The first 124 lines.
পৃথিবী নামক গ্রহটি এতসব দর্শনীয় জিনিসে ভরপুর,
যে জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসগুলো সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়।
কিন্তু কাছ থেকে তাকান...
দেখবেন এখানে রয়ে গেছে পুরো এক অনাবিষ্কৃত জগৎ।
এমন এক দুনিয়া যেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হিরো...
আর ছোট্টো ছোট্টো দানবদের...
অসাধারণ সুপারপাওয়ারের প্রয়োজন হয়...
দানবীয় প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকার জন্য।
:.:.: TINY WORLD :.:.: SEASON 02 EPISODE 04
১৫০ মিলিয়ন বছর ধরে,
মাদাগাস্কার দ্বীপ ধীরে ধীরে নিজের অনন্য গতিপথে যাত্রা করে চলছে।
আর এই হারানো দুনিয়ার প্রাণীগুলো
অদ্ভুত এবং চমৎকার সব পন্থায় বিবর্তিত হয়ে চলছে।
এই মূল্যবান রেইন ফরেস্ট অনেক অসাধারণ প্রাণীর আবাসস্থল...
যাদেরকে পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।
সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রাণীরাই...
আসলে সবচেয়ে বিস্ময়কর।
একটি ক্ষুদ্র টেনরেক।
এতদিন পর্যন্ত, তাকে পথ দেখানোর জন্য তার মা ছিল।
কিন্তু মাত্র চার সপ্তাহ বয়স...
আর মাত্র ৪ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য নিয়েই...
এবার তার নিজের পথ নিজে বেছে নেওয়ার পালা।
এই রহস্যময় বনে,
প্রাণীরা সুসজ্জিত নানা ধরণের গোপন অস্ত্র...
বিশেষ দক্ষতা...
আর চতুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা।
এখানে টিকে থাকতে হলে,
ক্ষুদ্র টেনরেকটিকে নিজের সুপারপাওয়ার আবিষ্কার করতে হবে।
"RAINFOREST (রেইন ফরেস্ট)" অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
এই সময়ে একা একা বের হওয়া কঠিন ব্যাপার।
এ বছর বৃষ্টি বিলম্বিত হয়েছে।
বন শুষ্ক।
খাদ্য অপ্রতুল।
আর খাদ্য খুঁজতে যত বেশি সময় প্রাণীরা ব্যয় করবে...
তত তাদের ধরা পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।
গেছো বোয়া ঘাপটি মেরে বসে আছে।
মাংসাশী ফসা বনের ভেতর চষে বেড়াচ্ছে।
ক্ষুদ্র প্রাণীদের অবশ্যই ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে হবে...
আর অদৃশ্য হয়ে থাকার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
এই প্রাণান্তকর লুকোচুরি খেলা এক বিবর্তনমূলক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে।
মারাত্মক সব বিপদের সাথে লড়াইয়ের জন্য...
আরও মারাত্মক সব ছদ্মবেশ।
এখানে এমন সব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন শিকারী রয়েছে...
যারা সবচেয়ে ক্যামোফ্লেজড প্রাণীটিকেও শনাক্ত করতে পারে।
একটি চিতা গিরগিটি।
আমাদের তুলনায় পাঁচগুণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি...
আর প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি দেখার ক্ষমতা থাকায়...
খুব বেশি জিনিস তার দৃষ্টি এড়ায় না।
দেখতে মরা পাতার মতো হলেও...
এটি আসলে একটি ঘোস্ট ম্যান্টিস।
গিরগিটির দৃষ্টিশক্তি নড়াচড়ার সাথে সম্পর্কিত।
ম্যান্টিসটি যদি স্থির থাকতে পারে, সে হয়তো বেঁচে যাবে।
কিন্তু তারও খাবার খাওয়া দরকার।
গিরগিটি টার্গেট লক করে...
তারপর তার মারণঘাতী অস্ত্রটি ব্যবহার করে।
শূন্যথেকে ৬০ মাত্র এক সেকেন্ডের ২০ ভাগের এক ভাগ সময়ে।
কিছু কিছু পতঙ্গ নিঃশব্দচারী চিতা গিরগিটির ঝুঁকি থেকে নিরাপদ।
আর কিছু লিজার্ড হেলমেট ভ্যাঙ্গা থেকে নিরাপদ...
...বিশেষত যখন সে দুজনের জন্য শিকারে ব্যস্ত।
টেনরেক তার বাচ্চাদের খাওয়ার উপযোগী না।
কিন্তু পাতা-লেজি গেকো একটা ভোজের সুযোগ নিতে প্রস্তুত।
যদি সে এটা ধরতে পারে।
এই নিপুণ ছোট্টো লিজার্ড বনের অন্যতম দক্ষ এস্কেপ আর্টিস্ট।
তার ত্বকের রঙ আর ঠিক উপযুক্ত রঙের
ডাল বাছাই করে...
সে এক অদৃশ্য আলখাল্লার মালিক বনে যায়।
মাদাগাস্কারের বনে লুকিয়ে আছে
এই গ্রহের সবচেয়ে বিস্ময়কর ধরণের রহস্যময় কিছু প্রাণী।
কিন্তু এদেরকে খুঁজে পাওয়া কঠিন বলে...
নিজেদের একে অপরকে খুঁজে পাওয়াটাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
একটা পেপার ক্লিপের সমান আকারের,
এটি পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র গিরগিটি।
একটি পুরুষ পাতা গিরগিটি।
সঙ্গী খোঁজার মিশনে রয়েছে।
চারপাশে থাকা বিপদের মাঝে,
সে স্লো গেম খেলে...
...ধরা না পড়ার জন্য প্রতি কদমের মাঝে স্থির হয়ে যায়।
এই গিরগিটিগুলো খুঁজে পাওয়া এত কঠিন যে একটা স্ত্রী খুঁজে পেতে পুরুষদের রীতিমতো সুপারপাওয়ারের প্রয়োজন হয়।
সে এমন কিছু দেখতে পায় যা অন্যরা দেখতে পায় না।
স্ত্রীর দেহ থেকে নির্গত উজ্জ্বল দ্যুতি।
তার দেহ অতিবেগুনী রশ্মি প্রতিফলিত করে...
শুধু তার চোখের জন্য।
একটা স্ত্রী খুঁজে পাওয়াই কঠিন।
তার কাছাকাছি পৌঁছানোটা...
হবে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং।
নিজস্ব কোনো চমৎকার ক্যামোফ্লেজ না থাকায়...
টেনরেকরা মাটির তলায় লুকিয়ে থাকে।
তার ছোট্টো গর্ত বৃষ্টি আসার আগ পর্যন্ত নিরাপদ স্থান।
আর কিছুটা গৃহসজ্জা করে নিলে...
এতে একটা পরিবারও এঁটে যাবে।
মাদাগাস্কান সহস্রপদীরা লুকানোর ধার ধারে না।
তারা এত বেশি বিষাক্ত যে বেশিরভাগ শিকারী তাদের স্পর্শই করবে না।
তারা মুক্তভাবে রেইনফরেস্টে ঘুরে বেড়ায়।
বেশিরভাগ সময়।
সহস্রপদীর বিষ এই আকারের লেমুরের কোনো ক্ষতি করবে না।
কিন্তু তাদের লোমের আড়ালে লুকিয়ে থাকা
পরজীবীর হাত থেকে মুক্তি পেতে এটা দারুণ কার্যকর।
লেমুররা একটা অদ্ভুত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আবিষ্কার করেছে।
চটজলদি এক কামড়ে...
আরও বেশি বিষ মুক্ত হয়।
আর অল্প ডোজে...
এটা নেশার মতো কাজ করে।
প্রায় অনাহত অবস্থায়ই সহস্রপদীরা মুক্তি পেয়ে যায়।
কিন্তু গাছের ওপরে থাকা লেমুরগুলো...
বেশ কিছুক্ষণ আর নিচে নামবে না।
অন্ধকারের আড়ালে...
টেনরেক কৃমি খুঁজে বেড়ায়।
প্রতি রাতে সে প্রায় ৫০টার মতো কৃমি খায়।
তার দৃষ্টিশক্তি এত দুর্বল যে খাদ্য খোঁজার জন্য সে তার সংবেদী নাক ব্যবহার করে।
কিন্তু গেছো বোয়ার ঘ্রাণশক্তি আরও বেশি তীব্র।
বিভক্ত জিহবার সাহায্যে বাতাসের স্বাদ নেওয়ার মাধ্যমে এটি নিজের শিকারের অবস্থান শনাক্ত করে।
নাগাল পাওয়া মাত্র, এটি হিট-সিকিং মোডে সুইচ করে।
তার মুখের চারপাশে থাকা তাপ-সংবেদী গহ্বরগুলো আশেপাশে থাকা উষ্ণ রক্তের প্রাণী শনাক্ত করতে পারে।
ভয়ঙ্করতম শিকারীরও বাজে রাত আসে।
হয়তো আরেকটু ওপরে গেলে সে সফলতা পাবে।
কিন্তু টেনরেকের ভাগ্য ক্রমশ সুপ্রসন্ন হচ্ছে।
একটি পুরুষ।
মাত্র দুই মাস বয়সেই, টেনরেকরা সঙ্গী খুঁজে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।
এই ইঁদুর লেমুরের এর মাঝে বাচ্চাও রয়েছে।
পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র প্রাইমেট,
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গাছের গহ্বরে সে তাদেরকে নিরাপদে রাখে।
বাচ্চারা সবকিছুর জন্যই মায়ের ওপর নির্ভরশীল।
তাই তার যথাসম্ভব শক্তি প্রয়োজন।
আর এটা অর্জনের পন্থা তার জানা আছে।
No comments yet. Be the first to leave one.