The first 105 lines.
পৃথিবী নামক গ্রহটি এতসব দর্শনীয় জিনিসে ভরপুর,
যে জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসগুলো সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়।
কিন্তু কাছ থেকে তাকান...
দেখবেন এখানে রয়ে গেছে পুরো এক অনাবিষ্কৃত জগৎ।
এমন এক দুনিয়া যেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হিরো...
আর ছোট্টো ছোট্টো দানবদের...
অসাধারণ সুপারপাওয়ারের প্রয়োজন হয়...
দানবীয় প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকার জন্য।
:.:.: TINY WORLD :.:.: SEASON 02 EPISODE 06
ছোটো হওয়াটা মোটেও সহজ নয়...
দানবাকার প্রাণীদের এলাকায়।
সবসময় পদদলিত হতে হয়।
মাঝেমাঝে আরও বাজে।
কিন্তু কিছু কিছু স্থান রয়েছে যা বড়ো প্রাণীদের নাগালের বাইরে।
এমন স্থান যেখানে ক্ষুদ্র হওয়াটা আপনাকে সুবিধা প্রদান করবে।
প্রচন্ড গরম...
সম্পূর্ণ শুষ্ক...
বাতাসের ঝাপটা।
এই বালিয়াড়িগুলো এত বেশি প্রতিকূল...
যে কেবল যথেষ্ট বুদ্ধিমান...
আর যথেষ্ট ছোটোরাই...
টিকে থাকার আশা করতে পারে।
"DUNE (বালিয়াড়ি)" অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
এটা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিকূল ভূখণ্ডের মধ্যে অন্যতম।
নামিব মরুভূমির এই বালিয়াড়িগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ এবং পুরাতন,
আর এখনও বায়ুপ্রবাহের ফলে পরিবর্তিত হচ্ছে।
মাত্র ছয় মাসে, পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়।
কিন্তু কোনো না কোনোভাবে...
ক্ষুদ্র প্রাণীদেরকে এই বিশাল বালির সমুদ্রে নিজেদের পথ খুঁজে নিতে হবে।
নামাকুয়া গিরগিটি।
প্রায় আপনার হাতের সমান।
তাকে দেখে অন্যান্য প্রাণীদের মতো বালিয়াড়ি জীবনে অভিযোজিত বলে
মনে হয় না।
একটি শোভেল-স্নাউটেড লিজার্ড...
আকারে প্রায় এক-চতুর্থাংশ,
উত্তপ্ত বালির মধ্য দিয়ে সেকেন্ডে তিন মিটার দৌড়াতে সক্ষম।
আর গিরগিটি?
এতটা না।
এর পাগুলো ডালপালা আঁকড়ে ধরার উপযোগী।
বালু না।
কিন্তু এই অনুপযুক্ত যাযাবর বালিয়াড়িতে ঘুরে বেড়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ মিশনে।
একজন সঙ্গীর খোঁজে...
ওখানে কোথাও।
আকাশপথে মরু এলাকা পাড়ি দেওয়া অনেক বেশি সহজ।
স্যান্ডগ্রাউসরা বালিয়াড়ি জীবনে বেশ ভালোভাবেই অভিযোজিত।
কিন্তু এখানে পান করার মতো কিছু নেই।
তাই প্রতিদিন, এই ছোট্টো পাখিরা পানির খোঁজে এক অসাধারণ যাত্রা করে।
আশি কিলোমিটার দূরে...
তারা উপনীত হয় এক ভিন্ন দুনিয়ায়।
অন্যতম বিশালদেহী, ক্ষুধার্ত শিকারী।
এখানকার বাকি সব গ্রাউসের মতোই...
এই পুরুষটিকে পানি পান করতে হবে।
আর তাই সে অপেক্ষা করে।
চটজলদি এক চুমুকের জন্য যথেষ্ট সময়।
পুরুষটি ফিরে আসে তার আজীবনের সঙ্গীর কাছে, যে বালিয়াড়ির পাথরের মাঝে বাসা বেঁধেছে।
এই নিবেদিতপ্রাণ দম্পতি পালা করে ডিমে তা দেয়,
যাতে অন্যজন পানি পান করতে যেতে পারে।
কিন্তু জীবন আরও জটিল হতে চলেছে।
তাদের ডিম ফোটার সময় হয়ে গেছে।
আর সদ্যজাত বাচ্চাদের পানি দরকার হবে, তা নাহলে সূর্যের তাপে তারা মারা যাবে।
মধ্যদুপুরে, ঠাণ্ডা থাকা জীবন-মরণের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
এই বেলায়, গিরগিটির মানিয়ে নেওয়া সহজতর...
সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত করার জন্য সে নিজের ত্বকের রঙ সাদায় রূপান্তরিত করে।
কিন্তু শোভেল-স্নাউটেড লিজার্ড, সবসময়ের মতোই, এক ধাপ এগিয়ে...
তার চমৎকার চালের মাধ্যমে।
বালুর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
কিন্তু এক সেন্টিমিটার উর্ধ্বে, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি কম।
তাই তার বড়ো বড়ো পা উঁচু করে, সে দ্রুত তাপ ছেড়ে দিতে পারে।
পরিবেশ যখন অতিমাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে...
ওই বেলচা আকৃতির মুখ জীবন রক্ষাকারী হয়ে দাঁড়ায়।
মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নিচেই, তাপমাত্রা আরামদায়ক ৩০ ডিগ্রি।
এই মাকড়সা বোলতার তাপে কিছুই হয় না।
আর এর সংবেদী এন্টেনার সাহায্যে, সে বালুর নিচে লুকায়িত প্রাণী শনাক্ত করতে পারে।
আকারে একটা পেপার ক্লিপের চেয়ে বড়ো নয়,
সে নিজের শিকারকে মাটি খুঁড়ে বের করার জন্য দুই বালতির বেশি বালু সরায়।
একটা গোল্ডেন হুইল মাকড়সা।
বোলতার হুল পক্ষাঘাতগ্রস্থ করে ফেলবে।
মাকড়সার কামড় মারণঘাতী।
মরুর এই গ্ল্যাডিয়েটররা যখন লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, মাকড়সার জয় খুব কমই হয়।
কিন্তু এর...
চমৎকার এক পলায়নের কৌশল জানা আছে।
বোলতার দৃষ্টিসীমার বাহিরে।
আর বিপদের ঝুঁকি থেকে বাহিরে।
প্রায়।
মধ্যদুপুর...
বালিয়াড়ি এলাকা জনশূন্য।
বাতাসের তাপমাত্রা পৌঁছায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
সন্ধ্যার দিকে কেবল তাপমাত্রা কমে আসতে শুরু করে।
বালিয়াড়ির প্রান্তে এক দল তরুণ বেবুনের ঘুরে বেড়ানোর জন্য যথেষ্ট।
হাসিখুশি আর কৌতূহলী...
...কিন্তু কোনো অতিথি পছন্দ করে না।
ডেজার্ট রেইন ফ্রগরা নিশাচর।
ওদের জাগালে নিজেরই বিপদ।
আকারে কেবল একটা গলফ বলের সমান...
কিন্তু অ্যাটিচিউডে ভরপুর।
এখনও কিছুটা ঘুমিয়ে নেওয়ার সময় আছে
যতক্ষণ না দিনের প্রাণীরা চলে গিয়ে নাইট শিফটের জন্য জায়গা করে দেয়।
অন্ধকার নেমে আসার সাথে সাথে...
তাপমাত্রাও নেমে আসে।
মরুভূমি হয়ে যায় আরও ব্যস্ত।
আর কোলাহলপূর্ণ।
ক্লান্ত-শ্রান্তদের জন্য এক ঘুমপাড়ানি গান।
নিশাচর প্রাণীদের জন্য ঘুম ভাঙানোর সংকেত।
আর শিকারীদের জন্য খাবারের ঘণ্টা।
কালোপেঁচা বালিয়াড়ি চষে বেড়ায়, আর ছোটো ছোটো শিকারের শব্দ খুঁজে বেড়ায়।
No comments yet. Be the first to leave one.