্রাহী লেজের সাহায্যে বানরের মতো চড়তে পারে।
পাতলা ডাটার উপর ভর করে এমন সব
স্থানে যেতে পারে, যেখানে ভোল গতবছরের
বেচে থাকা বীজগুলো খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে পারে না।
কিন্তু এখানে.. ও প্রকাশিত।
চিল হলো রোডেন্ট শিকারে বিশেষজ্ঞ।
বাতাসে ভেসে থেকে তৃণক্ষেত্রে লুকানো ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ীকেও ধরে ফেলতে পারে।
ভোলের তৈরি ঘাসের টানেল কিছুটা আড়াল তৈরি করে।
কিন্তু মানুষের থেকে ৩গুন ধারালো দৃষ্টি দিয়ে একটা চিল
অল্প নড়াচড়াও ধরে ফেলতে পারে।
হার্ভেস্ট মাউসকে কেবল
চুপচাপ থাকতে হবে।
চিলের খাবারের ৯০% আসে ভোল থেকে।
মাঝেমধ্যে জয় হয় দুর্বলের।
এপ্রিলে, বসন্তের প্রথম বিষ্ময় প্রকাশিত হচ্ছে।
নেকটার আর পোলেন কণায় ভরপুর সর্পমুখী ফ্রিটিলারি ফুল।
এই একটা তৃণক্ষেত্রেই ৫ লক্ষ আছে।
আর এরা শীতনিদ্রা থেকে জাগ্রত কিছু
প্রাণিকে গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন প্রদান করে।
হলুদ লেজ ওয়ালা রানী ভ্রমর।
এখনো উড়ার মতো উষ্ণতা আসেনি।
উষ্ণতার জন্য ওর খাবার লাগবে।
রানী ভ্রমর ফ্রিটিলারি ফুলগুলোর পরাগায়নে দারুণভাবে সহায়তা করে।
বদলে, এই ফুলগুলো রানী ভ্রমরের বাতাসে উড়ার জন্য প্রয়োজনীয়
সকল নেকটার যোগান দেয়।
সে দিনে ৬,০০০ ফুলে ভ্রমণ করবে
হাতে থাকা বিশাল কাজের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ মজুদ সংগ্রহ করতে।
কয়েক সপ্তাহ পর, এই রানীকে শতশত ভ্রমরের আর্মিকে বড়ো করতে হবে।
গতবছরের সকল বীজ শেষ হয়ে গিয়েছে।
ক্ষুধার্ত হার্ভেস্ট মাউস খাবারের খোঁজে মাটির নিচেও ভ্রমণ করবে।
কিন্তু ভোলের গর্তে কী লুকিয়ে আছে জানার কোনো উপায় নেই।
সংবেদনশীল শুঁড় ওকে অন্ধকারে চলতে সাহায্য করে
সুক্ষ্ম ঘ্রাণের টানে আরও গভীরে যাওয়ার সময়।
প্রোথিত সম্পদ।
ভোলের ফেলে যাওয়া বীজের খনি।
আর,
একটা পুরুষ হার্ভেস্ট মাউস।
ওর গন্ধে পাগল।
এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাত ওর পরিবার শুরু করার সুযোগ।
শূন্য গর্ত বেশিদিন ফাঁকা থাকে না।
মাটির এক মিটার নিচে রানী ভ্রমর কাজ শুরু করে দিয়েছে
মোমের ছোট্ট প্রাসাদ তৈরির মাধ্যমে।
প্রতিটি কোঠারে একটা পোকা আর তার বড়ো হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার থাকবে।
ওর ছোট্ট রাজ্য আকার ধারণ করছে।
বসন্তে গ্রীষ্মের দিকে ঢলতে শুরু করলে
কিছু বিদেশি ভ্রমণকারীর আগমন ঘটে।
ইউরোপীয় মৌমাছি-খাদক আফ্রিকা থেকে ৬০০০ কিলো পাড়ি দিয়ে আসে
পোকামাকড় বংশবৃদ্ধি শুরু করার সময়ে।
ওরা খেতে এসেছে
আর বংশবৃদ্ধির জন্য।
শীঘ্রই মৌমাছি-খাদকের দল অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।
গ্রীষ্মের শুরু, আর তৃণক্ষেত্র জীবনে পরিপূর্ণ হওয়ার দারপ্রান্তে।
এটাকে আগাছার ঝোপ মনে হতে পারে,
কিন্তু ক্ষুদ্র প্রাণিদের নিকট,
এটা খাবারে পরিপূর্ণ এক সবুজ জঙ্গল।
ক্ষুদ্র প্রাণির দল হাজির হয় জঙ্গলে খাওয়ার জন্য।
আর দানবীয় শিকারিরা তাদের খাওয়ার জন্য।
নতুন জন্ম নেওয়া মেন্টিস।
ভাতের কণার সমান আকার।
মাত্র কয়েক সপ্তাহে
ও বড়ো হয়,
No comments yet. Be the first to leave one.